fbpx
হেডলাইন

জগন্নাথ সরকারকে প্রশাসনিক হেনস্থার প্রতিবাদে শান্তিপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস, কল্যাণী: আমি আদরের ঘরের দুলাল নই, আমি একজন সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। মাঠে জমি চাষ করে, মজুর খেটে পয়সা উপার্জন করে সেই পয়সায় লেখাপড়া শিখেছি। কঠিন সংগ্ৰাম করে নিজেকে তিলে তিলে তৈরি করেছি। আমি একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সর্বোপরি অগনিত মানুষের আশির্বাদে বর্তমানে সাংসদ। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের একনিষ্ঠ কর্মী আমি। মানুষ কে কিভাবে সম্মান প্রদর্শন সহ সেবাধর্ম পালন করতে হয়, সে বিষয়ে যথেষ্ট ধারনা রাখি আমি। আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না, নবান্নের চমকে ধমকে আমাকে রোখা যাবে না, আমার গতিবিধিকে স্তব্ধ করতে হলে, আদালত থেকে আদেশনামা নিয়ে আসতে হবে। আদালত থেকে আমার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের প্রতিলিপি নিয়ে আসুন, আমি বাড়ির বাইরে পা ফেলবো না। কথা দিচ্ছি ১৪ দিনই আমি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবো। অন্যথায় কোন অবস্থাতেই আমাকে রোখা যাবেনা। আপনাদের কোন নির্দেশই আমি মানবো না, বক্তা সাংসদ জগন্নাথ সরকার।

উদ্দেশ্য করে, শান্তিপুর থানায় কর্তব্যরত পুলিশকর্তা। যিনি জগন্নাথ বাবু কে, দিনের সমস্ত কর্মসূচি বাতিলের আবেদন সহ বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করতে এসেছিলেন। এবং এর পরও তিনি আগামীর প্রত্যেকটি পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচীতে অংশ নেবেন বলে খুব দৃঢ়তার সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ কর্তা কে জানিয়ে দেন এবং প্রতিদিন ই পূর্ব ঘোষিত একের পর এক কর্মসূচিতে যোগদান এবং রুটিন মাফিক পুলিশি বাধা,এ ভাবেই চলছে বিচিত্রময় দৈনিক দিনলিপি। ঘটনা থেকে ১৪ দিন হতে আর মাত্র ৩ দিন বাকি। গত ২৬ শে মে থেকে আজকের দিন পর্যন্ত অর্থাৎ ১১ দিনের এই দীর্ঘ টানাপোড়েনে যে সমস্ত ঘটনা জনসমক্ষে উঠে এলো।

প্রথম ঘটনা, ২৬ শে মে সাংসদের ই এলাকাধীন নবদ্বীপ চর মাজদিয়া কার্গিল নগর কোরায়ারেন্টাইন সেন্টার পরিদর্শন, এবং সরকারী যাবতীয় নির্দেশাবলী সহ সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনেই পরিযায়ী শ্রমিকদের অভাব অভিযোগ শুনে তাদের পাশে থাকার বার্তা এবং ওখান থেকে চলে আসা,ঐ একই দিনে, সদলবলে একই সেন্টার পরিদর্শনে যান, নবদ্বীপ পৌরসভার চেয়ার পার্সন তৃণমূলের বিনয় কৃষ্ণ সাহা,-মজার বিষয়,ঐ রাতেই জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে পুলিশ কে সঙ্গে নিয়ে, পরিযায়ী শ্রমিকদের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত হতে পারেন,এই অভিযোগ এনে সাংসদ কে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার বার্তা দিয়ে নোটিশ ধরানো হয়। ঐ একই ঘটনায় কিন্তু কোন নোটিশ ধরানো হয় না নবদ্বীপের তৃণমূল পৌর চেয়ার পার্সন বিনয় কৃষ্ণ সাহা কে। ঘটনায় বিস্মৃত জগন্নাথ বাবু,অবাক এলাকাবাসী।প্রশ্ন,এক ই যাত্রায় পৃথক ফল কেন?

