fbpx
পশ্চিমবঙ্গ

কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত ধর্মতলা চত্বর

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ৩ জুলাই: জনবিরোধী নীতি, শ্রম আইন স্থগিত ও সংশোধন সহ ১২ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ধর্মতলা চত্বর।

জাতীয়তাবাদের নামে সরকারের শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী, জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলেছে এই অভিযোগে গত কয়েক মাস ধরেই সরব হয়েছে বাম সহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনগুলি। এবার শ্রম আইন স্থগিত ও সংশোধন, শ্রমিকদের ৮ ঘন্টার বেশি কাজ না করানো, লকডাউনের সময়ের বেতন বন্ধ বা না কাটার দাবি, পেট্রল ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি রোধ সহ ১২ দফা দাবিতে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন ও শিল্প ভিত্তিক ফেডারেশন সমূহ। সেই ডাকে কলকাতাতেও রানি রাসমণি রোডে বিক্ষোভ ও রাজভবন অভিযানের কর্মসূচি নেয় বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলি।

কিন্তু এদিন দুপুরে রানি রাসমণি রোডে বিক্ষোভকারীরা হাজির হতেই পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপরই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন সংগঠনের কর্মীরা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে তুলে নিয়ে যায় লালবাজারের। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখে পড়ে ছেড়ে দেয়।

এদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর রাজ্য সম্পাদক অনাদি শাহু বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচী করতে দেবে না তৃনমূল সরকার। আসলে উপরে ঝগড়া, তলায় তলায় ভাব। তাই আমাদের গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে আসা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে চরম সংকটে পড়েছে সাধারণ মানুষ। গত তিনমাসে করোনাভাইরাস, লকডাউনের কারণে দেশের ১৪ কোটি কর্মী কাজ হারিয়েছেন। দৈনিক মজুরির, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের ধরলে এই সংখ্যাটা ২৪ কোটি ছুঁয়ে ফেলবে। এই পরিস্থিতিতে জরুরিকালীন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে নিত্যনতুন আইন এবং নির্দেশ জারি করে মানুষকে আরও বিপাকে ফেলা হচ্ছে। কয়লা, রেল সহ সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছি। আর তার জন্য ওনার পুলিশ আমাদের গ্রেফতার করল। অথচ উনিও মুখে নাকি এই সবের বিরোধিতা করছেন। এটা কি ধরণের দ্বিচারিতা?’

এদিকে এই একই দাবিতে, এদিন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বরা। স্মারকলিপিতে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে, ভারতীয় রেল, প্রতিরক্ষা, বন্দর ও ডক, কয়লা, এয়ার ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক, বিমা বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করা হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ব্যবসা দখল করতে বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে সুবিধা করে দেবে বলে অভিযোগ করে।

Related Articles

Back to top button
Close