fbpx
কলকাতাহেডলাইন

শহরের নামী পুজোর বিষয় ভাবনায় ছাপ ফেলেছে করোনা

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: ক্যালেন্ডার বলছে আষাঢ় মাস চলছে। আকাশজুড়ে কখনও মেঘ, কখনও রোদ্দুর। পুজো আসতে এখনও মাস আড়াই বাকি। কিন্তু কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা এখনও দোটানায়। কিছু উদ্যোক্তা বায়না দিয়েছেন বটে, তবু একটা অনিশ্চয়তার মেঘ এখনও ঘিরে রয়েছে। কারণটা এখন আর অজানা নয়, করোনা আর তার জেরে লকডাউন এবছর সব ওলোটপালট করে দিয়েছে।

শহরের নামী পূজো সুরুচি সঙ্ঘের বিষয় ভাবনায় এবার ধরা পড়বে করোনাকে ঘিরে এই দোটানার ছবি। শুক্রবার এ খবর দিলেন নামী থিমশিল্পী ভবতোষ সুতার। কলকাতার পুজো সংস্কৃতিতে ‘ থিমের পুজো’কে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন যে শিল্পীরা ভবতোষ তাঁদের অন্যতম। এদিন নিজের স্টুডিওতে বসে অবাধ্য চুলগুলোয় আঙুল চালাতে চালাতে বললেন, ‘ দেখুন আমার বিশ্বাস এবারের দুর্গা মূর্তিটা একেবারে অন্যরকম হবে। এক্কেবারে অন্যরকম, যে সময়টা আমরা পেরিয়ে যাচ্ছি, সেই সময়ের যন্ত্রণা, ভালোলাগা, মন্দ লাগা, জীবনের ওঠা পড়া সব কিছু ছাপ ফেলবে মায়ের মূর্তিতে। আমার দুর্গা একদম অন্যরকম, যা আগে কখনও করিনি।’

ভবতোষ জানালেন, ‘ কোনবারই আমি বেশি প্রতিমা তৈরি করিনা। এবার নাকতলা উদয়ন আর সুরুচি সঙ্ঘের সঙ্গে কথাবার্তা এগোচ্ছিল। নাকতলা এই মুহূর্তে যোগাযোগে নেই। তবে সুরুচির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছি। তাই এবার সুরুচি সঙ্ঘের প্রতিমা তৈরি করছি।’ তিনি বলেন, ‘ দুর্গা আসলে কী বলুন তো? তিনি কখনও মা, কখনও একটা অনুভুতি যা সমাজে ছাপ ফেলে যায়, কখনও রূপক, কখনও বা চিত্রকল্প। অন্ততঃ আমার নিজের অভিজ্ঞতা তাই বলে। এবছর যাঁরাই প্রতিমা তৈরি করবেন তাঁদের প্রতিমা অন‌রকমের হবেই।’

খ্যাতনামা এই থিমশিল্পী জানালেন, ‘ আমার প্রতিমা খুব বড়ো হবে না। কিন্তু প্রতিমার গড়নে থাকবে অন্যমাত্রার শৈল্পিক রূপকল্প। দেখুন দুর্গাপুজো একটা মস্তবড়ো শিল্পের উৎসব। সেখানে কলকাতার শিল্পের উৎকর্ষের, অহঙ্কারের ছাপ থাকবে না তাই কখনও হয়!’ চিন্ময়ী মায়ের মৃন্ময়ীতে আবাহনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। লকডাউনেও তাই বাঙালির মনের আকাশে ঢাকের বাদ্যি। শত দুঃখ, কষ্ট, ক্লেদ, ক্লান্তি সয়েও বাঙালি চিরদিনের ‘আনন্দময়ীর’ আগমনের প্রতীক্ষায়। বাতাসে এখন থেকেই তাই ফিসফিসানি ‘ বলো দুর্গা মাইকি জয়।’

Related Articles

Back to top button
Close