fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্বপ্ন দেখেছিলেন একসঙ্গে বাঁচার… লকডাউনে কাজ হারিয়ে আত্মহত্যা নব দম্পতির

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: স্বপ্ন দেখেছিলেন দুজনে একসঙ্গে বাঁচার। অভাব থাকলেও চালিয়ে নিতে পারবেন সেই ভরসা ছিল দুজনের প্রতি। তাই পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হতে দেরি লাগেনি। কিন্তু লকডাউন যে দুজনের জীবনে অভিশাপ বয়ে নিয়ে আসছে তার আন্দাজ ছিল না সদ্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নব দম্পতির। লকডাউনে কাজ হারিয়ে জীবন চালানোটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল দুজনের কাছে। তাই অবশেষে বেছে নিলেন চরম পন্থা। অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা তরুণ দম্পত্তির। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুরে শহরের নিমপুরা এলাকায়। শুক্রবার সকালে স্থানীয় একটি মাঠ থেকে দম্পত্তির দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে খড়্গপুরে শহরে।

প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, লকডাউনের ঠিক আগেই বিয়ে হয়েছিল দুজনের। শুক্রবার সাত সকালে নিমপুরা কনকদূর্গা মন্দির এলাকায় রেলের একটি ফাঁকা মাঠে ওই দুজনের দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই খবর দেয় পুলিশকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পত্তি নাম ভেঙ্কট রাও এবং সীতা লক্ষ্মী। দক্ষিণ ভারতীয় এই দম্পত্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ ও ২৫ এর মধ্যে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন ‘‘লকডাউন শুরু হওয়ার মুখেই বিয়ে করেছিলেন ওই দম্পত্তি। যুবক খড়্গপুরে আসেন কয়েক বছর আগে। একটি মন্দিরে পুজো করতেন তিনি। ভেবেছিলেন হয়তো ধীরে ধীরে যজমানি বাড়িয়ে উপযুক্ত উপার্জন বাড়িয়ে নেবেন। কিন্তু সেই পেশায় সফল হতে পারেননি। লকডাউনই সমস্যা ডেকে আনল। আগে ওরা শহরের অন্য এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। একটি বেসরকারি অফিসে পিওনের কাজও করতেন। তারপরেই লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় কাজ হারান। এরপরই তাঁরা অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় এই এলাকায় চলে আসেন। শুক্রবার সাত সকালে জানতে পারি কনকদুর্গা মন্দির এলাকায় রেলের একটি ফাঁকা মাঠে ওই দুজনের দেহ পড়ে আছে, দুজনেরই মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছে। মনে হচ্ছে ওরা বিষ পান করেছেন। ”

আরও পড়ুন:কবে বিহারে বিনিয়োগ করবে টাটা, রিলায়েন্স, ইনফোসিস

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুটি দেহ উদ্ধার করেছে। মনে করা হচ্ছে প্রবল আর্থিক সঙ্কটের মুখে ছিলেন ওই দম্পত্তি। সামান্য যা টাকা পয়সা জমেছিল তাই দিয়ে এই ক’দিন কোনও মতে চালিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজ জুটিয়ে নেবেন, কিন্তু শেষ অবধি কাজ জোটাতে পারেননি। অভাব আর হতাশায় জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তাঁরা। পুলিশ এই বিষয়ে অবশ্য এখনও কিছু জানায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close