fbpx
কলকাতাহেডলাইন

পশ্চিমবঙ্গকে বৃদ্ধাশ্রম বানালেন দিদি: অগ্নিমিত্রা পল

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: দ্বিতীয় দফায় মোদি সরকারের বর্ষপূর্তির পাশাপাশি রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ৯ বছর পূর্তি হলো। এই ৯ বছরে বাংলা ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে বৃদ্ধাশ্রম বানিয়েছেন দিদি। বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ করলেন সদ্য বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল।  কেন পশ্চিমবঙ্গকে বৃদ্ধাশ্রম বলছেন? অগ্নিমিত্রার জবাব, ‘ গত ৯ বছরে রাজ্যে একটাও শিল্প আসেনি। রাজ্য পেয়েছে শুধু দুর্নীতির ত্রিফলা বাতি, নীল সাদা রং, সিন্ডিকেট রাজ, পিছনের দরজা দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ। আর তারই ফলশ্রুতিতে কাজের খোঁজে বাংলা ছেড়েছেন মানুষ, উচ্চ শিক্ষার জন্য মেধাবী ছাত্রীরা রাজ্য ছেড়েছেন। একলা রয়ে গিয়েছেন বৃদ্ধ বাবা, মায়েরা। এ রাজ্য বৃদ্ধাশ্রম ছাড়া আর কি!’

তিনি বলেন,’করোনা বেআব্রু করে দিয়েছে আমাদের রাজ্যের জীবিকার ছবিটা। বাংলার এতো পরিযায়ী শ্রমিক যে বাইরে রয়েছেন জানাই যেতো না। অথচ মাননীয়া এই দুঃসময়ে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে কি অমানবিক ব্যবহার করলেন। পরিযায়ী শব্দটাতে আমার অবশ্য আপত্তি রয়েছে। শ্রমিক কেন পরিযায়ী হবেন!’ মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ অনেক আশা করে মাননীয়াকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কিন্তু হাওয়াই চটি পরেও দিদি জনগণের নেত্রী হতে পারলেন না। তৃণমূল নেত্রী রয়ে গেলেন। উনি ভুলে গেলেন, উনি তৃণমূলের নন, সারা বাংলার মানুষের মুখ‌মন্ত্রী। শ্লোগান হিসাবে ‘ মা, মাটি, মানুষ’ শুনতে ভালো। কিন্তু উনি বাংলার মানুষের ‘ মা’ হতে পারলেন না। রাজ্যটাকেও মাটি করলেন।’

বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হিসাবে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানালেন অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, ‘ শুরুতেই দলের প্রত্যেক মহিলা সদস্যের সঙ্গে পরিচিত হতে চাই। একুশের মহাযুদ্ধের বেশি দেরি নেই। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে আমি চাই বাংলার প্রত্যেক মহিলাকে স্বনির্ভর করে তুলতে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কৌশল যোজনার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে মহিলাদের আর্থিক নির্ভরতা দেওয়া আমার অন‌তম উদ্দেশ্য। এছাড়াও আর একটা কাজ করতে চাই, গ্রামে গ্রামে ‘ স্বাস্থ্য মহল্লা’ গড়ে তুলতে। যার দায়িত্বে থাকবেন মহিলারাই।’

আরও পড়ুন: কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের আড়ালে দলকে দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, অভিযোগ অধীরের

অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা হলেও এরাজ্যে মহিলাদের উপর নির্যাতনের রেখাচিত্র ঊর্ধ্বমুখী। কামদুনি, পার্ক স্ট্রিট কাণ্ড খুব পুরনো নয়। পার্ক স্ট্রিটের নির্যাতিতা মৃত্যুর আগে বিচার পাননি। উল্টে দময়ন্তী সেনকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কামদুনিতে গিয়ে গ্রামবাসীদের শাসিয়ে এসেছিলেন। প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারাও যাতে আইনি সুবিধা সহজে পান সেই লক্ষ্যে জেলায় জেলায় আইনি সহায়তা কেন্দ্র গড়তে চাইছি। মহিলা আইনজীবীরা থাকবেন, পরামর্শ দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘ আমার দুই পূর্বসূরি রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও লকেট চট্টোপাধ্যায় মহিলা মোর্চার ভিত পোক্ত করে গিয়েছেন। ফলে আমার সুবিধাই হবে। আমি একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি, শিক্ষিত, মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা। মাঝের সময়টাতে নানা কারণে তরুণ প্রজন্মের, তাঁদের অভিভাবকদের রাজনীতি সম্পর্কে একটা বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে। আমি মনে করি মোদিজির সেবাব্রত, দেশপ্রেমের ছবিটা যদি এই প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারি তাহলে তাঁরা নিশ্চয়ই এগিয়ে আসবেন। আমি চাই একুশের মহারণে বাংলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তরুণ শক্তি বড়ো ভূমিকা নিক।’

Related Articles

Back to top button
Close