আরও পড়ুন: সবুজ শূণ্যতা পূরণ, বজ্ররোধে রোপিত হবে ১৭ লক্ষ নারকেল গাছ

দ্বিতীয় ঘটনা, ঘটনার দিনই সাংসদের বাড়িতে নোটিশ এবং তখন সময় মধ্য রাত পেরিয়ে শেষ রাত্রি অর্থাৎ রাত ৩ টের সময়। এই অসময়ে একজন ভদ্রলোকের বাড়িতে পুলিশ কেন? সাংসদ জগন্নাথ বাবুর প্রশ্ন, তিনি একজন সাংসদ, দেশের সর্বোচ্চ সংসদ কক্ষের সদস্য তিনি,তার সঙ্গে এধরনের আচরণ?তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন কি ধরনের ব্যাবহার করে থাকেন। আমি কি ক্রিমিনাল? মধ্য কেন,শেষ রাত্রে আচমকা ,কোন ইনফরমেশন ছাড়াই পুলিশ কে হানা দিতে হবে? ঘটনায় আমার স্ত্রী,পুত্র,কন্যা আতঙ্কিত, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে।সভ্য সমাজ ব্যবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ কে বাদ দিয়ে, ভূ ভারতে এ রকম ঘটনা ঘটে কি?প্রশ্ন সাংসদ জগন্নাথ সরকারের।

তৃতীয় ঘটনা, ঘটনার পর নদীয়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অপরেশন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিষয় টি জানতে চেয়ে একাধিক বার ফোনে চেষ্টা করা সত্বেও তিনি ফোন ধরেন নি। রাজ্যের একজন অধস্তন কর্মচারী র এহেন অসৌজন্যমূলক আচরণে ব্যাথিত জগন্নাথ বাবু।

চতুর্থ ঘটনা, পরদিন তিনি নিজেই যখন সশরীরে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে, জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকের মুখোমুখি হ ওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করতেই, আবার পুলিশি বাধা, বাড়ির বাইরে না বেরনোর অনুরোধ এবং বচসা।

পঞ্চম ঘটনা, নিজের চক্ষু পরীক্ষার জন্য স্থানীয় শান্তিপুর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলে আবার পুলিশি বাধা,বাইরে না বেরনোর অনুরোধ এবং বচসা।

ষষ্ট ঘটনা, পূরবের ঘোষিত,চাকদাহ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি তে অংশ গ্ৰহনের ক্ষেত্রে বাধা এবংঐ একই অভিযোগ, বাড়ির বাইরে বেরনো নিষেধ।

সপ্তম ঘটনা, কল্যানী এইমস এ ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন মূলক বিষয়ে আলোচনা।পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচীতে অংগ্ৰহনের ক্ষেত্রে বাধাদান এবং সময় নষ্ট করা। আমার গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি সহ আমাকে বিড়ম্বনায় রাখতে বাড়ির সামনেই পুলিশ টিকেট বসানো হয়েছে।

অষ্টম ঘটনা,  স্ত্রীর হঠাৎ পায়ের একটু সমস্যা দেখা দেওয়ায়,তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ায় প্রস্তুতি, সেখানে ও আমাকে সঙ্গে যেতে বাধাদান।

নবম ঘটনা, আমার নিজের পুকুরের মাছ দেখতে যাবো, সেখানে ও বাধা!হঠাৎ জানতে পারলাম পুকুরে কিছু মাছ মরে ভেসে উঠেছে, খবরটা পেয়েই খুব ভেঙ্গে পড়লাম,ভীষন কষ্ট হল, তড়িঘড়ি বাইক বের করে সঙ্গে একজন কে নিয়ে প্রকৃত কারন জানতে পুকুরে যাচ্ছি, সেখানে ও পুলিশি বাধা, ব্যক্তিগত কাজকর্ম ও এরা করতে দেবে না,এ যেন অঘোষিত কারফিউ আমার উপর। এবং এমনভাবে পেছন থেকে ওভারটেক করে আমার বাইককে আটকানো হল,যে হঠাৎ ব্রেক করায়, বাইকের ব্যালেন্স হারিয়ে পড়েই যাচ্ছিলাম।বড়ো দুঃঘটনার হাত থেকে সেদিন বেঁচে গেছি আমি।

দশম ঘটনা, ১০.ঘটনায় ক্ষিপ্ত এলাকার জনগণ। চরম অসন্তুষ্ট দলীয় নেতা সহকর্মী সমর্থকেরা।এই ঘটনার প্রতিবাদে দলীয় কর্মী সমর্থক দের থানা ঘেরাও কর্মসূচি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শান্তিপুর,চাকদা, কল্যাণী থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে দলীয় কর্মী, সমর্থক, এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ই প্রমান করে জগন্নাথ বাবুর জনপ্রিয়তা আজ কোন পর্যায়ে পৌছিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close