fbpx
দেশহেডলাইন

বর্ষার মরশুমে কোনও ওয়াইড বডি বিমান নামবে না কোঝিকোড়ে: ডিজিসিএ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কোঝিকোড় দুর্ঘটনার চার দিন পরে দ্য ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) সিদ্ধান্ত নিল এই বিমানবন্দরে নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্ষার মরসুমে কোনও ওয়াইড বডি এয়ারক্রাফট অবতরণ করবে না। একই সঙ্গে দেশের যে সব বিমানবন্দরগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা গোটা বর্ষাকাল ঘিরে, তার অবস্থা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখবে ডিজিসিএ।গত শুক্রবার রাতে দুবাই থেকে ফিরে কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩৫ ফুট গভীর একটি খাদে গিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেস ফ্লাইট। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৮ জনের। টেবিলের মাথার মতো আকৃতির এই রানওয়েতে বিমান ওঠা-নামা সব সময়ই ঝুঁকির বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বৃষ্টি পড়লে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। শুক্রবার দুর্ঘটনার সময়ও অঝোরে বৃষ্টি পড়ছিল কোঝিকোড়ে।

কোঝিকোড় এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমান দুর্ঘটনার পরে চারদিন পেরিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এখনও হাসপাতালে লড়াই করছেন অনেকে। এই আবহে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত নানা তথ্য উঠে আসছে। এখনও ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা ডিকোড না করা গেলেও চলছে দড়ি টানাটানির খেলা। আঙুল উঠছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দিকেও। অভিজ্ঞমহল প্রশ্ন তুলছে, ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও কেন ফ্রিকশান টেস্ট হত না এই বিমানবন্দরে? জুলাইতেই অভিযোগ উঠেছিল কোঝিকোড় বিমানবন্দরের রানওয়েতে রবার জমে যাচ্ছে, সেই রবার কি পরিস্কার হয়েছে? এই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। অন্য দিকে আবার উঠে আসছে গতিবেগ তত্ত্ব। রানওয়েতে নামার সময়ে গতি বেশি থাকাতেই কি নিয়ন্ত্রণ হারালেন পাইলট, এই নিয়েও তুমুল জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে বর্ষার মরসুমে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ডিজিসিএ। যদিও এর মেয়াদ কতদিন তা জানানো হয়নি এখনও।

এই ঘটনার জেরেই এবার কোঝিকোড়ের এয়ারপোর্ট থেকে চওড়া বিমানের ওঠা-নামা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল ডিজিসিএ। আপাতত শুধু বর্ষার সময়টুকুর জন্য এই নিষেধজ্ঞা জারি করা হয়েছে। B747 এবং A350-র মতো বিমান ওয়াইড বডি এয়ারক্র্যাফট হিসেবে পরিচিত। এগুলির জ্বালানি ট্যাংক অনেকটাই চওড়া হওয়ায় বেশি দূর পাল্লার উড়ানের জন্য আদর্শ এই বিমানগুলি। অন্যদিকে সরু বিমানগুলির জ্বালানি ট্যাংক ছোট থাকে। কোঝিকোড় এয়ারপোর্টের ১০ নম্বর রানওয়ে ২৭০০ মিটার লম্বা। ২০১৯-এ এই এয়ারপোর্টে ওয়াইড বডি এয়ারক্র্যাফট-এর ওঠানামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ডিজিসিএ-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে মুম্বই ও চেন্নাইয়ের মতো এয়ারপোর্টগুলিরও অডিট করা হবে এবং বৃষ্টির মরশুমে সেগুলি বড় বিমান ওঠানামার জন্য কতটা উপযুক্ত তা খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন: “গত বছর ভারতরত্ন ৮ আগস্ট, এই বছর ১০ আগস্ট বাবা গুরুতর অসুস্থ”, আবেগঘন পোস্ট প্রনবকন্যার

দেশের ১০০টির বেশি বিমানবন্দরের দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। এর মধ্যে রয়েছে কোঝিকোড় বিমানবন্দরও। তবে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো বড় এয়ারপোর্টগুলি ব্যক্তিগত সংস্থা পরিচালনা করে। ভারতে চারটি বিমানবন্দরে টেবিলটপ রানওয়ে রয়েছে। এগুলি হল কোঝিকোড়, ম্যাঙ্গালোর (কর্ণাটক), সিমলা (হিমাচল প্রদেশ) এবং পাকিয়ং (সিকিম)। মিজোরামের লেংপুই বিমানবন্দরটিতেও একটি এই ধরনের রানওয়ে রয়েছে। এই ধরনের রানওয়েতে খুব কম জায়গা থাকায় বেশিরভাগ সময়ই বিমান অবতরণের বিষয়টি পাইলটদের কাছে খুব চ্যালেঞ্জের বিষয়। ঠিক যেমন কোঝিকড়ের ক্ষেত্রে হয়েছিল সেদিন। যার ফলে দক্ষ পাইলট থাকা সত্ত্বেও গত শুক্রবার রানওয়ে পিচ্ছিল থাকার কারণে অবতরণের শেষমুহুর্তে বিমানটি ভেঙে দু টুকরো হয়ে যায়।

Related Articles

Back to top button
Close