fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ১২তম বিবাহবার্ষিকী পালন করলেন পশুপ্রেমী নীলাঞ্জনা বিশ্বাস

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: দুঃস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ১২তম বিবাহবার্ষিকী পালন করলেন কল্যানীর বাসিন্দা পশুপ্রেমী নীলাঞ্জনা বিশ্বাস। একবেলা তাঁদের মুখে তুলে দিলেন খাবার। খুশি নদীয়ার শিমুরালির রাউতারি এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের আট থেকে আশি সবাই।

নীলাঞ্জনা বিশ্বাস আদ্যোপান্ত গৃহবধূ, একাধারে পশুপ্রেমী, সমাজসেবীও। ঘরের কাজ, ছেলে, স্বামী সবার আবদার মিটিয়ে বেড়িয়ে পড়েন পশু সেবায়। তাদের খাবার থেকে চিকিৎসা সবটাই করেন নিজের হাতে। ছেলে আশুতোষ ও ভাসুরের মেয়ে তানিয়া তাঁর ছায়াসঙ্গী। পশু সেবার পাশাপাশি এক ডাকে তিনি পৌঁছে যান দুঃস্থ মানুষদের সেবায়। তবে আজ দিনটি অন্যদিনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, তাঁর বিবাহ জীবনের ১২ বছর পূর্ণতা পেলো। নীলাঞ্জনা বিশ্বাস বলেন, আমার বিবাহবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনে দুঃস্থ দের পাশে দাঁড়ানোর কথা ভাবছিলাম। কিন্তু কিভাবে কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। অবশেষে আমার ইচ্ছে টা সম্ভব হয়েছে।

সাত সকালে উঠে খাবার নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন নদীয়ার শিমুরালির রাউতারি এলাকার সর্দার পাড়ায়। এখানে প্রায় ২৫ টি পরিবার আদিবাসী সম্প্রদায়। লক ডাউনের জেরে বেকার হয়ে পড়েছেন বাড়ির কর্তারা। উপার্জন নেই। প্রায় দিনই আধপেটা খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। এই খবর পেয়ে নিলাঞ্জনা বিশ্বাস সিদ্ধান্ত নেন তাঁর বিবাহবার্ষিকী কাটাবেন এদের সাথেই। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। প্রায় ১৩৫ জনের হাতে তুলে দিলেন খাবারের প্যাকেট। একবেলার জন্য খাবার পেলেও খুশি সর্দার পাড়ার বাসিন্দারা। আদুরী সর্দার বলেন, ভাবিনি আজকের এই দিনটা এই ভাবে কাটবে। বিবাহবার্ষিকী দিদির। কিন্তু খুশি আমরা। কারণ, দিদির কারণে আমরা একবেলা খেতে পারবো।

নীলাঞ্জনা বিশ্বাসের বাপের বাড়ি কলকাতায়। কল্যানীর বাসিন্দা ভবতোষ বিশ্বাসের সঙ্গে ১২ বছর আগে গাঁটছাড়া বাঁধেন তিনি। নীলাঞ্জনা দেবী গ্রামে খাবার নিয়ে যাবেন এই খবর আগেই পৌঁছেছিল গ্রামবাসীদের কাছে। তাই সেখানকার কচিকাঁচারা আগে থেকেই বেলুন ফুলিয়ে সাজিয়ে রেখেছিলো গোটা গ্রাম। তাঁদের কাছে নীলাঞ্জনা দেবী অপরিচিত হলেও একে অপরকে আপন করে নিতে সময় লাগেনি। কয়েকজন কচিকাঁচাদের নিয়ে কাটলেন কেক। তুলে দিলেন চকলেট,বেলুন। খাইয়ে দিলেন কেকের টুকরো।

নীলাঞ্জনা দেবী বলেন, কোনোদিন এইভাবে বিবাহ বার্ষিকী পালন করিনি। মনে থাকবে সারাজীবন। এঁরা আমাকে আপন করে নিয়েছে। একজন অপরিচিত কে এইভাবে কাছের দিদি করে নেবে সেটা ভাবিনি। খুবই ভালো লাগছে এদের কাছে আসতে পেরে।
লকডাউন এদের জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে খুশি, হারিয়ে দিয়েছে আনন্দ। কিন্তু এর জেরে অনেক সম্পর্ক হয়েছে আপনের থেকে বেশি। যে সম্পর্ক কাছের সম্পর্কগুলিকেও লজ্জায় ফেলে দেয়। আর ছোটরা তো বলেই ফেললো, দিদি থেকে যাও না আমাদের কাছে। প্রতিশ্রুতিও দিলেন আজ নয়, একদিন তাঁদের সঙ্গে সময় অবশ্যই কাটাবেন। ভালোবাসা,এই উপহার নিয়েই বাড়ির পথে রওনা দিলেন তিনি। কারণ, তাঁর জন্য যে বাড়িতে অপেক্ষা করছেন একজন। কে আবার? তাঁর প্রিয় মানুষ।

Related Articles

Back to top button
Close