fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

রাজ্যপাল আছেন বলে আমায় গ্রেফতার করতে পারছে না! বিস্ফোরক দিলীপ

শংকর দত্ত, কলকাতা: ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’ এই বক্তব্যের প্রবক্তা যিনি, তিনি দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপির সভাপতি। মেদিনীপুরের সাংসদ। মমতার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা ব্যতিক্রমী নেতা। বিজেপি কর্মীদের অনেকেই তাঁকে ‘বাংলার বাঘ’ নামে ডাকেন, স্লোগান দেন। কথিত এবং সত্য এটাই যে, তাঁর আমলেই বিজেপি রাজ্যে অলিখিত প্রধান বিরোধীর তকমা অর্জন করেছে।

বিজেপির ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে এ বাংলায়। ২০১৯ লোকসভায় রেজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জয় করে বাংলা জয়ের যে সূচনা করেছে বলে বিজেপি দাবী করে, সেটাও দিলীপ ঘোষের আমলেই।

সেই দিলীপ ঘোষই কিনা ভয় পাচ্ছেন গ্রেফতারের। ঠিক তেমনই। এ নিয়েই বিস্ফোরক দীলিপ ঘোষ। যুগশঙ্খকে তিনি বলেন, ‘এতদিন রাজ্যপালের চাপেই আমায় গ্রেফতার  করা হয়নি। না হলে আমাকেও এই সরকার গ্রেফতার করে ফেলত। আমাদের নেতা-কর্মী সাংসদদের যেভাবে সামান্য ত্রাণ বিতরণে বাধা দিচ্ছে। যেভাবে চিঠিতে নির্দেশ দিয়ে তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে আটকানোর চেষ্টা করছে। যেভাবে গৃহবন্দি করছে এই সরকার, এটা বিস্ময়কর। আসলে এরা ভয় পাচ্ছে। দিদিমণি বুঝে গেছেন, আর কয়েকমাস পরেই ভোট। জনতার রায় ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।’

এখানেই থামেননি রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর সাফ কথা, ‘যেভাবে করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ব্যর্থতার নজির গড়ল, সারা দেশে তাতে রাজ্যের মাথা নত হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। মানুষের মৃত্যু মিছিল যেভাবে বেড়ে চলেছে, আগামী দিনে তা ভয়ঙ্কর হতে বাধ্য। মানুষের দিন-রাত কাটছে আতঙ্কে।’ এ কথা বলতে গিয়েই দীলিপবাবু বলেন, ‘আমি আমফান বিপর্যয়ে দুর্গত মানুষদের দেখতে যাচ্ছি। সেখানেও পুলিশ আমায় বাধা দিচ্ছে। আমাদের সাংসদরা কোনও কাজ করতে গেলে পুলিশ আটকাছে। এদিকে উনি বলছেন, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ রাজনীতি করবেন না। রাজনীতিটা তো একচেটিয়া ওঁর একার অধিকার। বিরোধী কণ্ঠ হলেই ভয় দেখায় লকআপ করো। সরকারের বিরুদ্ধে বললেই হয় গ্রেফতার করো, না হয় আটক করো। কী চলছে এটা রাজ্যে?’ তিনি বলেন ‘এখানে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সরকার, প্রশাসন আর তৃণমূলের ক্রিমিনাল গুন্ডা মিলে আমাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকী, মিডিয়ার কণ্ঠ রোধ করতেও এরা উঠে পড়ে লেগেছে। আসলে যত দিন এগিয়ে আসছে, এই সরকারের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে।’

আমফান বিপর্যয় মোকাবিলা ও করোনা পরিস্থিতি সামলাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার যে পুরোপুরি ব্যর্থ সেটা বোঝা যায় দিলীপ ঘোষের আর এক মন্তব্যেই। তিনি বলেন, ‘আমফনের সতর্কতা অনেক আগে থেকেই ছিল। আবহাওয়া দফতর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বারবার বলেছে আগে থেকে তৈরি হতে। কিন্তু উনি ভাবেন উনি একাই সব সামলে নেবেন। কলকাতা ও শহরতলীর মানুষ আজ পুরোপুরি বুঝে গেছেন এই সরকার ব্যর্থ। গ্রামের মানুষ যে ভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন, তাঁরা বুঝে গেছেন এই সরকার একটা ভাঁওতাবাজির সরকার।’

Related Articles

Back to top button
Close