fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জঙ্গলমহল নিয়ে রাজনীতি করছেন দিদি অভিযোগ দিলীপ ঘোষের

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নিউ দিল্লি: জঙ্গলমহল নিয়ে রাজনীতি করছেন দিদি, অভিযোগ দিলীপ ঘোষের। তিনি আরও বলেন যে, “মাওবাদীদের প্রশ্রয় দেওয়ার জন্যই  জঙ্গলমহলের অশান্তি। জেলবন্দি ছত্রধর মাহাতোকে মুক্তি দিয়ে আবার সামনে নিয়ে এসেছে তৃণমূল যাতে জঙ্গলমহলে আবার খুন ও খুনের রাজনীতি মারাত্মকভাবে শুরু হয়ে যায়। কারণ জঙ্গলমহলের মানুষ আর এখন তাদের সঙ্গে নেই , এই সত্যটা ওরা বুঝে গেছে। এই সমস্ত কিছু নিয়েই ইতিমধ্যেই মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে আমি”।

দিল্লিতে দু’দিনব্যাপী বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কোর কমিটির বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীলিপবাবু বলেন, “ছত্রধর মাহাতো দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। তারপর তৃণমূলের হাত ধরে তিনি জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এখন তিনি যে সব কথা বলছেন সেগুলো তৃণমূলেরই তার মুখে বসানো কথা। ছত্রধর মাহাতো যেহেতু দীর্ঘদিন অঞ্চল ছাড়া ছিলেন সেই কারণে তিনি জানেননা জঙ্গলমহলের মানুষ কিভাবে অশিক্ষায়, স্বাস্থ্য হীনতায়, কর্মহীনতায় ভূগছেন। দিদি যদি জঙ্গলমহলের উন্নতি করবেন তাহলে ২০১৯-এ জঙ্গলমহলের মানুষ দুই হাত তুলে বিজেপিকে ভোট দিতনা। আসলে শাসকদল এখন বুঝে গেছে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। তাই ২০২১-এ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেভাবেই হোক তারা বিরোধী দলগুলোর কর্মীদের শ্বাসরোধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

[আরও পড়ুন- ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না’, গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে কেন্দ্রকে তোপ ‘আমরা বাঙালির’]

পশ্চিম বাংলার ইতিহাসে বিগত বেশ কয়েক দশকে এইরকম মারাত্মক “রাজনৈতিক সন্ত্রাস” সাধারণ মানুষ দেখেনি। আমাদের একের পর এক কর্মকর্তাকে যেমন খুন করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে, তেমনই  ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ এবং মাওবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে  অশান্তির বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে শাসক দল তৃণমূল। এদের আসলে উন্নয়নের কোন চিন্তা নেই। সারাদেশে যখন আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বা কৃষক সম্মান নিধি কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হয়ে গেছে তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষেরা এর থেকে বঞ্চিত। আজ যদি কৃষক সম্মান নিধি চালু হত তাহলে বাংলার কৃষকেরা দু’বছর ৬ হাজার টাকা করে পেতেন। আমরা জানি গ্রামবাংলায় এখনো একান্নবর্তী পরিবারের সবাই বাস করে।

যে বাড়িতে ৬ জন কৃষক আছে সেই বাড়িতে মোট ৭২ হাজার টাকা ইতিমধ্যেই পৌঁছে যেত। আসলে এই দলটা  কৃষক থেকে শুরু করে শ্রমিক  চাকুরীজীবী  সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ  কাউকেই  কদর দেয় না। কারন এদের উন্নয়নের চিন্তা-ভাবনাই নেই।   শহরগুলোর দিকে যদি তাকাও  তাহলে সেখানে কর্মহীনতার ফলে  আজ হাজার-হাজার হাজার বাংলার ছেলে মেয়ে  অন্যান্য রাজ্যগুলোতে পড়াশুনাও চাকরির জন্য চলে যাচ্ছে। শিক্ষা দেখে স্বাস্থ্য সব জায়গায়  শুধু অবনতি।  তাই এই সমস্ত কিছু নিয়ে  আমরা দ্বারস্থ হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ  এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে। আমরা বলেছি পশ্চিমবঙ্গের এই মুহূর্তে  আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা  অবনতি হয়েছে  সেখানে কোনো অবস্থাতেই  ভোটদান সম্ভব নয়। রাজ্য থেকে শুরু করে রাজ্যসভা  তৃণমূল কংগ্রেসের গণতন্ত্রকে হত্যা করার প্রয়াস দেশ সহ সারা বিশ্ব এবার দেখে নিয়েছে”।

 

Related Articles

Back to top button
Close