fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভগবানের পরেই চিকিৎসকরা! আইইউআই পদ্ধতিতে ১৬ বছর পর গর্ভধারণ মহিলার

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: কথায় বলে চিকিৎসকরা ভগবানের পরেই। আর সেটা আবারো প্রমাণিত হল। জরায়ুতে বড় টিউমার নিয়ে বিয়ের পর থেকেই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন দম্পতি। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও সফলতা আসেনি। অবশেষে শিলিগুড়ির একটি আইইউআই পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের চেষ্টায় বিয়ের ১৬ বছর পর গর্ভধারণ করেন দিনহাটার প্রত্যন্ত গ্রামের এক মহিলা। দিন কয়েক আগেই পুত্র সন্তান জন্ম হওয়ায় হতাশা কাটল পরিবারে। মা হলেন দিনহাটা দুই ব্লকের সীমান্ত গ্রাম নয়ারহাটের রুম্পা সেন।

জানাগেছে, বিয়ের পর থেকেই সন্তান নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেন এই দম্পতি। জরায়ুতে বড় টিউমার আছে এটা না জানতে পারায় বিয়ের পর থেকেই হতাশায় ভুগছিলেন ওই দম্পতি ও তাদের পরিবার। কিন্তু কখনও চিকিৎসকদের উপর বিশ্বাস হারাননি ওই দম্পতি। দিন কয়েক আগে দিনহাটার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে পুত্র সন্তান জন্ম দেন রুম্পা সেন নামে মহিলা। লকডাউন এর কঠিন এই সময় কালে দীর্ঘ বছরের হতাশা চিকিৎসকের প্রচেষ্টায় দূর হওয়ায় বেজায় খুশি তারা।

ওই পরিবার জানায়, শিলিগুড়িতে আই ইউ আই পদ্ধতিতে গর্ভধারনের প্রাক প্রসব পরিচর্যার জন্য সেখান থেকে রুম্পা কে রেফার করা হয় দিনহাটার চিকিৎসক উজ্জ্বল আচার্য কাছে। টানা ১০ মাস দিনহাটার এই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রুম্পা। জরায়ুতে টিউমার থাকায় অস্ত্রোপচার ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলেও চিকিৎসক উজ্জ্বল আচার্য জানান। যাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ফাইব্রয়েড। এই সময় গর্ভপাতের সম্ভাবনাও থাকে বলে চিকিৎসক জানান। চিকিৎসার ভাষায় হাই রিস্ক প্রেগনেন্সির মধ্যেও দিন তিনেক আগেই অস্ত্রপ্রচার করে সন্তান প্রসব করান হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রেগনেন্সিতে অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে বিয়ের ১৬ বছর পর পুত্র সন্তান হাওয়ায় খুশি রুম্পা ও তার স্বামী পরেশ চন্দ্র সেন সহ গোটা পরিবার।

পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুম্পার স্বামী পরেশ চন্দ্র সেন। তিনি বলেন স্ত্রীর জরায়ুতে বড় টিউমার থাকায় অনেক জায়গায় চিকিৎসা করেও কোনো সফলতা পাননি। অবশেষে চিকিৎসক উজ্জ্বল আচার্যর চেষ্টায় পুত্র সন্তান হওয়ায় তারা কৃতজ্ঞ। স্ত্রী ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, এই সমাজে ভগবানের পরে যারা তারা হলেন চিকিৎসক। চিকিৎসকদের তিনি সেলুট জানান।

Related Articles

Back to top button
Close