fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

‘মূল্য চোকাতে হবে দক্ষিণ কোরিয়াকে’, হুমকির সুর কিমের বোন ইয়ো জং’য়ের গলায়

পিয়ংইয়ং, সংবাদসংস্থা:  মহামারী করোনা নিয়ে দুই প্রতিবেশী দেশ আবারও কূটনৈতিক সংঘাতের পথে। উত্তর কোরিয়ায় কোনও সংক্রমণই নেই, কিম জং উন প্রশাসনের এমন দাবিতে সংশয় প্রকাশ করায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রীকে হুশিয়ারি দিয়েছেন কিমের বোন কিম ইয়ো জং। হুমকির সুরে তিনি বলেছেন, ‘এর মূল্য চোকাতে হবে।’

করোনা মোকাবিলায় দুই কোরিয় দেশের মধ্যে যে আস্থা নেই, তা পরিষ্কার হয় গত জুন মাসে। কেটে দেওয়া হয় দুই দেশের মধ্যে হটলাইন। শুধু তাই নয়, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের স্বার্থে সীমান্তে গড়ে তোলা লিয়াজোঁ অফিস গুঁড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়া। তারপর থেকে চলছে অঘোষিত এমার্জেন্সি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত একেবারে রুদ্ধ করে রেখেছে কিম জং প্রশাসন। এরইমাঝে শোনা যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ায় কারও মধ্যে সামান্যতম লক্ষণ দেখলে নাকি পুরোপুরি আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে তাকে। অথচ বাইরের বিশ্বের কাছে সেকথা গোপনই রাখতে চাইছেন কিম। যার পরিপেক্ষিতেই গত শনিবার করোনা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার দাবি ঘিরে সংশয় প্রকাশ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী ক্যাং কুং হোয়া।

 

এদিন দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রী জানান, ‘অতিমারীর সময়ে উত্তর কোরিয়া আরও বেশি উত্তর কোরিয়া হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ আরও বেশি গোপনীয়তা অবলম্বন করছে। করোনা নিয়ে ওদের দাবি, সেখানে কোনও সংক্রমণ নেই। এটা বিশ্বাস করা শক্ত। ওখানে করোনা নিয়ন্ত্রণের সব রকম প্রচেষ্টাই চোখে পড়ছে। অথচ ওরা জানাচ্ছে সংক্রমণ নাকি নেই।’ আর দক্ষিণ কোরিয়ার বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্যেই বেজায় চটেছেন কিমের বোন। প্রভাবশালী কিম ইয়ো জং বুধবার রীতিমতো আক্রমণাত্মক মেজাজে এমন দাবিকে নস্যাৎ করে বলেছেন, ‘ওঁর আসল উদ্দেশ্য খুবই পরিষ্কার। আমরা ওঁর কথাগুলো ভুলব না। ওঁকে এর মূল্য চোকাতে হবে।’

গত সেপ্টেম্বরে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সিউলের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের। সেসময় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের নামে দক্ষিণ কোরিয়ার এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয় উত্তর কোরিয়ার সেনাসদস্যরা। যার জেরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। উত্তর কোরিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বর কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, একজন নিরস্ত্র ব্যক্তিকে এভাবে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই করতে পারে না উত্তর কোরিয়া। এই সামরিক পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের লঙ্ঘন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে চিঠি দিয়ে খুনের ঘটনায় ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন কিম জং উন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে সেই উত্তেজনা সাময়িক প্রশমন হলেও, পুনরায় তা বাড়তে চলেছে।

Related Articles

Back to top button
Close