fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাস্ক বিভ্রাট, হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীর লাঠির ঘায়ে মাথা ফাটল রোগীর আত্মীয়ের

সমস্ত নিরাপত্তাকর্মীদের লাঠি ছাড়া কাজের নির্দেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: আবারও কাটগোড়ায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এক রোগীর আত্মীয়ের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। রক্তাক্ত হয়ে ওই রোগীর আত্মীয় হাসপাতাল চত্ত্বরে লুটিয়ে পড়লেও তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসটুকু করানোরও মানসিকতা দেখায়নি অভিযুক্ত নিরাপ্তারক্ষীরা। এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাঁদের আত্মীয় পরিজনরা। মারধরের ঘটনার বিহিত চেয়ে রোগীর পরিবার হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বর্ধমান হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ৪০ বয়সী হিরালাল মিদ্দার বাড়ি বুদবুদ থানার সন্ধীপুরের। প্যাঙ্কাইটিস স্টোনের অপারেশনের জন্য গত মঙ্গলবার তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার তাঁর অপারেশনের দিন নির্দিষ্ট হয়েছিল। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো হীরালালবাবুর পরিবার দুই সদস্য ও দু’জন রক্তদাতা এদিন বেলায় হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের গেটের কাছে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে সেখ কওসর আলি নামে একজন বাড়ি থেকে মাস্ক আনতে ভুলে যাওয়ায় মুখে রুমাল বেঁধে সেখানে দাড়িয়ে ছিলেন। অভিযোগ সেই সময়ে ওই জায়গায় কর্তব্যরত হাসপাতালের এক নিরাপত্তাকর্মী মাস্ক নিয়ে কৈফিত চেয়েই কওসর আলিকে গলা ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দেয়। নিরাপত্তাকর্মীর এই ব্যবহারের প্রতিবাদ করেন কওসর। অভিযোগ তখনই অপর আর এক নিরাপত্তাকর্মী লাঠি দিয়ে সজোরে কওসরের মাথায় আঘাত করে। সেখানেই লুটিয়ে পড়েন কওসর আলি। তারপরেও রেহাই মেলেনি। রোগী পরিবারের অভিযোগ মারধরের পর নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁদের টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়িতে বসে শিল্প সাধনায় মগ্ন শান্তি রাম রাভা

গোটা ঘটনার পর রোগী হীরালাল মিদ্দার আত্মীয়রা কওসর আলিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করে সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিরাপত্তা কর্মীরাও পাল্টা রোগী পরিবারের বিরুদ্ধে খারাপ ব্যহারের অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এবিষয়ে হাসপাতাল সুপার প্রবীর সেনগুপ্তকে ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলে, রোগী পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সোমবার সকল নিরাপত্তাকর্মীকে ডাকা হয়েছে। লাঠি ছাড়া কাজ করার কথা নিরাপত্তা কর্মীদের এদিনই বলে দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close