fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্যের ত্রাণ তহবিলে দান মাঝেরডাবরি চা-বাগানের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: গোটা দেশ করোনা মোকাবিলায় সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সংকটঘন মুহুর্তে বারবারই রাজ্য ও কেন্দ্রের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হচ্ছে। ঠিক সেই সময় আরও একবার সংকটের মুহুর্তে নিজেদের অস্তিত্ব জানালো আলিপুরদুয়ারের অন্যতম মাঝেরডাবরি চা-বাগান। লকডাউনে অনান্য শিল্পের সাথে গোটা দেশে চা-শিল্পও সংকটে, বলছেন বিশেষজ্ঞমহল। তবে মাঝেরডাবরি চা-বাগান কর্তৃপক্ষ নিজেদের লাভের অর্থ এবার সরাসরি সরকারি কোভিড ফান্ডে তুলে দেবেন। শুক্রবার মাঝেরডাবরি চা-বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, “২০১৯ -২০ অর্থবর্ষে আমাদের যা লাভ হয়েছে এবং আগামী যতদিন করোনা ভাইরাস জনিত সমস্যা থাকবে ততদিন আমরা প্রতিকেজি চা-পাতা বিক্রি করে যে অর্থ পাব তার থেকে ২৫পয়সা করে রাজ্য ও কেন্দ্রকে মোট ৫০পয়সা সরকারি কোভিড ফান্ডে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা এও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন ভারতবর্ষে এই করোনার প্রকোপ থাকবে ততদিন আমরা প্রতিমাসে এই অর্থ পাঠাবো। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ফান্ডে আজ আমরা প্রথমধাপে ৭ লক্ষ ২৮হাজার টাকা পাঠাবো।”

আরও পড়ুন: ভিন রাজ্যে আটকে পড়া ৬০০ পরিযায়ী শ্রমিক পুরুলিয়ায় ফিরলেন

উল্লেখ্য, চা-বাগানগুলিতে উৎপাদন হ্রাস হয়েছে গত দুই মাস আগে। এরপরও কিভাবে মাঝেরডাবরি চা-বাগান এতবড় সিদ্ধান্ত নিল? কিভাবে সাহস যোগাড় করলো? চিন্ময়বাবু জানান, আমরা এই মুহুর্তে ব্যবসায়ীক মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করছি না। এই সময় মানুষের পাসে দাঁড়িয়ে থাকাটাই আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। আমাদের এই সিদ্ধান্তের আমাদের চা-বাগানের সকল ট্রেড ইউনিয়নগুলিও সম্মতি জানিয়েছে।”  প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মাঝেরডাবরি চা-বাগানে বাৎসরিক প্রায় ১৬লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়। তবে লকডাউনে এই মরশুমের প্রায় প্রতিদিন ৩০শতাংশ উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। টি এসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার ডুয়ার্স শাখার সচিব রাম অবতার শর্মা বলেন, মহৎ কাজ। দেশে অনেক চা-বাগান রয়েছে। তবে নজির তৈরি করলো এই চা-বাগান। আমরা আশাবাদী উত্তরবঙ্গের অন্যান্য চা বাগান গুলি এই পদক্ষেপ দেখে অনুপ্রাণিত হবে।”

উল্লেখ্য, কেরলে ইতিপূর্বে বন্যার সময় সাহায্য, নিজেদের বাগানে নিজস্ব সোলার প্ল্যান্ট, সবার আগে বাগান থেকেই ডিজিটালভাবে শ্রমিকদের বেতন দেবার মত একের পর এক কাজ করেছে মাঝেরডাবরি। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় শুধু নিজেদের চা-বাগান এলাকাই নয় ইতিমধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলাসদরে একটি অংশ স্যানিটাইজ করেছেন তারা।

Related Articles

Back to top button
Close