fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

করোনা সংকটে কোনও পরিযায়ী শ্রমিক না খেয়ে মারা যাননি, দাবি দিলীপ ঘোষের

ইন্দ্রানী দাশগুপ্ত ,নিউ দিল্লি:  এই করোনা সংকট কালের মধ্যে মোদিজীর রাজত্বকালে কোনও পরিযায়ী শ্রমিক না খেতে পেয়ে মারা যাননি বলে দাবি করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন যে, মোদি সরকার শ্রমিক দরদী। যাতে এই করোনা সংকটকালে কোনও পরিযায়ী শ্রমিক না খেতে পেয়ে মারা না যান তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।  বিনা পয়সায়  প্রতিমাসে ৫ কেজি চাল বা গম সহ রেশন  দেওয়া হয় পরিযায়ী শ্রমিকদের। এছাড়া পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়নের জন্য আরও বহু প্রকল্প গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের এখনও পর্যন্ত কতজন পরিযায়ী শ্রমিক আছেন তার সঠিক তথ্য কেন্দ্রকে পাঠাতে পারেনি তাই আমাদের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছেন।

সোমবারের পর মঙ্গলবার  পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে গরম হয়ে থাকে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতি। প্রথমে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং তারপরে পশ্চিমবঙ্গের সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে পরিযায়ী ইস্যুতে কটাক্ষ করে মোদি সরকারকে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন যে, কোন রাজ্যে কতজন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এলো সেটা কেন্দ্রকে জানানোর কর্তব্য রাজ্যের। আমার কাছে অন্তত এখনও পর্যন্ত  এমন কোনও খবর নেই যে  না খেতে পেয়ে কোন পরিযায়ী শ্রমিক মারা গেছেন।  হয়তো পথে যেতে যেতে  এক্সিডেন্ট এর ফলে কিছু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে যেটা অবশ্যই অত্যন্ত দুঃখের। আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের বার বার বলা সত্বেও সরকারি উদাসীনতায় পরিযায়ী শ্রমিকদের সঠিক তথ্য পাঠানো হয়নি ।

[আরও পড়ুন- পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ অভিষেকের]

তিনি বলেন প্রথমে তো পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজের রাজ্যে ফেরত নিতে চাননি।  মোদিজীর  উদ্যোগে  পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজ রাজ্যের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেটাকে করোনা স্পেশাল বলে পরিযায়ী শ্রমিকদের মারাত্মক অপমান করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন রাজ্যে আনার ব্যাপারে মারাত্মক অনীহা দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। পরবর্তীকালে যখন কেন্দ্র থেকে গরিব কল্যাণ যোজনা পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য লিস্টে পাঠানো হয় তাতেও গরিমশি শুরু করে রাজ্য সরকার। পরবর্তীকালে শুনেছি ৮ লক্ষ মানুষের একটা জিনিস তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে রাজ্য। কিন্তু ট্রেনের হিসাব দেখলে দেখা যাবে দেড় লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরে এসেছেন। তাহলে এই বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক সঠিক তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে আছে সেটা এখনও অজানা।

[আরও পড়ুন- রাস্তায় ট্যাক্সিচালকের হেনস্থার শিকার খোদ তৃণমূল সাংসদ, গ্রেফতার করল পুলিশ]

আর রাহুল গান্ধী বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে এই ধরনের কথাবার্তা কিছুই শোভা পায় না। যারা সঠিকভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার ব্যবস্থা করতে পারেন না যারা পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যের ফিরে এলে সঠিকভাবে কোরেন্টাইন সেন্টার তৈরি করতে পারেন না পরিযায়ী শ্রমিক দের সাপের কামড় খেতে হয় সেই সব রাজনৈতিক দলের ভোটের রাজনীতি করার জন্য যে কোন ইস্যুতে কথা বলা মানায় না। দিলীপ ঘোষ আরও বলেন আমার সংসদীয় ক্ষেত্রে আমি আদর্শ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করেছিলাম পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত গাইডলাইন মেনে সেন্টার তৈরী করে দেখিয়ে দিয়েছি কিভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের করেন টাইন পিরিয়ডে সামলে রাখতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিভিন্ন পঞ্চায়েতকে দায়িত্ব দিয়েছিল এই পরিযায়ী শ্রমিকদের দেখাশোনার কিন্তু পঞ্চায়েতগুলো নিজেদেরই দুর্দশার সীমা নেই। তাই  পরিযায়ী শ্রমিকদের যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে কোথাও জল নেই কোথাও ইলেকট্রিসিটি নেই কোথাও খাবার নেই। মারাত্মক দুর্দশার মধ্যে এই পরিযায়ী শ্রমিকরা জীবন হাতে করে নিয়ে যন্ত্রণার চৌদ্দটা দিন কাটিয়েছেন। রাজ্যে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিক বহু জায়গায় ঠিকমত টেস্ট করা হয়নি বলে আমা কাছে বহু অভিযোগ জমা আছে।

আমরা ইউপি সহ বিভিন্ন রাজ্যে দেখেছি  পরিযায়ী শ্রমিক রা যখন বাড়ি ফিরে আসছেন তখন বাড়ি যাওয়ার আগে তাদের হাতে ৩৫ কেজি রেশনের একটা প্যাকেট তুলে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই দৃশ্য বিরল। এখন যখন ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা কেন্দ্রীয় অনুদানে নিজের জায়গাতেই কাজ খুঁজে নিচ্ছেন তখন আবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনীহার ফলে এই করোনার সময় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরছাড়া হতে হচ্ছে। তারপরেও তৃণমূল সরকারের পক্ষ থেকে পরিযায়ী  শ্রমিকদের নিয়ে যদি কিছু বলা হয় সেটা হাস্যকরই হয়ে দাঁড়ায়।

 

Related Articles

Back to top button
Close