fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

রাষ্ট্রসংঘের বিরোধিতার পরও ১৬৪২ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে দ্বীপে স্থানান্তর করল বাংলাদেশ

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা:  রাষ্ট্রসংঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিরোধিতার মধ্যেই ১৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরের নতুন গুচ্ছগ্রামে পাঠিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। শুক্রবার কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে স্থানান্তরের প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল দেশটির নোয়াখালীর ভাসানচর দ্বীপে পৌঁছয়। বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের বাসে করে চট্টগ্রামে এবং শুক্রবার সাতটি জাহাজ তাদের ভাসানচরে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের পরিকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসান চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় হাসিনা সরকার।

মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে আগেই ভাসানচরে নিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দলকে দেখার জন্য ভাসান চরে পাঠানো হয়। তারা ফেরার পর তাদের কথা শুনে রোহিঙ্গাদের একাংশ ভাসান চরে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলে জানানো হয় সরকারি আধিকারিকদের কাছ থেকে।
তবে রাষ্ট্রসংঘ শরণার্থী সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সরকারের এই উদ্যোগ থেকে দূরত্ব রেখে চলেছে।

বুধবার এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রসংঘ বলেছে, রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে নেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছে, তার সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। ভাসান চরে যাওয়ার ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা যেন সব তথ্য জেনে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

সেখানে বলা হয়, “এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে, অথবা শরণার্থীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রসংঘকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। স্থানান্তরের সার্বিক কর্মকা- সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।”

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close