fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পশ্চিম বর্ধমান জেলা সিএমওএইচ অফিসে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের বিক্ষোভ ও ধরনা

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: স্থায়ীকরণ ও বেতন কাঠামোর পুনর্বিন্যাস সহ ৫ দফা দাবিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশান্যাল হেল্থ মিশন জয়েন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাখার তরফে শুক্রবার আসানসোলের কল্যাণপুরে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বা সিএমওএইচ অফিসে একদিনের বিক্ষোভ ও ধরনা কর্মসূচি করা হয়। সেই বিক্ষোভ ধরনায় জেলার এনএইচএম ও এনইউএইচএমের অধীনে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা অংশ নেন। এই জেলায় এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পে ১ হাজারের মতো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছেন।

সংগঠনের জেলা সভাপতি অনিমেষ চন্দ ও সম্পাদক প্রকাশ দাসের নেতৃত্বে এদিন স্বাস্থ্য কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তারা একটি মিছিলও করেন।
সভাপতি বলেন, আমরা জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের একটা অংশ। ২০০৪ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ন্যাশালান রুরাল হেল্থ মিশন ( এনআরএইচএম) প্রকল্প শুরু করে। পরে পুর এলাকার জন্য ন্যাশানাল আরবান হেল্থ মিশন বা এনইউএইচএম গঠন করে তার আওতায় নিয়ে আসা হয়। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্যগুলি ছিল শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর, নারীস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, জল, পরিচ্ছন্নতা, প্রতিষেধক বা টিকাকরণ ও পুষ্টির মতো সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া।

এছাড়াও সংক্রামক , অসংক্রামক ও আঞ্চলিকভাবে প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন রোগের প্রতিষেধক ও নিয়ন্ত্রণ করা। এই লক্ষ্যগুলি পুরনের উদ্দেশ্যে মিশন কতগুলি কৌশল অবলম্বন করা হয়। তিনি আরও বলেন, এত বড় মিশনকে বাস্তবায়ন করতে জাতীয় থেকে ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর্মী , মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মী হিসাবে আমাদেরকে গ্রুপে নিয়োগে করা হয়। বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছি।

সম্পাদক বলন, ‘২০০৯ সালে সারা ভারতে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ২১২ ( প্রতি লক্ষ ) ও পশ্চিমবঙ্গে ১৪৫। ২০১৬ সালে ভারতে ১১৩ , পশ্চিমবঙ্গে ১০১। বর্তমানে এই সংখ্যাটা ১০০ – এর নীচে নেমে গেছে । ২০১১ সালে ভারতে নবজাতক মৃত্যুর হার ছিল ৪৩ ( প্রতি হাজারে ) , পশ্চিমবঙ্গে ৩২। ২০১৭ সালে ভারতে ৩১.৪ ও পশ্চিমবঙ্গে ২৪ জন। বর্তমানে তা আরও কমে গেছে।
এই তথ্য পরিসংখ্যান দেখেই বোঝা যায় এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা ও সাধারণ মানুষের সহযোগীতার ফলে শুধুমাত্র মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নয় , স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে। এইভাবে পরিষেবা দেওয়ার পরেও আমরা অবহেলিত। বর্তমানে আমরা বেশ কয়েকটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। আমাদের অধিকাংশ কর্মী বন্ধুর বেতন ৭৫০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। উর্ধ্বমুখী বাজার দরে তা দিয়ে সংসার চালানো দুঃসাধ্য। স্থায়ীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পরিষেবা দিতে থাকলেও আমরা এখানে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে রয়েছি।

আরও পড়ুন: হিন্দু মেয়েদের যৌনদাসী বানাচ্ছে ইমরানের দেশ

সাম্প্রতিককালে স্থায়ী কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করলেও আমাদের প্রতি কারোর কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। চাকুরিত অবস্থায় আমাদের কারো মৃত্যু হলে পরিবারকে কোনকিছু দেওয়া হয় না। এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা একাধিবার ব্লক স্তর থেকে রাজ্যস্তরের বিভিন্ন আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আলোচনা করেছি। তাদের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সহকারে বিবেচনা করার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমরা কোন সদুত্তর পাইনি ) তাই আমরা বাধ্য হয়ে ৫ দফা দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি পালন করে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে এসে ধরনায় বসেছি। সংগঠনের পক্ষে থেকে দাবি করা হয়েছে, যারা ডিউটিতে রয়েছেন, তারা সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আন্দোলনে যোগ দান করেননি।
প্রসঙ্গত, বর্তমান কেন্দ্র সরকার এই প্রকল্প দুটি ২০২১ সালের ৩১ মার্চ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close