fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অসহায় বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে নিজেই খাবার তৈরি করে মুখে তুলে দিলেন ধুপগুড়ির বিধায়ক মিতালি রায়

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: লকডাউনের জেরে সংকটের ছায়া ছড়িয়েছে গোটা দেশেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় দারিদ্র্য মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সকলেই। দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছেন অনেকেই। এই অসহায় পরিস্থিতিতে অনেকেই দায়িত্বসহকারে পালন করছেন নিজের কর্তব্য এবং উদার মনে দান করছেন ত্রাণ সামগ্রী থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। তা কখনোই অস্বীকার করা যাবে না। ঠিক এই মুহুর্তে জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়িতে লক্ষ্য করা গেল একেবারেই ভিন্ন রকমের চিত্র। ধুপগুড়ির বিধায়ক মিতালি রায় শুধু দায়িত্ব আর কর্তব্য নয়, স্নেহ মায়া ও মমতার সঙ্গে মেটাচ্ছে মানুষের নিত্য প্রয়োজন। তিনি যেন এক ভালোবাসার ফেরিওয়ালা ।

জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের সাকোয়াঝোড়া ২ নং অঞ্চলের পূর্ব মল্লিকপাড়া গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধা নীলশ্বরী রায়কে নিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই দ্রুত খোঁজ নিতে যান ধূপগুড়ি বিধানসভার বিধায়ক মিতালী রায়। এদিন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপ্না রায় ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে নিয়ে বিধায়ক মিতালি রায় বৃদ্ধ মহিলার হাতে কিছু খাদ্য সামগ্রীও তুলে দেন। উল্লেখ্য যে, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নিজেও ব্যক্তিগত ভাবে ঐ বৃদ্ধাকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছেন। পাশাপাশি বৃদ্ধার প্রতিবেশীরাও সাধ্যমত সহযোগিতা করেন বলে জানা যায়।

আরও পড়ুন: পরিবারের বকুনি খেয়ে আত্মঘাতী নবম শ্রেণীর ছাত্রী

স্থানীয় সূত্রে খবর, পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে সহযোগিতা পেলেও বেশকিছু সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত রয়েছেন অসহায় বৃদ্ধা । এই খবর পেয়ে ধুপগুড়ির বিধায়ক মিতালী রায় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপ্না রায়কে নিয়ে ঐ বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন, রেশন কার্ড, আধার কার্ড বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিছুই নেই তাঁর । যে কারণে ৯০ বছরের নীলশ্বরী রায় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পান না ।

৯০ বছরের নীলশ্বরী রায়কে জিআর-এর আওতায় কিছু খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থাও করে দেন বিধায়ক। শুধু তাই নয় মা তুল্য বৃদ্ধাকে ছাতু গুলিয়ে নিজের হাতে খাওয়ালেন মিতালি দেবী । একজন আদর্শ নেতা যে জনগণের সাচ্চা সেবক তা আর একবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি ।

৯০ বছর বয়সের ভারে ন্যুব্জ ঐ প্রবীণা অথর্ব শরীর নিয়ে রান্না করতে পারেন না । সম্পর্কে আত্মীয় এক প্রতিবেশী মহিলা ঐ বৃদ্ধাকে রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন ।

বিধায়ক মিতালি রায় বলেন, “৯০ বছরের একজন বৃদ্ধার পক্ষে সবকিছু স্মরণ রাখা সম্ভব নয়, এমনকি মানসিক দিক থেকেও তিনি অসুস্থ । নিজেও রান্না করতে পারেন না । তাঁর পরিবারে কেউ না থাকায় সমস্যা আরও জটিল হয়েছে । স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তাঁকে দেখভাল করেন । আমার দ্বারা যতটুকু সম্ভব হবে আমি সহযোগিতা করব ।”

শুধু ধূপগুড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রেই নয়, এর বাইরেও গরিব, অসহায়, দুঃস্থ পরিবারের অসংখ্য মানুষকে তিনি সহাযোগিতা করেছেন । মানব দরদি বিধায়কের এই সরল সুলভ আচরণে হৃদয় ছুঁয়ে নিয়েছে এলাকাবাসীর।

Related Articles

Back to top button
Close