fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ভাবাবেগ ভোট বাক্সে প্রতিফলিত করতে পুজোতে অনুদান: অধীর

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী ভাবাবেগ কাজে লাগিয়ে ভোট কিনতে চাইছেন। তোপ দাগলেন সংসদীয় নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি দুর্গাপুজো কে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী অনুদান ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেন। অধীর বলেন, ‘সরকার কি আলাদা করে কোনো উৎসবে টাকা দেয়? তবে কি দুর্গাপুজোতে হঠাৎ করে এক একটা মণ্ডপকে পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দেওয়ার মধ্যদিয়ে, তাদের আবেগকে খরিদ করে ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত করবার চেষ্টা করছে?’

 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুজো করার জন্য ক্লাবগুলোকে ৫০  হাজার টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেছিলেন নবান্ন থেকে। তারই এদিন প্রতিক্রিয়া জানালেন অধীর। যেখানে রাজ্য সরকার নিজেই ঋণের দায়ে জর্জরিত সেখানে এই টাকা দেওয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে দেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়। চার লক্ষ কোটি টাকার উপরে ঋণের বোঝা বাংলার মানুষের উপর। কালকে যদি আপনার পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সে পৃথিবীর আলো দেখার আগে, পৃথিবীর বাতাস গ্রহণ করার আগে, তার মাথার উপরে ঋণের পরিমাণ চার লক্ষ কটি টাকা। বেহাল স্বাস্থ্যের অবস্থা শিক্ষাক্ষেত্রেও গরিব ঘরের পড়ুয়াদের অনলাইনে পড়ার ব্যবস্থা নেই সেখানে এ ধরনের টাকা বিতরণ এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই সরকারের রাজনৈতিক অদক্ষতা নিয়ে সং আদালত প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কি দিদি তো শুধু তোষণের রাজনীতিতে মজেছেন। তাই খুশি করতেই অনুদান বিলি করছেন। ফলে সুস্থ-সবল রাজনীতির বাতাবরণ নষ্ট হচ্ছে বাংলায়।

 

প্রসঙ্গে অধীর আরো বলেন, ‘যখন আমরা জন্ম গ্রহণ করিনি তখনো দুর্গাপুজো হত। আর যখন আমরা থাকবো না সে সময় দুর্গাপূজা হবে। দুর্গাপুজোর জন্য কেউ আশায় বসে থাকবে না কখন মমতা ব্যানার্জির সরকার ক্ষমতায় আসবে। এটা একটা সামাজিক রীতি পালন ঠিক হবে।’

অন্য দিকে মেহেবুবা মুফতিকে মুক্তি প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর বক্তব্য,কাশ্মীরকে ভৌগলিক ভাবে দখলে রাখলেও মানসিকভাবে কাশ্মীর আমাদের দখলে নেই। তিনি বলেন, ‘কোন রাজনৈতিক দলই সমর্থন করেনি যে এই ৩৭০ ধারা বিলোপ হয়ে যাক, কংগ্রেস দলও এর বিরোধিতা করেছিল।এই ভাবে এই ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরের মানুষের প্রতি ভারত সরকারের দায় দায়িত্ব এই ভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমরা তাই এর বিরোধিতা করে ছিলাম। ৩৭০ ধারা এমনি হয়নি একটা চুক্তির মাধ্যমে হয়েছিল তাই এই ধারাকে বিলোপের ব্যাপারে সংবিধানে যা বলা আছে তা এখানে মানা হয়নি। এই ধারা বিলোপের আগেই প্রায় ৯০% সুযোগ সুবিধা কংগ্রেস সরকার প্রতাহার করে নিয়েছিল তাই বর্তমান সরকারের বলার কোন কারণ নেই,এই ধারা বিলোপের পর সব কাশ্মীরে বিশাল কিছু পরিবর্তন হয়েছে।এই ধারা বিলোপের সময় ঢালাও করে বলেছিল কাশ্মীর শান্ত আর কিছু হবে না, সন্ত্রাসবাদ শেষ হয়ে যাবে,কিন্তু সেই কাশ্মীরে এখনও সন্ত্রাসবাদ চলছে। প্রায় দেড় লক্ষ আধাসেনা সেখানে মোতায়েন থাকছে।

 

কাশ্মীরকে ধরে রাখতে লক্ষ লক্ষ সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হচ্ছে তার কারণ সেখানকার মানুষকে সরকার বশে আনতে পারছে না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না এটা সরকারের ব্যার্থতা।শুক্রবার দুপুরে বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে একথাই বলেন বহরমপুরের সাংসদ তথা লোকসভার পরিষদীয় দলনেতা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

 

Related Articles

Back to top button
Close