fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘কারও কাছে মাথা নত করবেন না,বাংলা গুজরাত হবে না’, হুঁশিয়ারি মমতার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সোমবার মেদিনীপুরে জনসভা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বক্তব্য শুরুতেই বিধায়কদের নাম ধরে খোঁজ নেন তিনি। জানতে চান তাঁরা উপস্থিত কিনা। সভায় ছত্রধরের উপস্থিতি রাজনৈতিক ভাবে তাত্‍পর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি, শুভেন্দুকে ঘিরে গুঞ্জনের মধ্যে তৃণমূল নেত্রীর এই সভা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। নবান্নের ধান হাতে নিয়ে মমতার শপথ কৃষক আন্দোলনের পাশে ‘ছিলাম, আছি, থাকব’। এ দিনের জনসভায় উপস্থিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, পূর্ণেন্দু বসু, মানস ভুঁইয়া, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ছত্রধর মাহাতোও। সভায় ছত্রধরের উপস্থিতি রাজনৈতিক ভাবে তাত্‍পর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এ দিনের সভা থেকে দলনেত্রী কী বার্তা দেন সে দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সকলেই।

ছত্রধর মাহাতোকে আমি আজ আসতে বলেছিলাম। আমরা অতীতকে ভুলি না। ওকে ২০০৮ সালে ওকে মাওবাদী তকমা দিয়ে ওকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যখন ওকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিল। ভারতবর্ষে কৃষকদের আন্দোলন হচ্ছে। আজ অনেক জেলায় নবান্ন আছে।নতুন ধান হাতে নিয়ে শপথ করে বলছি আমরা কৃষকদের সাথে আছি সাথে থাকবো, কৃষকদের আন্দোলনে আমরা ছিলাম, আমরা আছি। আমরা ২০০৮ সাল থেকে বনধের বিরোধিতা করে আসছি, তবে বর্তমান পরিস্থিতে কৃষকদের স্বার্থে কালকের কৃষকদের আন্দোলনকে আমরা দল হিসেবে সমর্থন করছি।তাজপুর বন্দরে বিপুল কর্মসংস্থান হবে, মত্‍স্যজীবীরা উপকৃত হবেন, আশ্বাস মমতার। বীরভূমে দেওয়া-পাচামি কয়লা প্রকল্প হতে চলেছে, ঘোষণা মমতার।

এক জন রক্ষক, এক জন ভক্ষক, আর এক জন তক্ষক। বহিরাগতদের দিয়ে বাংলা দখলের চক্রান্ত সফল হতে দেব না, বললেন মমতা। আপনারা ব্লকে ব্লকে নজর রাখুন, দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা মমতার। তৃণমূলকে টাকা দিয়ে কেনা যাবে না, মন্তব্য মমতার।  আগুন নিয়ে খেলবেন না, বিজেপিকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেত্রীর। সিপিএমের আমলে রেশন কেলেঙ্কারি হয়েছিল। বিজেপিকে দুর্নীতি নিয়ে লাগাতার আক্রমণ মমতার। আমরা উন্নয়ন করছি, ওরা টাকা না দিয়েই হিসাব চাইছে। টাকার জন্য বিজেপির সঙ্গে দোস্তি করব না।  বিজেপি এনআরসি, সিএএ নিয়ে কী করেছে? প্রশ্ন মমতার। অসমে ২০ লক্ষ বাঙালির নাম বাদ দিয়েছে বিজেপি। বাংলা গুজরাত হবে না, মন্তব্য মমতার। মহাত্মা গাঁধীকে যারা হত্যা করেছে তাদের কাছে বামলা মাথা নত করবে না, বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারও কাছে মাথা নত করবেন না, দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা তৃণমূল নেত্রীর।

এদিন সভা থেকে মুখ্যমত্রী বলেন, সিঙ্গুর ভুলিনি, নেতাই ভুলিনি, নন্দিগ্রাম ভুলিনি। কাল সারা বাংলায় ব্লকে ব্লকে ধরনা চলবে। আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে আমাদের অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি। সিপিএম আর বিজেপি ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছো। টাকা ছড়াচ্ছো। দাঙ্গা লাগাচ্ছো। কুতসা করছো। চক্রান্ত করছো। দল ভাঙছো। মানুষের ভালবাসা ভাঙছো। জেনে রেখে দাও, ভারতবর্ষের মাটি থেকে তোমাদের উতখাত হওয়ার সময় এসেছে। কৃষিবিল বেআইনি। হয় প্রত্যাহার করো নয় বিজেপি সরকার ক্ষমতা ছাড়ো।

