fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

“এগিয়ে বাংলা নয়, করোনায় এগিয়ে বাংলা”, শিলিগুড়িতে বিস্ফোরক দিলীপ

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সাপ্তাহিক লকডাউন বিজ্ঞানসম্মত হলে সংক্রমণের হার কমে যেত মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: “এগিয়ে বাংলা নয়, করোনায় এগিয়ে বাংলা…। ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সাপ্তাহিক লকডাউন বিজ্ঞানসম্মত হলে সংক্রমণের হার কমে যেত। কিন্তু সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে”…। মঙ্গলবার সাংগঠনিক কাজে  শিলিগুড়িতে এসে এমনটাই জানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

বস্তুত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন।করোনা আবহের মধ্যে এমনিতেই রাস্তায় নেমে নির্বাচনের প্রচার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তার ওপর সম্প্রতি বেশ কিছু কর্মসূচিতে গিয়ে উত্তরবঙ্গের বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার সহ নানা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ  উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এদিকে করোনার কারনে পর্যায়ক্রমে লকডাউন চলার ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষেও উত্তরবঙ্গ সফরে সম্ভব হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে সময়ের অপচয় না করে কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি  উত্তরবঙ্গে নেতৃত্বের সঙ্গে নির্বাচনী  রণকৌশল সাজাতে  কয়েকদিনের উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন রাজ্য সভাপতি। সোমবার মালদা, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর সফর শেষ করেই এদিন রাতেই শিলিগুড়ি আসেন তিনি।

মঙ্গলবার শিলিগুড়ির হাসমিচকে বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের সাপ্তাহিক লকডাউন নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজ্যে পরিকল্পনা ছাড়াই লকডাউন হচ্ছে। তাই তার সুফল মিলছে না। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।’  ‘লকডাউন ফলপ্রসু হলে কেন তাকে ঠেকানো যাচ্ছে না বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন,  যদি সরকার মনে করে সাপ্তাহিক লকডাউনে করোনা ঠেকানো সম্ভব তাহলে যেকোনো মূল্যে করা উচিত। বার, তিথি, ধর্ম দেখে নয়। ইদ-মহরমে লকডাউনে ছাড় দেওয়া হবে আর রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দিনে লকডাউন করবে?’

পাশাপাশি অযোধ্যার রামমন্দির প্রসঙ্গেও তিনি তোপ দেগেছেন রাজ্যের শাসক দলকে। করোনার আবহে রামমন্দিরের না হাসপাতাল কোনটা বেশি প্রয়োজন? সেই প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর বক্তব্য, ‘ভারতবর্ষ মন্দিরের দেশ সেখানে যেমন মন্দিরেরও দরকার তেমন হাসপাতালেরও দরকার। তবে রাজ্যের মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে তাই এখানে হাসপাতাল বেশি জরুরী। রাজ্য সরকারের এখানে হাসপাতাল করার দিকে লক্ষ্য রাখা দরকার অযোধ্যায় কি দরকার সেটা ভাবার মানুষ সেখানে আছে। ‘ তার আরও বক্তব্য, ‘ আমাদের দেশ মন্দিরের দেশ। তাই মন্দিরের সংস্কৃতি থাকবে। মন্দির ও হাসপাতাল দুটোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, বিজেপি সহ রাজ্যপাল রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।বিগত কয়েক বছর ধরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনেরও দাবী উঠেছে বহুবার। সেই প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর বক্তব্য, ‘আমরা রাষ্ট্রপতি শাসনের নীতিগত ভাবে পক্ষে নই। তবে যেহেতু রাজ্যে বিরোধীদের  কথা বলার সুযোগ নেই, জীবনের সুরক্ষা নেই, আমাদের বিধায়কদের  হত্যা করা হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আওয়াজ তুলি রাষ্ট্রপতি শাসন হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ” উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি সহ গোটা রাজ্য রাজনৈতিক হিংসার দ্বারা উপদ্রুত। বিজেপিকে আটকাতে রাজনৈতিক হত্যা ও হিংসা নিরন্তর বেড়ে চলেছে। পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close