fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সরকারি কোভিড সেফ হোমে চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদে রাস্তায় বেড়িয়ে বিক্ষোভ করোনা আক্রান্তদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: নেই পানীয় জল, নেই সঠিক সময়ে খাবারের ব্যবস্থা। দুঃসহ অবস্থার মধ্যে নরক যন্ত্রনার মতো অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের,  প্রতিবাদে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল করোনা আক্রান্ত রোগীরাই। সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জের কর্নজোড়ায়।

কর্নজোড়ায় ” কোভিড সেফ ”  হোমে থাকা উপসর্গহীন করোনা আক্রান্ত রোগীরাই নিম্নমানের খাবার সরবরাহ ও পানীয় জলের সংকটের প্রতিবাদ জানিয়ে হোম থেকে বেরিয়ে এসে হোমের সামনে থাকা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। যদিও এ বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান কোনো মন্তব্য করতে চান নি। সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত প্রশাসনিক কোনো আধিকারিকের দেখা মেলেনি ঘটনাস্থলে।

উত্তর দিনাজপুর জেলা সদর রায়গঞ্জ কর্নজোড়ায় জেলা প্রশাসনিক চত্ত্বরে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা ভবনে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে উপসর্গহীন ” কোভিড সেফ হোম “।  যেখানে উপসর্গ নেই অথচ করোনা পজিটিভ মানুষদের ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এই সেফ হোমের চরম অব্যাবস্থা নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন করোনা আক্রান্তরা। হোমে থাকা করোনা পজিটিভ মানুষদের অভিযোগ, পুষ্টিকর কোনও খাবারই দেওয়া হয়না। দুবেলাই খাবার দেওয়া হয় কোনও নির্দিষ্ট সময় না মেনেই। সকালে প্রাতরাশ হিসেবে শুধুই দু-তিনটে রুটি বা পরোটা দেওয়া হয় তার সাথে কোনও সবজি বা ডাল থাকেনা। দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বেলা তিনটের পর। রাতেও সাড়ে দশটা এগারোটা নাগাদ খুবই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যা হল পানীয় জল নিয়ে। একজন মানুষের জন্য ২৪ ঘন্টায় মাত্র দুই পাউচ অর্থাৎ ৪০০ মিলিলিটার পানীয় জল দেওয়া হয়। এই তীব্র গরমে প্রবল পানীয় জলের কষ্টে ভুগছেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা।

 

সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটের সময় দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের খাবার সরবরাহ করতে আসলেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্নজোড়ায় কোভিড সেফ হোমে থাকা ৬০ করোনা পজিটিভ মানুষ। তারা হোম থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। কোভিড সেফ হোম সূত্রে জানা গিয়েছে চরম এই অব্যাবস্থায় থাকতে না পেরে রায়গঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার পঙ্কজ সরকার নামে এক করোনা পজিটিভ ব্যক্তি সেফ হোম থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে তাঁকে আবার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হেমতাবাদের সেফ হোমে রেখে আসে স্বাস্থ দপ্তর। যদিও এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান নি জেলা মুখ্য স্বাস্থ আধিকারিক

 

Related Articles

Back to top button
Close