fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

বড়সড় রদবদল, সরানো হল দিলীপ ঘোষকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার

যুগশঙ্খ, ওয়েবডেস্কঃ রাজনৈতিক চাপান-উতোরের মধ্যে বিজেপি রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দিলীপ ঘোষকে। সোমবার বিজেপি রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতৃত্ব বৈঠকের পরই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় এলেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।

সুকান্ত মজুমদার

একের পর এক বিজেপি নেতাদের দল পরিবর্তন  করার হিড়িক নিয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।  বাবুল সুপ্রিয়র দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান গেরুয়া শিবিরে আরও বড় আঘাত আনে।

বাংলায় দল ছাড়ার হিড়িক আটকাতেই তড়িঘড়ি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে দেওয়ার। দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্তকে শিলমোহর দিয়েছেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাই এই রদবদল করেছেন। এমনটাই পদ্ম শিবিরের জারি করা বিবৃতিতে উল্লেখ। দায়িত্ব পেয়ে বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার তথা বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘দলের হয়ে সব দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। দলকে শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য। বিজেপি আদর্শ নির্ভর দল। তাই নেতা আসবে-যাবে। কিন্তু, দল থাকবে, কর্মীরা দলের হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটে জিততে লড়াই করবে।’

বরাবর বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য সমালোচিত হয়েছেন দিলীপ ঘোষকে। এই নিয়ে দলের অন্দরে জলঘোলা কম হয়নি। গেরুয়া শিবিরে থাকাকালীন একবার বাবুল সুপ্রিয় দিলীপ ঘোষকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘বলে মন্তব্য করেন । দলের একাংশেই দিলীপ ঘোষকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচার শুরু হয়ে যায়। যদিও সেসবে পাত্তা দেয়নি না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজ্যে দল যে দিলীপের নেতৃত্বেই এগোবে তা বুঝিয়ে দিয়েছিল গেরুয়া ব্রিগেড। সেকারণে দিলীপের হাতেই রাজ্য বিজেপির ব্যাটন তাঁর হাতেই দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার হিড়িকই হয়তো রাজ্য-রাজনীতিতে অন্য মোড় এনে দিল। তাই এবার দিলীপকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হল বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অর্পিতা ঘোষকে পরাজিত করে বালুরঘাট থেকে জয়লাভ করেন। বহুদিন ধরেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে প্রখর রাজনীতিবিদ দিলীপ ঘোষ ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য হন ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মী হিসাবে আন্দামানে কাজ করেন তিনি। ২০১৬ সালে খড়্গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন ও জ্ঞান সিং সোহনপালকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন প্রথম। ২০১৯ সালে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন দিলীপ ঘোষ। ২০১৫ সালে আরএসএস থেকে বিজেপিতে যোগ দেন দিলীপবাবু। সেই বছরই রাজ্য সভাপতি পদে তাঁকে বসায় দল। এরপর একে একে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর থেকে নির্বাচিত হন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close