fbpx
অফবিটহেডলাইন

দীপাবলি ও বাস্তু

দোয়েল দত্ত: সনাতন ভারতীয় উৎসবগুলির মধ্যে দীপাবলি অন্যতম৷ আর বাঙালি হোক বা অবাঙালি, জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে দীপাবলি অন্য মাত্রা নিয়ে আসে৷ দীপাবলি মানেই শুধু আলোর উৎসবে মেতে যাওয়া নয়, বরং তার সঙ্গে বেশ কিছু নিয়ম বাস্তুমতে মেনে চলা, যার ফলে জীবনে সমৃদ্ধি ও শ্রী আসবে৷ এইদিন বিশাল বাহুল্য হিসাবে কিছু না করলেও ছোট ছোট কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন যার ফলে আপনার বাড়িতে আসবে কাঙ্খিত শান্তি—

১. দিওয়ালি দিন ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন৷ ঘরের প্রতিটি কোণা যেন থাকে পরিষ্কার৷ কোথাও যেন কোনও ময়লা না থাকে৷ আর ময়লাগুলো জড়ো করে ঘরের কোণায় রাখবেন না, একসঙ্গে করে বাইরে ফেলে দিন৷

২. বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার সবসময়েই পরিচ্ছন্ন  ও আবর্জনাহীন রাখুন৷ কেননা এখান থেকেই তো লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকা হয়৷ প্রচলিত বিশ্বাসমতে, গৃহের মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে মা লক্ষ্মীর প্রবেশ হয়৷ আর মা লক্ষ্মী কখনওই আবর্জনা সহ্য করতে পারেন না৷ কাজেই ঘরের চৌকাঠ হতে হবে নিখুঁত ও পরিষ্কার৷

৩.বাড়ি পরিষ্কার করার সময়ে সঠিক জায়গায় সঠিক জিনিস রাখুন৷ যেমন ঘর সাজানোর ছোট ছোট গাছপালা, মানিপ্ল্যান্ট বাস্তুমতে সবসময়েই উত্তর ও পূর্বদিকের মাঝখানে কোনও স্থানে রাখুন৷

৪. একটি পাত্রে নুনজল গুলে সেই জল বাড়ির প্রতিটি কোণায় দিন, বাস্তুবিশারদদের মতে, নুন সমস্ত নেতিবাচক শক্তিকে শোষণ করে নেয়৷ তাই দীপাবলির সময়ে এটা করার অর্থ হল বাড়িকে যাবতীয় নেগেটিভ  এনার্জি থেকে দূরে রাখা৷

৫. দীপাবলির আগের দিন থেকে ঘরের প্রতিটি কোণা আলোকিত করুন৷ জানেন কি, বাস্তু অনুসারে ঘরের এক-একটি দিকের জন্য একেক রংয়ের আলো৷ ঘর সাজানোর জন্য বিভিন্ন রঙিন আলোর ব্যবহার হয়-

নীল, হলুদ, সবুজ রংয়ের আলোর জন্য উত্তর দিক,

সাদা, বেগুনি, লাল আলোর জন্য দক্ষিণ দিক,

হলুদ ও কমলা আলোর জন্য পূর্বদিক,

হলুদ, কমলা ও গোলাপি আলোর জন্য শুভ পশ্চিম দিক৷

৬. কোন রংয়ের আলো কোনদিকে দেবেন তার মতো আলোর কোণ ও দিকও নির্দিষ্ট আছে৷ দক্ষিণ মুখ করে প্রদীপ রাখবেন না, এটা অশুভ ইঙ্গিত বহনকারী, প্রদীপ জ্বালাতে ভুলেও সূৰ্যমুখীর তেল ব্যবহার করবেন না৷ সবার আগে পুজোর ঘরে প্রদীপ জ্বালান৷ তারপরে বাড়ির অন্যত্ৰ প্রদীপ দিন৷

৭. মূল দরজার সামনে কোনও পুরনো, ভাঙা জিনিস রাখবেন না৷

৮. মা লক্ষ্মীর পদচিহ্ন যখন আঁকবেন, সেটা যেন বাইরে থেকে ভিতরে আসে, উলটোদিকে আঁকবেন না৷

৯. স্বস্তিক, ওম ইত্যাদি মঙ্গলচিহ্নগুলি দক্ষিণ বা পশ্চিমের দেওয়ালে লাগাবেন না৷

১০. এইসময়ে কোনও ব্যক্তিকে কোনও ধ্রনের অ্যান্টিক আইটেম উপহার দেবেন না৷ অত্যন্ত খারাপ এটা৷

১১. মা লক্ষ্মী বা সিদ্ধিদাতা গণেশের কোনও ছবি মূল প্রবেশ দ্বারে আঁকবেন না৷

১২. ঠাকুরের ছবি ও মূর্তি পরিষ্কার করতে কখনও পুরনো কাপড় ব্যবহার করবেন না৷

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close