fbpx
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: মির্জা

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা: বাংলাদেশে ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনার সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার ঢাকায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

মির্জা বলেন, “২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫৩ জন মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে্। মামলার অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাবেন, সরকারি দলের লুটেরাদের বিরুদ্ধে কথা বললে, রাজনৈতিক মত প্রকাশ করলে, সরকারের সমালোচনা করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হচ্ছে। “এমনকি যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তাদের কোনো দুর্নীতির কথা, তাদের কোনো বিবেকবর্জিত কীর্তিকলাপের কথাও যদি সোশ্যাল মিডিয়াতে অথবা প্রিন্টিং মিডিয়াতে প্রকাশ করে তাহলে সেই সাংবাদিক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার ভয়ে আজ জাতির কণ্ঠ রুদ্ধ। এটা জনগণের কণ্ঠরোধ করার জন্য সরকারের হাতিয়ার। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই আইন করেছে। “আমরা মনে করি, অবিলম্বে এই আইনটি বাতিল করা উচিতত এবং জনগণের চিন্তা-ভাবনা, তার স্বাধীনতার প্রকাশকে নিশ্চিত করতে হবে।” বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা জানেন যে, সাংবাদিকসহ সবাই এটা (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা করার পরেও ৯৪ শতাংশ মামলা হয়েছে এই বিতর্কিত এই আইনে। জারি হওয়ার দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিক্রিয়া বেশ লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠছেন। এটাও মনে রাখা দরকার যে, এই আইন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়।

“দেশে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। যখনই কোনো সরকার কর্তৃত্ব পরায়ন হয়ে উঠে, স্বৈরাচারী হয়ে উঠে, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র পরিণত করতে চায় তখনই প্রথম যে আঘাত হানে সংবাদ প্রকাশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এবং একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়াকে দমন করা। সেটাই এই সরকার অত্যন্ত পরিকর্পিতভাবে, অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে, সচেতনতার সঙ্গে করে চলেছে।”

২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ১২ জন সাংবাদিককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করার তথ্য তুলে ধরে ফখরুল বলেন, সংবাদপত্র, সম্পাদক পরিষদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের জন্য সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে পারছেন না। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই কালো আইন বাতিলের দাবি তুলেছে।

‘‘আমাদের অনেক প্রতিথযশা সম্পাদক যাদের বিরুদ্ধে এই আইন মামলা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতে গিয়ে জামিন নিতে হয়েছে।”ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে কোনো কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আপনারা জানেন যে, গত ৫ মাস ধরে কোভিড-১৯ এর কারণে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই কারণে এই মুহূর্তে এই ধরনের কোনো কর্মসূচি যেটা জনসমাবেশ থাকে সেটা আমরা আনিনি।

“তবে আপনি যেটা বলেছেন যে, সরকারকে চিঠি দেয়া, সরকারকে অবগত করানোর চেষ্টা করা- সেটা তো আমরা এর আগেও করেছি, এখনো আমরা করবো।” মানবাধিকার সংস্থাসমূহের তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২০ সালের ২২ জুন পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১০৮টি। এই সব মামলায় মোট আসামি ২০৪ জন। তাদের মধ্যে সাংবাদিক ৪৪ জন, আর অন্যান্য পেশায় কর্মরত ও সাধারণ মানুষ ১৬০ জন। এই হিসেবে প্রায় ২৫ ভাগ আসামিই হলেন সাংবাদিক।

এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৯, মার্চে ১৩, এপ্রিলে ২৪, মে‘তে ৩১ এবং জুনের ২২ তারিখ পর্যন্ত ২১টি মামলা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। ফখরুল বলেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই মামলা হয়েছে তার চেয়ে বেশি- ১০৮টি। তবে বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ। কারণ অনেক মামলার খবরই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয় না। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও তার খোঁজ পায় না। ফলে তাদের সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি।

Related Articles

Back to top button
Close