fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘দেখুন এটা পুকুর নয় রাস্তা, উন্নয়নের জোয়ার’ … প্রশান্ত কিশোরের টিমকে ঘিরে বিক্ষোভ কেশপুরে

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: দেখুন এটা পুকুর নয় রাস্তা! বলে একটা রাস্তার মধ্যে এক কোমর ঢুকিয়ে মানুষ দেখালেন কী রকম উন্নয়নের হাল হচ্ছে গ্রামে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের সোনাপাতা এলাকায়। কেশপুরের গড় সোনাপাতা গ্রামের রাস্তায় এরকমই হতবাক করা দৃশ্য দেখিয়ে টিম প্রশান্ত কিশোরের তৈরি করা একটি দলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
তৃণমূল কংগ্রেসকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করানোর ৫০০ কোটির ঠিকাদার বা পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর নানাবিধ পদ্ধতি প্রকরণ গ্রহণ করছেন। কখনও দিদিকে বল তো কখনও বাংলার গর্ব মমতা, সব কর্মসূচীরই একটাই লক্ষ্য, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের আরও মানুষের কাছাকাছি যেতে বলা হয়েছে, যাতে মানুষের মনের ক্ষোভকে প্রশমিত করে ফের তৃণমূলের পালে হওয়া লাগানো যায়। প্রশান্ত কিশোরের এমনই এক নতুন সংযোজন ‘তপশিলী সংলাপ।’ এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল গ্রামের তপশিলী জাতি উপজাতি মানুষদের কাছে দলেরই একটি গোষ্ঠী যাবেন, তাঁদের অভাব অভিযোগ শুনবেন, অবস্থার ছবি তুলবেন এবং দলকে ফিরে এসে রিপোর্ট করবেন। ভবিষ্যতে দল সেই অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এই কর্মসূচীর জন্য নীল সাদা ডিজাইন করাএকটি গাড়ি, সেই গাড়িতে আঁকা দলের প্রতীক চিহ্ন। সামনে লেখা তপশিলি সংলাপ। সেই গাড়িকেই ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি গ্রামবাসীরাই ভিডিও করে সেই ভাইরাল নেট এ ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে হাতে হাতে মোবাইলে তা এখন নেট দুনিয়ায় অবাধে বিচরণ করছে। সূত্রে জানা গেছে ভিডিওটি গড়সোনাপাতা যাওয়ার মোরাম রাস্তায়। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বেশ কিছু মহিলা পুরুষ। তাঁরা বলছেন, “প্রশান্ত কিশোরকে কোটি কোটি টাকা না দিয়ে যদি গ্রামে টাকা দিতো তবে গ্রামের অনেক উন্নয়ন হতে পারত।” বলতে বলতেই দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যাক্তি রাস্তায় জল জমে থাকা একটি গর্তে নেমে বসে দেখিয়ে দেন কেমন উন্নয়নের হাল।

উত্তেজিত জনতা জানালেন, “আবাস যোজনার বাড়ি পেতে ২০ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে তাঁদের। মিশন বাংলার শৌচালয় পেতে ৮০০ টাকা দিতে হয়। ১০০দিনের কাজ করিয়ে টাকা দেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করায় তাঁদের কাজ থেকে বের করে দিয়ে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে কাজ করানো হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা সত্তরোর্ধ এক বৃদ্ধকে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে বলেছেন, এখনও এঁর বার্ধক্য ভাতা হয়নি কিন্তু তৃণমূল কর্মীদের বাবা-মা হলে অনায়াসে ভাতা হয়ে যায়।” উত্তেজিত জনতা স্থানীয় পঞ্চায়েতের এক সদস্যের নাম করেও ক্ষোভ উগরে দেন, স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান” শুকদেব দোলাই নামে তৃণমূলের ওই পঞ্চায়েত সদস্য ভোট না দিলে তাঁদের আঙুল কেটে নেবে বলে হুমকি দিয়েছেন। পুলিশ দিয়ে ভোট করিয়ে নেবারও হুমকি দিয়েছেন তিনি।” ক্ষুব্ধ জনতা বলে, “এই সব ছবি তুলে নিয়ে গিয়ে প্রশান্ত কিশোর আর মুখ্যমন্ত্রীকে দেখান।”

আরও পড়ুন: মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে উত্তরপ্রদেশে ফের তরুণীকে গণধর্ষণ

প্রথম দিকে দলটিকে এলাকা ছেড়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে জনতা। দলটি জানায় তাঁরা এই সমস্ত অভিযোগই শুনতে এসেছেন। কিন্তু পাল্টা জনতা জানিয়ে দেন সামনে ভোট আসছে তাই এসব চালাকি শুরু হয়েছে। জনতা কথাই বলতে রাজি হয়নি। পরে তাঁদের অভাব অভিযোগ শুনে, রাস্তার ছবি তুলে বিষয়টি যথাযথ জায়গায় জানানো হবে বলে আশ্বাস দিয়ে শেষমেষ কোনও রকমে এলাকা ছাড়েন ‘তপশিলি সংলাপ’ ব্যানারের এই বিশেষ দলটি।

Related Articles

Back to top button
Close