fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছটপুজো করতে চেয়ে রবীন্দ্র সরোবরে বিক্ষোভ দেখালেন ভক্তেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গতবারের চেনা ছবি এবারেও দেখা গেল রবীন্দ্র সরোবরে। ইতি মধ্যেই সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ রবিন্দ্র সরোবর বা সুভাষ সরোবরে ছট উজ্জাপন করা যবেনা। তা সত্ত্বেও ছটপুজো করতে চেয়ে সকাল সকাল রবীন্দ্র সরোবরে বাইরে বিক্ষোভ দেখালেন ভক্তেরা। যদিও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িক ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে।
জাতীয় পরিবেশ আদালত এবং কলকাতা হাইকোর্টের পাশাপাশি শীর্ষ আদালতও রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু সেই নিশেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে শুক্রবার সকালে পুজোর উপকরণ নিয়ে একদল ভক্ত রবীন্দ্র সরোবরে ঢুকতে যান। রবীন্দ্র সরোবরের ১, ২ এবং ৩ নম্বর গেটে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশ ভক্তদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়ায় তাঁরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কিছু ক্ষণ পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটিও চলে। ভক্তদের অবশ্য দাবি, চার ঘণ্টার জন্য ছট পুজো করলে পরিবেশের কোনও ক্ষতি হবে না। তবে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এনেছে পুলিশ।
জাতীয় পরিবেশ আদালতের রায় বহাল রেখে এবার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করা যাবে না, তা বৃহস্পতিবারই জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো করার জন্য শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল  কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের বেঞ্চ।এদিকে সুভাষ সরোবরেও  ছটপুজোর উপরে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্টও।
আদালতের রায়ের পরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। সকাল থেকেই রবীন্দ্র ও সুভাষ দুটি সরোবর চত্বরেই মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। গত ১৯ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাতভ্রমণকারীদের ভ্রমণের ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গাড়ি অথবা লোকজনের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ।  জাতীয় সরোবরের গোটা চত্বর ঘিরে ফেলা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেল হয়েছে গোটা রবীন্দ্র সরোবর চত্বর। টিন, বাঁশ দিয়ে ঘেরা হয়েছে গোটা সরোবর এলাকা।
গত বছর আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করেই রবীন্দ্র সরোবরের গেটের তালা ভেঙে  ঢুকে পড়েছিল একদল যুবক। তারপরেই চলে সেখানে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে ছটপুজো। সেবারও জল দূষণ রোধে ছট পুজো বন্ধ করার জন্য রবীন্দ্র সরোবরের চার পাশ ঘিরে ফেলা হয়েছিল কলকাতা পুরসভার পোস্টার, ব্যানারে। সেই সব পোস্টার, ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক কারণেই প্রশাসন পুণ্যার্থীদের আটকায়নি৷ এমনই অভিযোগ ছিল পরিবেশকর্মীদেরও৷ তাই এবার আগে ভাগেই সজাগ প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button
Close