fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

বাংলায় পরিবর্তন চেয়ে অমিত শাহের আশীর্বাদ চাইলেন দিলীপ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: অমিত শাহের ভার্চুয়াল জনসভায় মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার একুশের নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিল রাজ্য বিজেপি। করোনা আর আমফান পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্যের ব্যর্থতার প্রসঙ্গে এই জনসভায় সূচনাপর্বের ভাষণে রাজ্যবাসীর মুখের দিকে চেয়ে অমিত শাহের আশীর্বাদ চাইলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সরাসরি বললেন, ‘বাংলার মানুষের কথা ভেবে আপনার দরাজ হাত রাজ্যের মাথায় রাখুন।’ রাজ্যের তথ্যাভিঞ্জ মহল মনে করছেন দিনকয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রীর করা মন্তব্যের সুযোগ নিলেন গেরুয়া শিবির।

প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি নবান্নে বলেছিলেন,’আমি অমিত শাহকে বলেছিলাম, আপনার যদি মনে হয় আমরা করোনা পরিস্থিতি সামলাতে পারছি না, তাহলে আপনারাই সামলান, আমার কোন আপত্তি নেই।’ লক্ষ্যণীয়ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিনের ভাষণে প্রসঙ্গটির উল্লেখ করে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ মমতা দিদি নিজে সামলাতে পারছেন না, আর বলছেন বিজেপি সামলাক। চিন্তা করবেন না, বাংলার মানুষ নির্বাচনে আপনার এই ইচ্ছা পূরণ করবে।’

এদিন প্রারম্ভিক ভাষণে করোনা, আমফান পরিস্থিতি নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তিনি বলেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রী বলার একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে বসিরহাটের একটি সাধারণ স্কুলে বৈঠক করে ১০০০ কোটি টাকা সহায়তা রাশি ঘোষণা করে গেলেন। কেন্দ্র সেই টাকা পাঠিয়েও দিলো। আর এমন নিমকহারাম এই সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ তো জানালই না, উল্টে সমালোচনা করছে। অথচ পাশের রাজ্য ওড়িশা, প্রধানমন্ত্রী ওঁদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা ঘোষণা করেছেন। ওঁরা কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

আরও পড়ুন: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আইটি পেশাদারদের জন্য চালু হল ‘কর্মভূমি’,টুইট মুখ্যমন্ত্রী

এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন,’ মানুষের এই সরকারের উপর আর বিশ্বাস নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে, রেশনে দুর্নীতি। পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্য আনতে চায়নি। কেন্দ্রের সহায়তায় রাজ্যে ফেরার পর তাঁদের সঙ্গে অমানবিক ব্যবহার করা হচ্ছে। দুদিন আগে পরিত্যক্ত পাম্প হাউসে এক পরিযায়ী শ্রমিকের সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে। এই সরকারের একটাই কাজ কেন্দ্রের সমালোচনা, রাজ্যপালের সমালোচনা করা। আর পুলিশের কাজ হলো বিজেপি কর্মীরা ত্রাণ দিতে গেলে বাধা দেওয়া। আমাকে, বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত, সাংসদ অর্জুন সিং, লকেট চট্টোপাধ্যায়কে বাধা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের আর্ত মানুষদের খুব অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। আর রাজ্য সরকারের যেখানে অভিভাবকের ভূমিকা নেওয়ার কথা, তারা শুধুই রাজনীতি করছে।’

এদিন অমিত শাহের ভাষণের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা আক্রমণ শানিয়ে ছেন। বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে তার জবাব দেন দিলীপ ঘোষ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষের জবাবে তিনি বলেন, ‘ দেশপ্রেমের শিক্ষা যেন তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম না দিতে আসে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কথা বলার হিম্মৎ নেই কেন। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সময় গোটা দেশ যখন মোদিজির সঙ্গে ছিলেন, তখন আপনারা চুপ করেছিলেন কেন?’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘ রাজ্য সরকার জমি দেয়নি বলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১০০০ কিলোমিটার তারকাঁটা দেওয়া যায়নি। আর সেই সুযোগে গোরু থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিসপত্র পাচার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে তৃণমূল।’

এদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সাহায্যের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাঁকে তোপ লাগেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘আমরা অমিতবাবুকে বিশ্বাস করি না, অমিত শাহকে বিশ্বাস করি। অমিত মিত্র বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন। বাংলাকে কেন্দ্র কত টাকা পাঠিয়েছে তার হিসাব কোথায়।’

Related Articles

Back to top button
Close