fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শব্দজব্দ হলেও বাজি পোড়ানো বন্ধ হল না কলকাতায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা মহামারী সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে চলতি বছরে বাজি না ফাটাতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি চলতি বছরে কালীপুজো থেকে ছট পুজো পর্যন্ত বাজি না ফাটাতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

শহরের কোথাও যাতে বাজি বিক্রি বা ফাটানো না হয় তার জন্য ক্রমাগত ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশও। তার ফলাফলে চলতি বছরে শব্দদানবকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হলেও বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হল না কলকাতায়, এমনটাই পর্যবেক্ষণ পুলিশ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এর আধিকারিকদের।

পুলিশ বাজিতপুর থেকে ক্রমাগত প্রচারাভিযান এবং পাড়ায় পাড়ায় মাইকিং চালিয়ে গেলেও একশ্রেণীর মানুষ তাকে আমল দিতে চাননি। বাইক নিয়ে এবার অতিরিক্ত করাকরি থাকায় সাধারণ বাজি সংগ্রহ করা মানুষের পক্ষে খুব একটা সহজ হয়নি। শহরের কোথাও এবার বসেনি বাজি বাজার।

এমনকি শহরের সমস্ত বড় বড় বাজি বিক্রির জায়গা গুলি পর্যন্ত বন্ধ। প্রত্যেক ডিভিশন থেকে শুরু করে থানা এমনকি কমিশনারেট এলাকাগুলিতে সমস্ত বাজি বিক্রি জায়গাগুলিতে ক্রমাগত তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। নিষিদ্ধ বাজি তো দূরের কথা সাধারণ বাজি দেখলেও আটক করা হয়েছে। কোথাও বাজি ফাটার খবর পেলেই হানা দিয়েছেন পুলিশ অফিসাররা। সব মিলিয়ে বাজি বিক্রি এবং ফাটানো চলতি বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে।

রাতের দিকে শহরের আনাচে কানাচে শব্দবাজির আওয়াজ কানে এলেও অন্যবারের তুলনায় তা ছিল সামান্য। শহরের যে যে এলাকায় বাজি সাধারণত বেশি ফাটে, তা অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটাই কম। পুলিশের দাবি, আগে যে পরিমাণ শব্দবাজি ফাটত এবং বাজির ধোঁয়া হত, বেশ কয়েক বছর প্রচার চালিয়ে তা অনেকটাই কমে গিয়েছে।

দূষণের মাত্রা অবশ্য শনিবার এবং রবিবার রবীন্দ্রভারতী, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে ছিল একটু বেশি। কিন্তু বাকি জায়গাগুলোতে অন্য বারের কালীপুজোর বিচারে বেশ কম। বাতাসে দূষণের মাত্রা মাপার জন্য শহরের একাধিক জায়গায় যন্ত্র বসানো হয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে, সেখানেই উঠেছে দূষণের মাত্রা।

এবছর কালীপুজোর দিন দূষণের মাত্রা উঠেছে বালিগঞ্জে ১১৪, যেখানে গত বছর ছিল ২০৫, ফোর্ট উইলিয়ামে ১১৮, গত বছর যেখানে ছিল ১৩৯, যাদবপুরে ১০৯, গত বছর ছিল ১৯০, রবীন্দ্রভারতীতে ২২২, গতবার সেখানে অবশ্য একটু কম ছিল ১৮৭, তার আগের বার অবশ্য ছিল ৩২০, রবীন্দ্র সরোবর ৯৬ গতবার ১৪৭, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ১০৭, তা অবশ্য গতবার ৯৮ ছিল। তাছাড়া বেহালা, ডানলপ, মিন্টো পার্ক, মৌলালিতে গত দু’বছর আগে দূষণের মাত্রা ছিল ৩০০ থেকে ৪০০-র কাছাকাছি।

নিয়ম অনুযায়ী দূষণের মাত্রা ০-৫০ রেঞ্জে যদি থাকে তবে তা ভাল। ৫১-১০০ হল সন্তোষজনক, ১০১-২০০ মাঝামাঝি, ২০১ থেকে ৩০০ খারাপ, ৩০১ থেকে ৪০০ খুব খারাপ, ৪০১-৫০০ অত্যন্ত খারাপ। এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই অবশ্য মাত্রা ১০০ থেকে ১৫০র মধ্যে রয়েছে। যা নিঃসন্দেহে ভালো লক্ষণ বলে মেনে নিয়েছেন রাজ্য দূষণ

নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ডা. কল্যাণ রুদ্র। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘সারা বছর লেদার কমপ্লেক্সে চামড়া পোড়ানো হত, তা বন্ধ করা গিয়েছে। শহরে পুরনো গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গিয়েছে। বিগত কয়েক বছরে প্রচুর চওড়া পাতার গাছ লাগানো হয়েছে। এর সঙ্গে আতশবাজির ধোয়া আরো অনুঘটকের কাজ করতো। তবে চলতি বছরে মানুষের সচেতনতা যে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে।’

পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তর কথায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় শহরে এ বছর ৮০ শতাংশ কম বাজি ফেটেছে। শব্দ দূষণ এবং বায়ু দূষণ  করোনা মহামারীর আতঙ্কের কারণে হোক অথবা যে কোন কারনেই এবার অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই কম। তবে বাজি পোড়ানো বন্ধ রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল পুলিশ, সব ক্ষেত্রে তা সফল হয়নি। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই ঠেকানো গিয়েছে।

আগামী ছটপূজা থেকে শুরু করে জগদ্ধাত্রী পুজোয় ট্রেন্ড বজায় থাকলে তবেই সার্বিকভাবে কলকাতার পরিবেশের লাভ হবে বলে মত পরিবেশবিদদের।

Related Articles

Back to top button
Close