fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ফিরহাদ প্রশাসক হলেই আমরা আদালতে যাবো, হুঙ্কার দিলীপের

শংকর দত্ত, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে নজির থেকে যাচ্ছে। ভোট না হওয়ার কারণে এই প্রথম প্রশাসক বসছে। আবার প্রশাসক হচ্ছেন শাসক দলের নেতাই। তিনি আবার যে সে নেতা নন। স্বয়ং কলকাতা পুরসভায় মেয়র। আর ঠিক এই কারণেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের সেনাপতি দীলিপ ঘোষ।

বুধবার দীলিপ ঘোষ যুগশঙ্খকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানান, ‘এটা নজির বিহীন সিদ্ধান্ত। আমরা জানতাম মুখ্যমন্ত্রী এমনটাই করবেন। তবে আমরা এর বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটবই। আদালতের মাধ্যমেই এর বিহিত করবো।’ তিনি বলেন, ‘আসলে কোনও ভাবেই যাতে পুরভোটে না হয় বা দেরি করে হয় সেটা অনেক আগে থেকেই ওরা চাইছিলো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই এইরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে কলকাতা সহ রাজ্যের মানুষের সঙ্গে সরকার প্রতারণা করবে সেটা ভাবনাচিন্তার উর্দ্ধে ছিলো। তবে আমরা থেমে থাকবো না। আমরা দেশের আইন আদালত আছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে।’

 

প্রসঙ্গত, ১৯৮০-র পুরো আইন অনুযায়ী বৃস্পতিবার ৭ মে তেই কলকাতা পুরসভা সহ রাজ্যের প্রায় ৯২ টি পুরসভার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সূত্রের খবর, ‘রিমুভ্যাল অফ ডিফিক্যালটিস আক্ট’ মেনে ফিরহাদ হাকিমই কলকাতা পুরসভার প্রধান প্রশাসক হতে চলেছেন,সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নোটিশ জারি হতে পারে আজই। এমনকি রাজ্যের অন্য মেয়াদ উত্তীর্ণ পুরসভা গুলিতেও সরকারি আমলা বা অফিসার নয়, প্রশাসক হবেন শাসক দলের নেতারাই। আর এ নিয়েই করোনা আবহে রাজধানীর রাজনীতি ব্যাপক সরগরম। বিরোধী দলের অনেকেই এটাকে শাসকের চক্রান্ত বা সুবিধাবাদী রাজনীতির কৌশল বলে মনে করছেন।

 

ঠিক এই কারণেই বিজেপির রাজ্য সাভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত কদিন আগেই টুইট করে গর্জে ওঠেন। তিনি তৃণমূলকে এক হাত নিয়ে বলেন, ‘আসলে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের খরচ তুলতেই তৃনমূল নিজের দলের লোক বসিয়ে পুরসভা চালাতে চাইছে।’ যদিও ফিরহাদই যে প্রশাসক হচ্ছে তেমন নোটিশ এখনও বেরোইনি। তবে সেই সম্ভাবনার খবর প্রবল, এবং সংবাদমাধ্যমে তা বারবারই উতে এসেছে। আর এই খবরই বেজায় চটেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ দীলিপ বাবু। তাঁর বক্তব্য, ‘এটা ওদের আগে থেকেই ভাবনা ছিলো। এর আগেও অনেক পুরসভায় নির্বাচন করায়নি। ফিরহাদকে প্রশাসক করাটা শুধু অন্যায় হবে না,সমগ্র পুরো নাগরিককে প্রতারণা করে হবে।’ কিন্তু এমন হলে বিজেপির ভূমিকা কী হবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘সরকারি ভাবে নোটিস জারি আগে হোক। তারপরই আমরা আদালতে যাবো। এ ব্যাপারে আমরাও আইনী পরামর্শ নিচ্ছি। সময়ই বলবে কে প্রশাসক হবে।’ এখন দেখার এটাই যে, আগামী দিনে শাসক সরকার নিজের ইচ্ছে মতো আইনের ফাক গোলে মেয়র ফিরহাদকেই প্রশাসক করবে।না কী পুরো কমিশনার বা অন্য বিশেষ কোনও উচ্চ পর্যায়ের সরকারি আমলা সেই পদকে অলংকৃত করেন।

Related Articles

Back to top button
Close