fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিঘার সমুদ্র সৈকতে ফণী’র ক্ষততে আমফান দিল প্রলেপ, খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা

মিলন পণ্ডা, দিঘা (পূর্ব মেদিনীপুর): পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সৈকত নগরী দিঘার উপর আছড়ে পড়ল দুটোই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। দুটোর প্রভাব পড়েছে সৈকত নগরী দিঘায়। তার প্রভাব একেবারে ভিন্ন ভিন্ন রূপে।

 

২০১৯ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসেছিল ফণী নামক ঘূর্ণিঝড়। এরপর চলতি বছরের মে মাসের ২০ তারিখে এলো আমফান। ফণী নামক সেই ঘূর্ণি ঝড়ের দাপটে দিঘার সৈকতে তৈরি হয়েছিল একাধিক ছোট বড় গর্ত। তার কোনওটা গোল, কোনটা লম্বা, আবার কোনওটা মানচিত্রের আকারের। সেখানে জল জমে ডোবার মতো দেখাচ্ছিল। ওল্ড ও নিউ দিঘার সৈকতের বেশকিছু ছোট ছোট অংশ সেইসময় ফণীর প্রভাবে বসে গিয়েছিল বলে এমন অবস্থা হয়েছিল। এর ফলে পর্যটকরা সেসময় বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিলেন।

 

 

পর্যটকরা তখন অভিযোগ করেছিলেন ভাটার সময় সেই গর্তগুলিতে জল জমে থাকে। বাকি উঁচু অংশ দেখে পর্যটকরা সহজে বুঝতে পারেন এবং সেই গর্ত এড়িয়ে সৈকতে ঘুরে বেড়ান। কিন্তু তখন জোয়ারের সময় ঘটছিল বিপত্তি। ফলে সমুদ্র স্নানে নেমে পর্যটকরা আর বুঝতে পারতেন না ,কোথায় নিচু অংশ রয়েছে, আবার কোথায় উঁচু অংশ। পরিস্থিতি সামলাতে সেই সময় রাজ্য সেচ দপ্তরের সহযোগিতায় দীঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ সৈকতের গর্তগুলোতে বালি ও ছোট ছোট বোল্ডার ফেলেছিলেন।

 

 

তবে এবার আম্ফান ঝড়ে দিঘা সৈকতে সেই রকম প্রভাব পড়েনি। বরং কিছুটা উল্টো প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এবার আম্ফানের যাওয়ার পর নিউ দিঘার সৈকত মেঝের মতো অনেকটা মসৃণ।
রাজ্যের অন্যতম আরও এক সমুদ্র বিজ্ঞানী আনন্দদেব মুখোপাধ্যায় বলেন, দুটি ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ এবং ঘূর্ণির চরিত্র আলাদা। তাছাড়া ভূমি, বায়ুমণ্ডল এবং সমুদ্র -এই তিনের মধ্যে ঝড়ের সময় কেমন প্রক্রিয়া চলছে, তার উপর সৈকতের প্রভাব নির্ভর করে। তাই এই দুই ঘূর্ণিঝড়ে দিঘা সৈকতে আলাদা আলাদা প্রভাব পড়েছে।

 

 

আবার অন্যদিকে দিঘার একোয়ারিয়ামের অন্যতম আধিকারিক ও সমুদ্র বিশেষজ্ঞ প্রসাদ চন্দ্র টুডু বলেন সমুদ্রের জলের মধ্যে একটা আলাদা কারেন্ট থাকে। আবার ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ও দিক এবং ল্যান্ডফলের জায়গার সঙ্গে সেই সমুদ্র কারেন্টের সামগ্রিক প্রক্রিয়া হয়। দুটো ঘূর্ণিঝড়ে এই প্রক্রিয়ার ফল আলাদা হওয়ায় দীঘার সৈকতে আলাদা আলাদা প্রভাব পড়েছে। বিজ্ঞানীরা যাই বলুক না কেন, ফনীর মতো এবার আম্ফানের দীঘার সৈকতের উঁচুনিচু , অসমান অবস্থা না হওয়ায় রীতিমতো খুশী স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related Articles

Back to top button
Close