fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাইরাসে ছোবলে ইস্পাত নগরী, হাসপাতালেও বিক্ষোভ দুর্গাপুরে

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: রোগীর কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট আসার পরও দেরিতে জানানো হয়েছে। ওই তথ্য গোপনের অভিযোগে কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ রেখে হাসপাতাল সুপারের কাছে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রসুতি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা। মঙ্গলবার ঘটনাকে ঘিরে বিস্তর চাঞ্চল্য ছড়াল দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। রিপোর্ট পজেটিভ আসতেই তড়িঘড়ি প্রসুতি বিভাগ বন্ধ করে করে স্যানিটাইজ করা হল।

পাশাপাশি একই পরিবারের ১১ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ আসতেই দুর্গাপুর সেপকো টাউনশিপকে কন্টেনমেন্ট জোন করা হল। শুরু হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা।

ঘটনায় জানা গেছে, মঙ্গলবার দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের প্রসুতি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা কিছুক্ষনের জন্য কাজ বন্ধ রেখে সুপারের কাছে বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযোগ প্রসুতি বিভাগের এক রোগীর সন্দেহ হওয়ায় কোভিড-১৯ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সোমবার রাত্রে ওই রিপোর্ট পজেটিভ আসে বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ। কিন্তু তারপরও ওই ওয়ার্ডের চিকিৎসক নার্সদের জানানো হয়নি। এমনকি দ্রুত তাকে কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়নি। প্রসুতি বিভাগের চিকিৎকরা জানান,” রাত্রে মেল এসেছে। তারপরও ওই রোগী অস্ত্রোপ্রচার বিভাগ, সহ আরো বেশ কিছু জায়গায় ঘুরে ফেলেছেন। অথচ আমাদের জানানো হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সকালে মেইল জোর করে খুলে দেখতেই রিপোটের সত্যতা বেরিয়ে আসে।” বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ,” এখন ওইরকম একটি গুরুত্বপুর্ন ওয়ার্ডের সব চিকিৎসকের কোনোভাবে রিপোর্ট পজেটিভ আসায় কোয়ারেন্টাইন থাকতে হয়। তাহলে অচল হয়ে পড়বে গোটা বিভাগটি।”

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তখনও তথ্য গোপনের ও উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছিল হাসপাতাল সুপারের বিরুদ্ধে।

এদিকে খবর ছড়াতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাসপাতালে। যদিও হাসপাতাল সুপার দেবব্রত দাস জানান,” মেল খুলতে দেরি হওয়ায় সমস্যা। ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা সকলের চিহ্নিত করে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গোটা ওয়ার্ড স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। ওই ওয়ার্ডের রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আপাতত দুদিন বন্ধ থাকবে ওই ওয়ার্ড।” দুর্গাপুর মহকুমাশাসক অনির্বান কোলে জানান,”

বিষয়টি স্বাস্থ্যবিভাগকে তদন্ত করার জন্য বলা হয়েছে।” অন্যদিকে দুর্গাপুর সেপকো টাউনশিপ একই পরিবারের ১১ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। মঙ্গলবার রিপোর্ট পজেটিভ আসতেই ওই এলাকাটি কন্টেনমেন্ট জোন করে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। মহকুমাশাসক অনির্বান কোলে জানান,” সেপকো এলাকাটি কন্টেনমেন্ট জোন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close