fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে বোরো ধান চাষিদের সমস্যা নিরসনে এগিয়ে এল নবান্ন

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: লকডাউন সত্ত্বেও বোরো ধান কাটার স্বার্থে নবান্নের নির্দেশে তুলে নেওয়া হল বিধিনিষেধ জানালেন কৃষি উপদেষ্টা।

প্রসঙ্গত, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে চরম বিপাকে পড়ে গিয়েছেন শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের বোরো চাষিরা। সপ্তাহকাল যাবৎ এক দুদিন অন্তরই হয়ে চলেছে ঝড়-বৃষ্টি। তার ফলে জল জমেছে জমিতে। জলে ভাসছে জমিতে কেটে ফেলে রাখা পাকা বোরো ধান।
এই অবস্থার মধ্যে বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার শ্রমিকও যেমন মিলছে না তেমনই মিলছে না হারভেস্টার মেশিন। এমন অবস্থার জন্য শস্যগোলার চাষিদের মাথায় হাত পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসে নবান্ন।

রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার শনিবার জানালেন, বোরো চাষিদের সমস্যা নিরসনে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষি দফতরের তরফে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তুলে নেওয়া হয়েছে বিধিনিষেধ।

চাষিদের এই সমস্যা প্রসঙ্গে রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার আরও জানান,“ বোরো ধান কাটা নিয়ে চাষিদের সমস্যায় পড়ায় বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই রাজ্যের প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।

প্রদীপবাবু এদিন বলেন, বিশেষ অনুমতি নিয়ে কৃষি শ্রমিকরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে বোরো ধান কাটার কাজ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে তাঁদের কাজ করতে হবে।

এ রাজ্যে ১২ লক্ষ হেক্টর জমিতে এবছর বরো ধান চাষ হয়েছে। কৃষি দফতরের হিসেবে, অনুযায়ী গোটা রাজ্যে ১৮ শতাংশ জমির ধান কাটা গিয়েছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা শুরু হয়েছে। সেই কারণে বাকি জমির ধান দ্রুত কাটা না গেলে ‘পাকা ধানে মই’ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমনিতেই রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থা চালানোর জন্যে প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ টন চালের প্রয়োজন হয়। কোনও সমস্যার কারণে চাষিরা বোরো ধান কাটতে না পারলে প্রয়োজনীয় চাল খাদ্য দফতরও সংগ্রহ করতে পারবে না। সেই সব কথা মাথায় রেখে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্স বোরো ধান কাটার জন্যে ভিন রাজ্য থেকে হারভেস্টর মেশিন চালক ও তাঁর সহকারি আনার বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে।”

কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “জেলার উপ-কৃষি অধিকর্তাদের সঙ্গে চাষিরা যোগাযোগ করলে তাঁরাই চাষিদের সর্বতভাবে সাহায্য করবেন। কৃষিমন্ত্রীর আশা প্রকাশ করেছেন, এ বছরও রাজ্যে বোরো চাষে ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোটা রাজ্যে তিন হাজারের মত ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টর’ যন্ত্র রয়েছে। বোরো ধান সময়ে তুলতে আরও হাজার খানেক যন্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্যের ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা ওই যন্ত্র চালানোর জন্যে ওই সব যন্ত্রের মালিকদের পঞ্জাব, হরিয়ানা কিংবা দক্ষিণ ভারত থেকে ‘যন্ত্রী’ আনতে হয়। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে আর কোনও সমস্যা এখন থাকল না।

জেলাশাসক বিজয় ভারতী এদিন জানান, “হারভেস্টর যন্ত্র বা তার চালকদের ভিন রাজ্য থেকে আনতে গিয়ে কোনও সমস্যা তৈরি হলে জেলাপ্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

Related Articles

Back to top button
Close