fbpx
দেশহেডলাইন

শতাব্দীর সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য ও আর্থিক সঙ্কট করোনা : শক্তিকান্ত দাস

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  করোনার ত্রাসের গোটা পৃথিবী কাঁপছে, কার্যত বিধ্বস্ত বিশ্ববাসী।   বিশ্বজুড়ে শুধু জনস্বাস্থ্যকেই ধ্বংস করেছে তা নয়, রুদ্ধ হয়েছে অর্থনীতির দরজাও। এই পরিস্থিতিকে কার্যত নজিরবিহীন বলছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ ভাইরাসকে গত ১০০ বছরের মধ্যে সবথেকে বড় স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সঙ্কট আখ্যা দিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-র গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। করোনার প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতেও। তাই অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপরেই এখন সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে বলে জানালেন আরবিআই গভর্নর।

শনিবার সপ্তম এসবিআই ব্যাঙ্কিং ও ইকোনমিক কনক্লেভের মঞ্চ থেকে রিজার্ভ ব্য়াঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, “গত ১০০ বছরে বিশ্বের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় এই কোভিড-১৯। এর প্রভাব মানুষের চাকরিতে, নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভাল থাকায়, জীবনযাপনে।” পরে তিনি আরও যোগ করে বলেন, এটি সম্ভবত আমাদের সহনশীলতারও সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

শক্তিকান্ত দাস মনে করছেন, সমস্ত বিধিনিষেধের মধ্যেই ভারতীয় অর্থনীতি ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে তাঁর বার্তা, এই সংকটে বিশেষত কন্টেইনমেন্ট জোনগুলিতে সমস্ত নিয়ন্ত্রণবিধিগুলি সুশৃঙ্খলভাবে মেনে চলতেই হবে। করোনা আবহে কেন্দ্র বেশ কিছু আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সেখানে এসেছে প্রান্তিক অর্থনীতির কথা। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে এনে শক্তিকান্ত দাস বলেন, “ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় নিয়মকানুনে কিছু ছাড়। একই সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলির পুঁজিও বাড়াতে হবে।”

আরও পড়ুন: দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

এদিন দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) সপ্তম ব্যাংকিং এন্ড ইকোনমিক কনক্লেভের ভারচুয়াল অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তিনি এদিন এসবিআইয়ের চেয়ারম্যান রজনীশ কুমারকে বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে এই মারণ জীবাণু। এই মহামারী আবহে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিই সবথেকে বেশি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতাকেও নজর দিতে হবে। এই আর্থিক সংকটের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে লড়াই করছে তা প্রশংসনীয়। তারাই এই আর্থিক সংকটের ফ্রন্টালাইনে রয়েছে।’ এদিন তিনি আরও বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাংক বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ করেছে এই আর্থিক সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য।

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত আরবিআই তাদের কোষাগার থেকে ৯.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা যা দেশের জিডিপির ৪.৭ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দিয়েছে। এর পাশাপাশি শক্তিকান্ত দাস আরও জানিয়েছেন, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাংক ২৫০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছে।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close