fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার চালচিত্র জানতে বাড়ানো হোক টেস্ট, মুখ্যমন্ত্রী কে চিঠি দিয়ে আর্জি ডক্টরস ফোরামের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১ নভেম্বর: পুজোর পর করোনা সুনামির আশঙ্কা করে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম সংগঠনের চিকিৎসকরা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দুর্গাপূজার পর উলটে কমে গিয়েছে করোনা সংক্রমণ। কিন্তু সত্যিই কি রাজ্যের সংক্রমণের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে? বুলেটিনে অনেক তথ্য বিভ্রান্তি রয়েছে, এমনটাই দাবি করে এবার ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়কে চিঠি দিল রাজ‍্যের সরকারি চিকিৎসকের একটি সংগঠন।

ওই সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, করোনা
পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেও অনেকের টেস্ট দ্রুত করানো হচ্ছে না। রোগ নির্ণয় হতে দেরি হওয়ার কারণে বহু রোগীর মাধ‍্যমে আরও বেশি সংক্রমণ হচ্ছে। আর রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়ার কারণে রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ জটিল হয়ে মৃত‍্যু পর্যন্ত ঘটছে। রাজ্যে ল্যাবের সংখ্যা বাড়লেও টেস্ট হচ্ছে না পর্যাপ্ত পরিমাণে। তাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে করোনা টেস্টের সংখ্যা ২-৩ গুণ বাড়ানোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টেস্টের রিপোর্ট দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সভাপতি চিকিৎসক প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক সজল বিশ্বাস যৌথভাবে আবেদন জানিয়েছেন , প্রতিদিন টেস্টের সংখ্যা কত হবে, কোন জ়োনে কত পরীক্ষা হবে এবং কোথায় কোন ধরনের পরীক্ষা হবে, এই সব বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মানা হচ্ছে না । কোনও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা ভাইরোলজিস্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে না । ফলে, রেড জোনে যেখানে বেশি সংখ্যক টেস্ট করানোর কথা, সেখানে কম টেস্ট করে গ্রিন জ়োনে প্রচুর পরিমাণে টেস্ট করানো হচ্ছে। আবার বহুদিন ধরেই টেস্টের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে রাজ্যের করোনা সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে না। সাধারণ মানুষ সুস্থতার হার বাড়া দেখে উৎসাহিত হলেও বাস্তবে এমনটা নাও হতে পারে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে শপিংয়ে এবং দুর্গাপুজোর সময় যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম হতে দেখা গিয়েছে এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় যেভাবে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা নিয়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ভুগছেন। ফলে টেস্টের সংখ্যা না বাড়ালে সংক্রমণের আসল চিত্র কখনই জানা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম-এর চিঠিতে দাবি জানানো হয়েছে, কোরোনা পরীক্ষার স্ট্র‍্যাটেজি ঠিক করতে রাজ‍্য ও জেলাস্তরে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামতকেই প্রাধান্য দিতে হবে। অবৈজ্ঞানিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর এটা পরিচালনা করা যাবে না। করোনা সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ের জন্য র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট বহু ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হাসপাতালে না করিয়ে গ্রিন জ়োনে করানো হচ্ছে। এই টেস্ট কোথায় করানো হবে, তা গাইডলাইন অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে ঠিক করতে হবে। সেরো সার্ভিল‍্যান্সের রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে যাতে মানুষ বুঝতে পারেন তাঁদের ইমিউনিটি স্ট্যাটাস বা জন রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কোন অবস্থায় রয়েছে। আশা করা যায়, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।

Related Articles

Back to top button
Close