fbpx
কলকাতাহেডলাইন

‘মমতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ছাত্র ছাত্রীরা বঞ্চিত হবেন’, অভিভাবকদের সতর্ক করলেন দিলীপ ঘোষ 

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: নিট ও জেইই পরীক্ষার বিরোধিতা ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ লাগলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, মমতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছাত্রছাত্রীরা। অভিভাবকেরা যেন এই চালাকিতে পা না দেন।

প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতেই নবান্ন‌ থেকে সনিয়া গান্ধীসহ ৭ বিজেপি বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। এদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে সুর চড়িয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ আমি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ভাষণ শুনেছি। দেশের ২৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসার জন্য ফর্ম ডাউনলোড করেছেন। তাঁরা কি সবাই বোকা? এখন আমাদের রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দিলে তাদেরই ক্ষতি। একটা বছর নষ্ট হবে। শুধু তাই নয় আগামী বছর যখন পরীক্ষায় বসবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আমি বলবো পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেছেন কেন্দ্র গায়ের জোরেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ ট্রেন ও মেট্রো এখন বন্ধ, বাসে, ট্রামে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছলেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের পৌঁছনো প্রসঙ্গে রাজ্যকে তোপ দেগে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ পড়ুয়াদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা রাজ্যের দায়িত্ব, তা না করে মুখ্যমন্ত্রী শুধু রাজনীতির কথা ভাবেন। আর রাজনীতির কথা ভাবতে গিয়ে ছাত্রদের কোমর ভাঙার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী।’তিনি আরও বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রী এর আগে জিএসটির বিরোধিতা করে রাজ্যের ব্যবসায়ীদের বলেছিলেন জিএসটি চালু হতে দেবেন না। জিএসটি চালু হয়েছে। নোটবন্দির বিরোধিতা করেছিলেন, আটকাতে পারেন নি। তাই অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের বলছি, আপনারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন।’ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের সেমিস্টার পরীক্ষার বিরোধিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘মূল্যায়ন ঠিকঠাক না হলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে পড়ুয়াদের। মাধ‌মিক, উচ্চ মাধ‌মিকের ফলাফল নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।’

এদিন মেদিনীপুরের সাংসদ করোনা ও লকডাউন ইস্যুতে বলেন, ‘লকডাঈনের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। সরকার লকডাউন নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী করোনা নিয়ে এভাবে রাজনীতি না করলে পরিস্থিতি এতো খারাপ হতো না।’ তাঁর অভিযোগ, করোনার সময়ে তৃণমূলের নেতারা সভা করছেন, কোন সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। অথচ বিজেপি কর্মীরা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের খুন হচ্ছেন, আর তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে বিজেপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ করোনা মহামারীকে রাজনৈতিক মহামারীতে পরিণত করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।’

এদিন তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ভুলে গিয়েছেন। এখানে সরকারের বিরুদ্ধে কোন সমালোচনা করা যাবে না, সংবাদ মাধ্যমেরও স্বাধীনতা নেই। আমরা বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের লড়াই করছি।’
এদিন তিনি বলেন, ‘ বাংলা কৃষ্টি, সংস্কৃতি আজ আক্রান্ত। বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন আক্রান্ত। রবীন্দ্রনাথকে অপমান করা হচ্ছে। এখানে যাঁরা বাংলা প্রেমী তাঁরা উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিচ্ছেন। বাবা, মাকে আব্বা আম্মা বলতে হচ্ছে। আকাশকে আশমান বলতে হচ্ছে। পুলিশ স্টেশনের নাম লেখা হয়েছে উর্দু আর ইংরেজিতে, সেই ছবি আমাদের কাছে এসেছে। বাংলার মানুষ একুশে বদলা নেবেন। কারণ তাঁরা বুঝতে পেরেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকলে মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।’

Related Articles

Back to top button
Close