fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কাউকে ছাড়বো না, কড়ায় গণ্ডায় শোধ নেব: দিলীপ 

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বিজেপি কর্মীদের উপর পুলিশি অত্যাচার আর নির্যাতন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতি সম্প্রতি কালনায় জনৈক বিজেপি কর্মীর পুলিশি অত্যাচারে মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এই আবহে রবিবার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনার ঘোলায় সরব হলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ যারা মানুষকে পুলিশ দিয়ে ভয় দেখিয়ে রেখেছে তাদের আমরা ছাড়বো না। সব ডায়েরিতে লিখে রাখছি। ইঞ্চি সাইজের, ফুট সাইজের নেতাদের নাম লিখে আমাকে দিন। কড়ায় গন্ডায় হিসাব নেবো, সুদ বাড়ছে।’ পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ যেসব পুলিশের লোকেরা নেতাদের হয়ে কাজ করেন তাদের ছাড়বো না। সকালে উঠে ফোন পাই দাদা পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়েছে। আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা আর্মস কেস দেয়, গাঁজা কেস দেয়। কি পাপ করেছি আমরা? মানুষের জন্য কাজ করা পাপ হলে আবার করবো, কতোজনকে গ্রেফতার করবে? ফেসবুকে পিসি ভাইপোর বিরুদ্ধে কিছু লিখলে পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সাইবার ক্রাইমে গ্রেফতার করা যায় না। থানায় নিয়ে গিয়ে হাতে আর্মস দিয়ে ছবি তুলে আর্মস কেস দিয়ে দিচ্ছে। এই সব পুলিশ অফিসার, তৃণমূলের নেতাদের সতর্ক করছি কড়ায় গন্ডায় শোধ নেবো। জীবনের শান্তি নষ্ট করে দেবো। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ রাজ্যের মা বোনেরা আজ সুরক্ষিত নন। ধর্ষণ হচ্ছে রোজ, দিদিমণি উল্টে বলছেন মহিলার চরিত্রের দোষ ছিল। একজন মহিলা হয়ে এমন কথা বলতে লজ্জা করে না।’ বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন দিদি। একজন দুষ্কৃতীরও শাস্তি হয়েছে? আমরা জানতাম কারখানায় কাজ করতে গিয়ে হাত পা কাটলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতো। এখন ধর্ষণের জন্য নিছক ক্ষতিপূরণ? মা বোনেদের ইজ্জতের মূল্য ক্ষতিপূরণ। এই দিন দেখার জন্য বাংলার মানুষ আপনাকে ভোট দিয়েছিল? তাই এই জঞ্জাল সাফ করে আরও একটা পরিবর্তন দরকার।’

মেদিনীপুরের সাংসদ তৃণমূলের ভাঙচুরের রাজনীতিকে কটাক্ষ করে বলেন,’ যারা গাড়ি ভাঙছেন, বাড়ি ভাঙছেন তাদের বলছি ভাঙাভাঙির অভ্যাসটা পাল্টে ফেলুন, এবার গড়ার কথা ভাবুন। নাহলে যেদিন সরকারটা ভেঙে দেবো সেদিন অনাথ হয়ে যাবেন।’
এদিন তিনি প্রশান্ত কিশোরের উপর মুখ্যমন্ত্রীর নির্ভরতা নিয়েও সমালোচনা করেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ যারা নিজের ভরসায় লড়তে পারেনা, যাদের নিজের ‘ ব্রেনের’ উপর বিশ্বাস নেই বিহার থেকে ধার করে নিয়ে আসে তারা আমাদের সঙ্গে পারবে? সব লিজ দিয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোরকে। এবার উনিই ঠিক করবেন আলুর দাম কতো হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথাতো এখন কেউ শোনেই না। ‘

এদিন তিনি বলেন, ‘ বাংলায় পরিবর্তনের জন্য বিজেপির কর্মীরা লড়াই করছেন। ১০০ জনের বেশি শহিদ হয়েছেন। বাংলায় যতোদিন না পরিবর্তন আসছে ততোদিন আমরা রক্ত দেবো। আমাদের বলিদানের মধ্য দিয়েই বাংলায় পরিবর্তন আসবে।’

Related Articles

Back to top button
Close