fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে আর্থিক অনটন, পুরুলিয়ায় কলেজ ফি মুকুবের দাবিতে স্মারকলিপি দিল ডিএসও

সাথী প্রামানিক, পুরুলিয়া: ‘পুরুলিয়ার নিস্তারিণী কলেজে বিভিন্ন সেমিস্টার-এ ভর্তির ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায় ভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা আদায় করছে।’ এই অভিযোগ তুলে কলেজের অধ্যক্ষার কাছে স্মারকলিপি দিল ছাত্র সংগঠন ডিএসও। নিস্তারিণী কলেজ কমিটি। পুরুলিয়া শহরে অবস্থিত জেলার একমাত্র মহিলা কলেজ এটি। ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত পুরুলিয়া শহরে টানা লকডাউন চলছে। দেখা গিয়েছে, ওই পরিস্থিতিতে, কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের এসএমএসের মাধ্যমে ৩১ তারিখের মধ্যে বকেয়া ফি দেওয়ার জন্য জানায়।

ওই ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পুরুলিয়া জেলায় করোনা পরিস্থিতি মহামারী রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিন দেশে ও রাজ্যে অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ও প্রাণ হারাচ্ছেন। এই জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়। পাশাপাশি লকডাউনের জন্য বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই দুরূহ হয়ে উঠছে দুঃস্থদের।

নিস্তারিণী কলেজের ছাত্রী সংসদের প্রাক্তন সম্পাদিকা যশোদা মাহাতো বলেন , ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে এই পরিস্থিতিতে দিন আনা দিন খাওয়া গরিব মানুষ সহ-সাধারণ পরিবারগুলো অর্ধাহারে- অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আমরা নিস্তারিণী কলেজ এর অধিকাংশ ছাত্রী এইরূপ বিপর্যস্ত পরিবারেরই সদস্যা। এমনিতেই আমাদেরকে আর্থিক অনটনের মধ্যেই পড়াশোনা চালাতে হয়। করোনা জনিত লকডাউন এই আর্থিক অনটনের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। অথচ এই সময়ে আমাদেরকে কলেজ কর্তৃপক্ষ এসএমএস এর মাধ্যমে ভর্তির নোটিশ পাঠায়। সেখানে যে সেমিস্টার এ ভর্তি হবে তার আগের বকেয়া সমস্ত ফি পরিশোধ করার কথা বলা হয়, যা বিপুল পরিমাণ।

লকডাউনের কারণে প্রায় ৬ মাস ধরে কলেজ বন্ধ, ছাত্রীদের ক্লাস হয়নি। অনলাইনের মাধ্যমে কিছু বিষয়ে যেটুকু ক্লাস হয়েছে। এক্ষেত্রেও বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীরা বঞ্চিত হয়েছেন প্রযুক্তিগত অসুবিধার কারণে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায় ভাবে ইলেকট্রিক ফি – ৮০ টাকা, লাইব্রেরী ফি – ২০০ টাকা, ল্যাবরেটরি ফি – ৪৫০ টাকা ( বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন রকম), এন এ এ সি ফি- ৫০ টাকা, অডিটোরিয়াম ফি-৫০ টাকা, কম্পিউটার ফি – ৮০ টাকা, কলেজ ডেভলপমেন্ট ফি – ২০০ টাকা, জেনারেটর ফি- ২৫ টাকা, ওয়াটার ফি-৬০ টাকা, ইউনিয়ন ফি – ৬০ টাকা সহ নানা অজুহাতে টাকা নিচ্ছে। বাস্তবে যেগুলো ছাত্র-ছাত্রীরা লকডাউন এর কারণে এই সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবাগুলি পায়নি। অথচ আমাদেরকে সেই সমস্ত ফিস দিতে হবে কেন? এই অবস্থায় আমরা এই অনৈতিক ফি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।’

ডিএসও জেলা সম্পাদক বিকাশ রঞ্জন কুমার বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ মানবিক ভাবেই যেখানে এই সমস্ত ফি মকুব করা উচিত ছিল সেখানে অমানবিকভাবে যে পরিষেবা ছাত্রীরা পায়নি সেই সমস্ত ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা নিচ্ছে। অবিলম্বে এই অন্যায় সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। জেলার কোন কলেজের ক্ষেত্রেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে কোনও সেমিস্টারে ফি নেওয়া চলবে না। এছাড়া ভর্তির জন্য সময়সীমা বাড়াতে হবে। ছাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি ফি অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় জেলাজুড়ে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব।’

Related Articles

Back to top button
Close