fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, ফল ধরলেও লাউদোহায় অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সাধের ড্রাগন ফ্রুটের বাগান

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: নজরদারি নেই। ফল ধরলেও অযত্নে, অনাদরে নজির গড়া লাখ টাকার সাধের ‘ড্রানফ্রুট’র বাগান আগছার জঙ্গলে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝোঁপ জঙ্গলে ভর্তি। নষ্ট হচ্ছে ড্রাগনফ্রুটের চারা গাছ। জঙ্গলের পাশে অবাধে বসছে মদের আসর। এমনই অনাদরে পড়ে দুর্গাপুরের লাউদোহা ফরিদপুর ব্লকে জেমুয়া এলাকায় প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর ড্রাগনফ্রুটের বাগান। তবে প্রজেক্টটি জানাতেই নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করার হওয়ার আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, জেমুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শঙ্করপুর এলাকায় ২০১৭ সালে প্রায় আড়াই বিঘা জমির ওপর এই ” পাইলট প্রজেক্ট ” করা হয়। সেখানে প্রায় পরীক্ষামুলকভাবে ২০০ টি “ড্রাগনফ্রুট ” এর চারা লাগানো হয়েছিল। ওই সময় চারাগুলি প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করে বসিরহাট থেকে আনা হয়। এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পের আওতায় ১০০ দিনের কাজে চাষ শুরু হয়। ড্রাগনফ্রুট ছাড়াও আম, লেবু সহ বেশকিছু ফলের গাছ লাগানো হয়। এছাড়াও সেখানে পোলট্রি ফার্ম ও ফ্লাই অ্যাস ব্রীকস তৈরির জন্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে প্রজেক্টটিতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়। এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ওপর গাছগুলির দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছর না ঘুরতেই ওই প্রকল্প থেকে হঠাৎই মুখ ফিরিয়ে নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

ড্রাগনফ্রুট এর চারাগাছগুলি বর্তমানে বড় হয়েছে। বেশকিছু গাছে ফল ধরে পেকে গিয়েছে। কিন্তু ফল ধরলেও অনাদর ও অযত্নে নষ্ট হচ্ছে গাছগুলি। বাগানটি বর্তমানে জঙ্গলের রূপ নিয়েছে। বাগানের ছাউনিতে গজিয়ে উঠেছে সমাজবিরোধীদের আড্ডা। মদ, গাঁজার আসর জমে উঠেছে সেখানে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মত মানুষের কাছে এই ফলের চাহিদা থাকালেও দুর্গাপুরের মত বাজারে তার জোগান নেই।

আরও পড়ুন: সংক্রমণ রুখতে ধূমপান বন্ধ হল স্পেনে  

বিশেষজ্ঞ সূত্রে জানা গেছে , করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষকে শারীরিক প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তুলতে ভিটামিন- সি যুক্ত ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক সহ বিশেষজ্ঞরা। সেই মত পাতি লেবু, মৌসাম্বি ও আনারস সহ বেশকিছু ভিটামিন- সি’তে ভরপুর ফলের চাহিদা বেড়েছে বাজারে। করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়ায়ে মোক্ষম অস্ত্রের মধ্যে ওই ফলের তালিকায় রয়েছে ” ড্রাগনফ্রুট “।

দুর্গাপুরের ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, ” ড্রাগনফ্রুটে প্রচুর পরিমাণে ‘ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’, কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজম ও ভিটামিন ‘ বি’ও ‘সি ‘ রয়েছে।” করোনা প্রতিরোধক ক্ষমতার পাশাপাশি এই ফল ক্যানসার ও ডায়াবিটিস প্রতিরোধক বলে জানা গেছে।

“ড্রাগনফ্রুট ” মূলত থাইল্যান্ডের। এই রাজ্যে বসিরহাট ও রাজারহাটের নার্সারিতে চাষ করা হচ্ছে। দুর্গাপুরের বাজার ও শপিং মলগুলিতে এই বিদেশি ফলের চাহিদা থাকলেও জোগান কম রয়েছে বলে দাবি ফল ব্যবসায়ীদের।
বেনাচিতি বাজারের প্রতিষ্ঠিত ফল বিক্রেতা বিজয় সাউ বলেন, “মার্চ মাস পর্যন্ত ড্রাগন ফল বাজারে এসেছিল। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎই কলকাতা থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। করোনা আবহে চাহিদা থাকলেও আমদানি নেই। লোকাল চাষিরা এই ফলের উৎপাদন করলে জোগান স্বাভাবিক হত।

আরও পড়ুন:এবার ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা জানাবে গুগল

“পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক পূর্ণেন্দু কুমার মাজী জানান, ” বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অবশ্যই ওই বাগানটি পরিষ্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close