fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজো কমিটিকে অনুদান, খয়রাতির প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যকে আক্রমণ দিলীপের

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত ,নিউ দিল্লি: খয়রাতির রাজনীতি করে বাংলা দখলে রাখতে পারবেন না দিদি, বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের ।দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুজো কমিটি গুলোকে দেওয়া একাধিক ছাড়, ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রসঙ্গে বঙ্গ সভাপতি আরো জানান দিদি সারাক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে ঝগড়া করছেন টাকা টাকা করে টাকার জন্য নাকি উন্নয়ন আটকে আছে। তাহলে এই খয়রাতে টাকাগুলো আসছে কোথা থেকে প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ।
হকারদের ৮০ হাজার টাকা করে দেওয়া প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন যখন পরিযায়ী শ্রমিক খেতে পাচ্ছিলেন পারছিলেন না তখন দিদি এটার কথা একবারও ভাবেননি ।এখন ভোটের রাজনীতি করার জন্য ২০০০ টাকা করে অনুদান না দিয়ে এদের কাজের ব্যবস্থা করে দিক সরকার।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে একাধিক ছাড় এবং প্রতিটি পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছেন কল্পতরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই প্রসঙ্গে যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দিলীপ বাবু বলেন, “দ্বিতীয় মোদি সরকার গঠনের পরে মমতা ব্যানার্জি একবার দিল্লি এসেছিলেন।সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন তার কাছে টাকা নেই, তাই স্তব্ধ হয়ে আছে রাজ্যের উন্নয়ন।তাই কেন্দ্রের কাছে টাকা চাওয়ার জন্য তিনি মোদি-অমিত শাহের কাছে দরবার করেছেন বারবার। করোনা আবহে যতবারই ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ততবারই তিনি কেন্দ্রের কাছে টাকা দাবি করে চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন”। তিনি এও বলেন, আমফানের পর যখন প্রধানমন্ত্রী দুর্গত অঞ্চল পরিদর্শনে এসেছিলেন তখন এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর নামার সঙ্গে রীতিমতো কাগজে হিসাব লিখে নিয়ে টাকার দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, “বারবার এসব করে  মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে রাজ্য সরকারের কাছে কোন টাকা নেই। তাই বাংলায় কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে শিক্ষা স্বাস্থ্য সমস্ত ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। টাকার জন্য নাকি বাংলার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে আছে। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে হাজার হাজার টাকা দান করা কীভাবে সম্ভব? কোথায় তার উৎস? প্রশ্ন তুলেছেন দিলীপ বাবু  ।

দিলীপ বাবুর কথায়, “এই টাকা হল সাধারন মানুষের ট্যাক্সের টাকা ।যখন করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের মানুষ বিনা চিকিৎসায় একের পর এক মারা যাচ্ছেন ,ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স স্বাস্থ্যকর্মীরা পি পি ই কিটের জন্য আন্দোলন করছেন, পার্শ্বশিক্ষক রা শিক্ষকরা সামান্য বেতন বাড়ানোর দাবিতে দিনের পর দিন অনশন করছেন তখন কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর টনক নড়ে না। তখন তার কোষাগার ফাঁকা। অথচ যখন ভোটের রাজনীতি করার জন্য ক্লাবগুলোকে পুজো কমিটি গুলোকে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা দান-খয়রাত করতে হয় তখন ম্যাজিকের মত মুখ্যমন্ত্রীর কোষাগারে টাকা চলে আসে ।তখন কিন্তু আর কোন কিছুর অভাব হয় না”।

শ্রমিকদের ২০০০ টাকা করে অনুদান প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান ,সারা ভারতবর্ষে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা লকডাউন এর সময় কি মারাত্মক অবস্থায় ছিলেন আমরা সবাই দেখেছি ।বারেবারে তারা ঘরে ফিরে আসতে চেয়েছেন কিন্তু সরকারের ফিরিয়ে নিতে চাইনি। এমনকি শ্রমিক স্পেশালকে করোনা স্পেশাল বলতে পিছপা হননি এই মুখ্যমন্ত্রী। যখনই শ্রমিকরা না খেতে পেয়ে মারা গিয়েছেন তখন মুখ্যমন্ত্রী এদের কথা ভাবেননি।এরা যখন রাজ্যে ফিরে এসেছে তখন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের ও ও ঠিকমতো ব্যবস্থা করে দেন নি।আজ আবার এই পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘর ছেড়ে বাইরে যাচ্ছেন কাজের খোঁজে। কারণ পশ্চিমবঙ্গে কোনও কাজ নেই।
তাই এই করোনা পরিস্থিতিতেও নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে শ্রমিকদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের ১০ বছরের শাসনকালের একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়েছে চা বাগান থেকে শুরু করে চটকলে শ্রমিকরা সবাই আজ কর্মহীন। কারখানার প্রশিক্ষিত শ্রমিক পরিণত হয়েছে ভ্যানচালক রিকশাচালকে ।এইসব অনুদানের রাজনীতি না করে মুখ্যমন্ত্রী যদি এই শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম কাজের ব্যবস্থা করতে পারতেন ,যদি ভোটের রাজনীতি না করে প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ যোজনার টাকা শ্রমিকদের দিতে পারতেন তাহলে বিপদের দিনে মানুষ গুলো ভালোভাবে বাঁচতে পারতো।

বাংলার মানুষ এখন আর এই খয়রাতি রাজনীতিতে ভুলবে না। সিপিএম জমানাতে ও শেষের দিকে ওরা এই নীতি নিয়েছিল ।কিন্তু ২০১১ তে বাংলার মানুষ পরিবর্তন নিয়ে আসেন। এবার ২০২১ সেই পরিবর্তনের পরিবর্তন হবে বাংলায়। মানুষ প্রস্তুত আছেন‌” বলে জানান দিলীপ বাবু।

Related Articles

Back to top button
Close