মনে রাখবেন, ৩৪ বছর ধরে লড়ে এখানে এসেছি। কারও দয়ায় আসিনি। মনে নেই, কত হত্যা হয়েছে কেশপুরে, মনে নেই নন্দীগ্রামে কত মানুষকে খুন করেছেন। নেতাইয়ে কীভাবে মা-বোনদের উপর অত্যাচার করতেন! জঙ্গলমহলের ম্যাক্সিমাম জায়গা আপনারা অশান্ত করে দিয়েছিলেন। সাধের ঝাড়গ্রামে লোকে যেতে পারত না। মেদিনীপুরের কত মহান জায়গা আছে, স্বাধীনতা আন্দোলনের রক্ত আছে, মানুষকে পছন্দ করে। দেশকে ভালবাসে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। রাফেল কেলেঙ্কারি দুর্নীতি হয় না। পিএম কেয়ারের টাকা মারলে দুর্নীতি হয় না। তোমার ইউপি, বিহার, দিল্লিতে কী চলছে?

আরও পড়ুন: তেতে উঠেছে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি, উত্তরকন্যায় যাওয়ার সময়ে দিলীপ-মুকুলের গাড়ি আটকাল পুলিশ

যে কোনও মুহূর্তে ভারতীয় রেল হয়ে যাবে সেল। আমরা রেলশ্রমিকদের পাশে আছি। আমরা রেলকে বেসরকারি করতে দেব না। আমাদের জওয়ানরা দেশকে রক্ষা করতে লড়াই করে। আজ বলছে অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিও বেসরকারি হয়ে যাবে। কোল মাইনে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করে, বলছে বেসরকারি করে দেবে। ব্যাঙ্কগুলো মার্জ করে দিচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি। কয়লা বিক্রি। প্রতিরক্ষা বিক্রি। কৃষি বিক্রি। তাহলে থাকবেটা কী? জিজ্ঞেস করুন কমরেডদের।

বামপন্থীদের মধ্যে অনেকে বিজেপিকে সমর্থন করেন না, আমি তাঁদের স্যালুট জানাই। কিন্তু সিপিএম নামের যে দলটি একের পর এক সন্ত্রাস করেছিল, তারা হয়ে গেছে বিজেপির সবচেয়ে বড় রক্ষক। বিজেপি হয়েছে তাদের ভক্ষক। আর কংগ্রেস কখন কার গালে চুমু খেয়ে হয়েছে তক্ষক। অঙ্কা-বঙ্কা-সঙ্কা। এরা নাকি দেশ চালাবে!

বাংলা ভাল আছে, তাই তোমাদের এত হিংসা। বহিরাগতদের বাংলা দখল করতে আমরা দেব না, দেব না, দেব না। মা-বোনেরা যেমন রাঁধে, চুলও বাঁধে। আপনারা সব পারেন। তেমন দিন এলে আপনারা হাতাখুন্তি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াবেন। যখন তৃণমূল প্রথম তৈরি হয়েছিল, অনেকে বলেছিল ছাগলে খেয়ে নেবে, গরু মাড়িয়ে দেবে। মনে রাখবেন, মাটিতে পেরেক পুঁতলে মাটি গুঁড়িয়ে যায়। কিন্তু পাথরে পেরেক পুঁতলে পেরেকটাই ভেঙে যায়। এখন তৃণমূল বটবৃক্ষ হয়ে গেছে। বিজেপি জেনে রেখো, তুমি যে কোনও দল কিনতে পারো, তৃণমূলকে পারবে না। চ্যালেঞ্জ রইল। পিএম কেয়ারে কত টাকা জমা পড়েছে, শ্বেত পত্র বের করুক। সংবাদমাধ্যমগুলোকে বলে দেওয়া হচ্ছে, এটা বলা যাবে ওটা বলা যাবে না। দরকারে গুলি করে মেরে দিয়ে বলবে কোভিডে মরে গেছে। এরকম একটা জঘন্য রাজনৈতিক দল। মিথ্যের ডাস্টবিন নিয়ে বসে আছে আর বড়বড় কথা বলছে।

বিজেপি দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে, তোপ মানসের।বিজেপি কৃষক বিরোধী আইন তৈরি করে জমি, ফসলের অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলে আক্রমণ মানসের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম এর প্রতিবাদ করেছিলেন। নীলকর সাহেবদের মতো হয়ে উঠেছে বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ভারতের অগ্নিকন্যা’ বলে আখ্যা মানসের। মমতাকে সরাতে বিজেপির সঙ্গে রাজ্যে হাত মিলিয়েছে সিপিএম এবং কংগ্রেস, বিরোধীদের নিশানা মানসের।  কিছু মিরজাফর, বিভীষণ রয়েছে বলে আক্রমণ মানসের।বাংলায় গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না, হুঁশিয়ারি মমতার। বিজেপির কাছে সব আছে, কিন্তু তৃণমূলের মতো কর্মী নেই, বার্তা মমতার।

 

Related Articles

Back to top button
Close