fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিলীপ ঘোষের সভা নিয়ে অশান্তি, গ্রেফতার ৪

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের জনসভা ঘিরে শনিবার অশান্ত হয় পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর । ওই দিন তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ৪ বিজেপি কর্মী। ধৃতরা হলেন উত্তম মালাকার, প্রদীপ কুমার ঘোষ ,গৌতম মণ্ডল ও অভিজিৎ সরখেল ।

বর্ধমান শহরের টিকরহাট এলাকায় অভিজিৎতের বাড়ি । উত্তমের বাড়ি বর্ধমানের ৫ নম্বর ইছলাবাদ এলাকায় । বাকি দুই ধৃত জামালপুর থানার আবুজহাটি ও তেলে গ্রামের বাসিন্দা । জামালপুর থানার পুলিশ শনিবার ঘটনাস্থল থেকেই অভিজিৎ ও উত্তমকে গ্রেপ্তার করে । পরে ওই দিনই রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ শহর বর্ধমানের বাড়ি থেকে প্রদীপ ও গৌতমকে গ্রেফতার করে ।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাঠি, লোহার রড, ভাঙা ইটের টুকরো, পাথর প্রভৃতি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই গ্রেফতারি ঘিরে জামালপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনায় পারদ সপ্তমে চড়েছে । পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে । অপর দিকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে জামালপুর ব্লক তৃণমূল যুব নেতা মইনুর রহমান মিদ্যা পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

তার ভিত্তিতেও পুলিশ একটি মামলা রুজু করে । রবিবার চার ধৃতকেই পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। ঘটনায় জড়িত বাকি অভিযুক্তদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার উত্তম ও প্রদীপকে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান।

ভারপ্রাপ্ত সিজেএম কল্লোল ঘোষ ধৃত উত্তম ও প্রদীপকে ২ দিনের পুলিশী হেফাজত ও অপর দুই ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে বুধবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিস জানিয়েছে, নয়া কৃষি আইনের সমর্থনে শনিবার বিকালে জামালপুরের সাহাপুরে বিজেপির সভা ছিল। সেই সভায় যোগদেন করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষের কনভয় জামালপুরের জৌগ্রাম হয়ে সাহাপুরে সভাস্থলের দিকে যাচ্ছিল । ওই
সময়ে জৌগ্রামের আমড়া মোড়ের কাছে এলাকার কিছু লোক বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে কালো পতাকা দেখায়।

অভিযোগ তখনই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা গাড়ি থেকে নেমে লাঠি ,রড প্রভৃতি নিয়ে কালো পতাকা দেখানো লোকজনের উপর হামলা চালায়। তাদের মারধোর করে । রাস্তার পাশে থাকা তৃণমূলের পার্টি অফিসেও বিজেপি কর্মীরা হামলা ভাঙচুর চালায়। পাশাপাশি পার্টি অফিসের সামনে রাখা কয়েকটি বাইক তারা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ।

এই ঘটনা নিয়ে যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে লাঠি চার্জ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে ।তখনই বিজেপি কর্মীরা পুলিশের উপরও হামলা চালায় । তাতে কয়েকজন পুলিশ কর্মী ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হন। পুলিশের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দি যদিও দাবি করেছেন , পুলিশ তৃণমূল নেতাদের কথায় চার বিজেপি কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়েছে । যারা দিলীপ ঘোষকে কালো পাতাকা দেখালো ,বিজেপি কর্মীদের মারধোর করলো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই পুলিশ নেয় নি । সন্দীপ নন্দী বলেন , রাজনৈতিক ভাবেই বিজেপি জামালপুরের পুলিশ ও তৃণমূলের যৌথ সন্ত্রাসের মোকাবিলা করবে ।
দিলীপ ঘোষকে হেনস্তার ঘটনা নিয়ে রবিবার
জেলার মন্তেশ্বরের বিজেপি কর্মীরা দীর্ঘক্ষন পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় । পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে সড়ক পথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয় ।

Related Articles

Back to top button
Close