fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তৃণমূলের পার্টি অফিসেই বোমা পাওয়া যায়, ববিকে পাল্টা দিলীপ ঘোষের

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: বিজেপি যুবমোর্চার নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলকাতা ও হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা। আর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ফিরহাদ হাকিম এদিনের অশান্তির জন্য গেরুয়া শিবিরকে দায়ী করে বিজেপিকে সন্ত্রাসবাদীদের দল বলেছেন।

 

পাল্টা বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, আর তৃণমূলের পার্টি অফিসে বোমা পাওয়া যায়।’  বিজেপির অভিযোগ পুলিশ বিনা প্ররোচনায় লাঠিচার্জ করেছে, রাসায়নিক মেশানো জল কামান ছুঁড়েছে। আহত হয়েছেন ৭০০ কর্মী, নেতা। ফিরহাদ হাকিম পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘ বিজেপি সন্ত্রাসবাদীদের দল। কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কোন দল আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শামিল হয় না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্য দফতরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ বিজেপির নামে অকারণ বদনাম করছেন। যে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে সেটি আমাদের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রিয়াঙশু পাণ্ডের দেহরক্ষীর। রিভলবারটির লাইসেন্স রয়েছে। হাওড়ার জেলা সভাপতি আমাকে এবিষয়ে জানিয়েছেন। আমাদের কাছে কাগজপত্র রয়েছে।’

ফিরহাদ হাকিমকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘ বিজেপির ছাতার তলায় সমস্ত সমাজ চলে এসেছে দেখে উনি ‌ভয় পেয়েছেন। অন্যায়ভাবে পিছনের দরজা দিয়ে এসে ক্ষমতা ভোগ করছেন। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই ওঁকে গদিচ্যূত করবো।’
তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ ময়দান ছেড়ে প্রতিপক্ষ চলে গেলে যুদ্ধের কী বাকি থাকে? দিদিমণি ভয়ে তালা লাগিয়ে চলে গিয়েছেন। আমরাতো মারপিট করতে যাইনি, দিদিমণিকে গঙ্গায় ফেলে দিতে যাইনি। বাংলায় কেন কলেজে ভর্তির জন্য, চাকরির জন্য টাকা চাওয়া হয়, টেট, এস এস সি নিয়ে কেন দুর্নীতি হয় তার জবাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিজেপির যুব মোর্চার সদস্যরা জানতে চেয়েছিল। আর তার ভয়ে দিদি নবান্নে তারা লাগিয়ে চলে গেলেন!’

মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, ‘ পুলিশ এদিন পশুর মতো নির্দয়ভাবে বিজেপির কর্মীদের লাঠিপেটা করেছে। মিছিলের উপর জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়েছে। আমি নিজে দলীয় সদর দফতর থেকে হাওড়া ব্রিজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়ো মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছি। কোথাও কোন অশান্তি ছিল না। মিছিল হাওড়া ব্রিজে পৌঁছনোর আগেই পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তে শুরু করলো। আমাদের সহ-সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী, সায়ন্তন বসু আহত হয়েছেন, রাকেশ সিংয়ের মাথা ফেটেছে, কেন্দ্রীয় সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন পায়ে চোট পেয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমাদের সহসভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭০০ জনের মতো নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। আমার মনে হয় রাজ্যের পুলিশের দক্ষতা নেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কেমন করে সামলাতে হয়। আর নয়তো সরকারের নীতিই হলো দমন পীড়ন করে আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দাও। কিন্তু এভাবে ক্ষমতায় বেশিদিন থাকা যায় না। একুশের সেটা বুঝবেন দিদি।’

Related Articles

Back to top button
Close