fbpx
কলকাতাদেশহেডলাইন

‘ছট পুজো নিয়ে বাংলার সরকার রাজনীতি করছে’, কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ছট পুজো নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য মানুষের বুঝতে বাকি নেই। কটাক্ষ করলেন বিজেপি সংসদ তথা রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার দিল্লিতে অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তার কথায় স্পষ্ট ভোট রাজনীতি করতেই বাংলার সরকার ছটপুজো নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছে। একইসঙ্গে কলকাতার বাংলা ও বাঙালি বাঁচাতে এবার আসরে নামল বাংলা পক্ষ। তাদের মতে রবিন্দ্র সরোবরের দূষণ রুখতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কলকাতা।

এ দিল্লিতে ছট পুজো প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এতদিন দিদি বিহারীদের কটাক্ষ কটূক্তি ও ব্যঙ্গ করতেন। গত বছর পর্যন্ত ছট পূজা নিয়ে সমস্যা তৈরি করেছিলেন।কয়েকদিন আগে গুজরাটিদের বাংলা শাসন করতে দেবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে এত দরদ উথলে কেন উঠলো ছট পুজো নিয়ে। আসলে ভোট পাওয়ার জন্যই এ কাজ করছেন। তিনি বুঝেছেন মানুষ উনার পাশ থেকে সরে যাচ্ছে। তাই আলাদা আলাদা করে প্যাকেজ ঘোষণা করে মতুয়া, পুরোহিত বা অন্য কোন সম্প্রদায়কে তুষ্ট রাখার চেষ্টা করছেন। বাংলার মানুষ এত বোকা নয়। বাংলার মানুষ অনুদান চায়না। চায় রোজগার কাজ শিক্ষা স্বাস্থ্য। আর ছট পুজো এখন জাতীয় অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক স্তরেও বিভিন্ন জায়গায় বড় করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের দেখা উচিত দূষণ না করে কিভাবে বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়।

যে সরকার দুর্গাপুজো, ভাসান, গনেশপূজা, সরস্বতী পুজো নিয়ে কোর্টে যায়। তারা হঠাত করে কেন এসব করছে। তার পিছনে কি উদ্দেশ্য আছে তা মানুষের বুঝতে অসুবিধা নেই।’

অন্যদিকে রবীন্দ্র সরোবরে যাতে কোনও ভাবেই ছট পুজো করা না হয় তার জন্য ন্যাশানাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালকে আবেদন জানিয়েছে বাংলা পক্ষ। এদিকে ইতিমধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজো করার অনুমতি নিতে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য।

বাংলা পক্ষের মতে, ‘‘দক্ষিণ কলকাতায় বিহার থেকে আগত যেসকল মানুষ থাকেন তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠাণ আছে। আমরা কারোরই ধর্মচারণের বিরুদ্ধে না। গতবছরে রাজ্য সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করেছিল, তাও যদি যথেষ্ট না হয় দক্ষিণ কলকাতায় আসা বিহারীদের জন্য বাংলার সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করুক৷ নিয়ম শৃঙখলা মেনে তারা নিজেদের ধর্মচারণ করুক। বাঙালি জাতি বড় হৃদয়ের পরিচয় দিয়ে চায় ওরা সভ্য মানুষের মতো নিয়ম মেনে নিজেদের ছট পুজো করুক, কোনো বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়’।

বিবৃতি দিয়ে বাংলা পক্ষ জানিয়েছে, ‘যে কোনও সৌহার্দ্যই একতরফা হয় না। আমরা আশা রাখবো বাংলায় অবস্থিত ছট উৎসবকারীরা বিহার ও ইউপির সরকারের কাছে আবেদন করবে যাতে বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ গোটা উত্তর ভারতে থাকা বাঙালির দুর্গাপুজোর জন্য একই রকম উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়। বাঙালিরও নিজস্ব উৎসব ও ধর্মচারণ আছে। অন্য রাজ্যে বাঙালির দুর্গাপুজো বন্ধের কথা ভবিষ্যতে শুনতে পাবো না- এই আশা রাখি। ভালোবাসা দুতরফা হয়, একতরফা না৷ এই সব রাজ্যে বাঙালির উৎসব বা ধর্মচারনে সেখানকার সরকার যেমন পদক্ষেপ নেবে- বাংলার বাঙালি ভবিষ্যতে সে পথেই চিন্তা ভাবনা করবে।’

বাংলার পরিবেশ বাঁচানোর দায়িত্ব বাঙালির। বিধ্বংসী আম্ফানের সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কলকাতা সহ পুরো দক্ষিণবঙ্গে, কেন্দ্র সরকার যার ১% ক্ষতিপূরণও দেয়নি। এই অভিযোগ তুলে তারা জানায়, ‘পরিবেশ ভয়ংকর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, লাখ লাখ গাছ উপড়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচানো আশু প্রয়োজন, আমাদের সকলের কর্তব্যও। পরিবেশ বাঁচলে তবেই আমরা সকলে বাঁচবো। যে কোনও মূল্যে তাই রবীন্দ্র সরোবরকে বাঁচাতেই হবে। গত বছর ছট পুজোর সময় আইন লঙ্ঘন করে রবীন্দ্র সরোবরে যে উন্মত্ততা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না৷ বাংলা পক্ষ ধিক্কার জানায়।’

Related Articles

Back to top button
Close