fbpx
কলকাতাদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উৎসবের মরশুমে ৩৯২ টি স্পেশাল ট্রেন, বাংলা পেল দিঘা, পুরীসহ ৬৬টি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় সাত মাস হয়ে গেল কোভিড আতঙ্কে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে সরে রয়েছে। সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। করোনাতঙ্ককে সঙ্গী করেই উত্‍সবে মাতছেন বঙ্গবাসী। ভ্রমন পিপাসু বাঙালি ভ্রমণ পিপাসুদেরওই সময় একটু মুক্তির স্বাদ পেতে যেতে চাইছেন কাছে পিঠে কোথাও। উত্‍‌সবের মরশুমে সুখবর দিল ভারতীয় রেল। ২০ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৩৯২টি উত্‍সব স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর কথা ঘোষণা করল দেশের বৃহত্তম গণপরিবহন সংস্থা। এর মধ্যে বাংলার জন্য রয়েছে দিঘা, পুরীসহ ৩২ জোড়া অর্থাৎ ৬৬টি ট্রেন।

রেলওয়ে বোর্ড জানিয়েছে, এই উৎসব স্পেশাল ট্রেনগুলি ঘণ্টায় ৫৫ কিমি গতিবেগে চলবে। বিশেষ ট্রেনগুলির হারেই এর ভাড়া প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ যাত্রীদের থেকে ‘বিশেষ চার্জ’ নেওয়া হবে। যাত্রীরা কোন শ্রেণিতে টিকিট কেটেছেন, তার ভিত্তিতে মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় ১০-৩০ শতাংশ বেশি ভাড়া ধার্য হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির টিকিটের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ‘বিশেষ চার্জ’ ধার্য করা হয়। বাকি শ্রেণির জন্য ‘বিশেষ চার্জ’ পড়ে ৩০ শতাংশ। রেলের প্রত্যেকটি জোনেই এই ট্রেন চলবে। সময়সারণি সে ভাবেই নির্দিষ্ট করা হবে। ‌দুর্গাপুজো, দশেরা, দিওয়ালি ও ছটপুজো, উত্‍‌সবের মরশুমে যাত্রীদের ভিড় থাকবে। সেই চাপ সামাল দিতেই উত্‍‌সব স্পেশ্যাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত। কলকাতা, পটনা, বারাণসী, লখনউয়ের মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি গন্তব্যে চলাচল করবে এই উৎসব স্পেশাল। রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, উত্‍‌সব স্পেশ্যাল ট্রেনগুলি ৩০ নভেম্বরের পর আর চলবে না।

পুজোয় বাংলা যে বিশেষ ট্রেনগুলি পেয়েছে সেগুলি ছাড়বে কলকাতা, হাওড়া, শিয়ালদা, সাঁতরাগাছি এবং নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে। বাংলার ৩৩ জোড়া উত্‍‌সব স্পেশ্যাল ট্রেনের মধ্যে রয়েছে শিয়ালদা-নিউ জলপাইগুড়ি (প্রতিদিন), শিয়ালদা -জয়নগর (প্রতিদিন), শিয়ালদা-নিউ আলিপুরদুয়ার (প্রতিদিন), হাওড়া-জম্মু-তাওয়াই (প্রতিদিন), হাওড়া-রাজেন্দ্রনগর টার্মিনাল (দানাপুর) (প্রতিদিন), হাওড়া-রক্সৌল জংশন (প্রতিদিন), কলকাতা-গোরখপুর (সপ্তাহে চার দিন), হাওড়া-কাঠগোদাম (প্রতিদিন), আজমেঢ়-শিয়ালদা(প্রতিদিন), উদয়পুর সিটি-নিউ জলপাইগুড়ি (প্রতিদিন), বিকানির জংশন-কলকাতা (প্রতিদিন), পুরী-হাওড়া (প্রতিদিন), সম্বলপুর-হাওড়া (সাপ্তাহিক), গুয়াহাটি-কলকাতা (সপ্তাহে তিন দিন), রাজেন্দ্রনগর টার্মিনাল-হাওড়া (প্রতিদিন), লোকমান্য তিলক টার্মিনাল-হাওড়া (সপ্তাহে দু’দিন), সাঁতরাগাছি-পুদুচেরি (সাপ্তাহিক),

আরও পড়ুন: বারোয়ারি দুর্গাপুজো বন্ধের দাবিতে মামলা দায়ের হাইকোর্টে

হাওড়া-এর্নাকুলাম (সাপ্তাহিক), সাঁতরাগাছি-পুণে (সাপ্তাহিক), সাঁতরাগাছি-পুরী (সাপ্তাহিক), হাওড়া-দিঘা (প্রতিদিন), রাঁচি-হাওড়া (প্রতিদিন), সাঁতরাগাছি-চেন্নাই (দ্বি-সাপ্তাহিক), টাটানগর-হাওড়া (প্রতিদিন), হাওড়া-পুরী (প্রতিদিন), শালিমার-গোরখপুর (নির্দিষ্ট দিনে), হাওড়া-যশবন্তপুর (প্রতিদিন), পোরবন্দর-হাওড়া (দ্বি-সাপ্তাহিক), গোরখপুর-কলকাতা (সপ্তাহে চারদিন বা দ্বি-সাপ্তাহিক), কন্যাকুমারী-হাওড়া (সাপ্তাহিক), ওখা-হাওড়া (সাপ্তাহিক), ত্রিবান্দম-শালিমার (দ্বি-সাপ্তাহিক), গোরখপুর-শালিমার (সাপ্তাহিক)। প্রসঙ্গত হাওড়া- দিঘা রুটে স্পেশাল ট্রেন চালানোর জন্য হোটেল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো রেলের কাছে দরবার করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁদের অনুরোধ মেনে নিল রেল। স্বস্তি ভ্রমণ প্রিয় বাঙালিদেরও। সাগরের ঢেউ গোনা শুরু এখন থেকেই।

 

Related Articles

Back to top button
Close