fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেয়ের জন্মদিনে শিক্ষক দম্পতির উদ‍্যোগে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: একমাত্র মেয়ের জন্মদিন, অথচ বেলুন ঝোলানো হোলোনা! কেক কাটা হোলোনা! পায়েস রাঁধাও হোল না! একসাথে গাওয়াও হলনা ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’! তবুও পালিত হোলো ‘শুভ জন্মদিন’। আসলে করোনা আবহের মাঝে মেয়ের জন্মদিনের আনন্দটা এইভাবে পালন করার মানসিকতাটা উবেই গিয়েছিল তাঁদের। তাই অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে জন্মদিনের আনন্দটা সমানভাবে ভাগ করে নিলেন মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা শিক্ষক দম্পতি।

কেশপুর ব্লকের মহিষাগেড়া হাই মাদ্রাসার ভূগোলের শিক্ষক নরসিংহ দাস এবং কেশিয়াড়ী ব্লকের করাটা রসড়া মুড়াকাটা নটবর বিদ‍্যাপীঠের ভূগোলের শিক্ষিকা সুরঞ্জনা প্রধান দাসের একমাত্র মেয়ে  মধুপর্ণা দাসের ষষ্ঠ জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই শিক্ষক দম্পতির উদ‍্যোগে ৩০ জন শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হল কেক ও নানা ধরনের শিক্ষা সামগ্রী। নরসিংহবাবু বলেন, নিজের মেয়ের জন্মদিনের আনন্দ আরও কিছু শিশুর সাথে ভাগ করে নেওয়ার এক অনির্বচনীয় সুখ।

[আরও পড়ুন- গৃহবধূ খুনের কোনও কিনারা না হওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবারের সদস্যরা]

কেশপুর ব্লকের মুন্ডলিকা নবারুণ সংঘের সহযোগিতায় মুন্ডলিকা গ্রামে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে নরসিংহ দাস নিজে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেন। নবারুণ সংঘের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অঞ্জন ঘোষ ও মিলন রায়। এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষক মণিকাঞ্চন রায়, রাজেশ বেরা, পীযূষ রানা প্রমুখ।

এবারের জন্মদিন সত্যিই অন্যরকম এই দম্পতির কাছে। চারিদিকে একটা অরাজক পরিস্থিতি এবং পরিবেশ। মধুপর্ণার মা সুরঞ্জনা প্রধান দাস জানান, এমতবস্থায় বাড়িতে আনন্দ করাটা শোভনীয় নয়। এইসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকাটা খুব জরুরি সকলের। তাই এহেন উদ্যোগ। ভীষণ খুশি ছোট্ট মধুপর্ণাও। এবার অবশ্য নতুন জামা বা বার্বি ডল কোনটাই নেওয়ার জন্য বায়না নেই তাঁর। সেও বুঝতে পেরেছে যে এটা আনন্দের সময় নয়।

 

Related Articles

Back to top button
Close