fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনার জেরে রথযাত্রায় নেই মেলা, চেনা অনুষঙ্গ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: শেষমেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালত শর্তসাপেক্ষে পুরীর রথযাত্রার অনুমতি দিলেও শতাব্দী প্রাচীন মাহেশের রথের ঢাকা ঘুরছে না, ইসকনের রথযাত্রাও স্থগিত। আরও ছোট বড়ো রথযাত্রা এবার হচ্ছে না। ফলে রথের দিনের চেনা অনুষঙ্গ মেলাটাই এবার নেই। আর এসবের মূলে করোনা নামের অতিমারী।

এই প্রথমবার শহর কলকাতায় বসবে না রথের মেলা। রথযাত্রাটাই হবে না যে। অথচ এই রথযাত্রা ঘিরে কত স্মৃতি , পাপরভাজা, জিলিপি, রথের ভেঁপু। উত্তর কলকাতার হাতিবাগানে আসে যশোমাধবের রথ। রথের থাকতেন শ্রীবিষ্ণু, রূপোর চালঢিত্রে চতুর্ভুজ দারুমূর্তি। আর একটি নজরকাড়া রথ আসে দেশবন্ধু পার্কে। রথের জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার, সামনে নাড়ু হাতে গোপাল ঠাকুর। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীদের কাশিপুরের বাডি থেকেও ( এখন সশস্ত্র পুলিশের ব্যাটেলিয়ান) রথ আসে চুনিবাবুর বাজারের কাছে । বিটি রোডের দুধারে মেলা বসে। মৌলালিতে রথের মেলায় এখনও হরেক রকম পাখি পাওয়া যায়।

আদতে শিয়ালদা স্টেশন এখন যেখানে সেখানে আগে হতো শেঠেদের রথযাত্রা , মেলা। পরে সেই মেলাই মৌলালিতে সরে এসেছে। আর কামারহাটির কাছে রথতলার নামই হয়েছে রথের মেলাকে কেন্দ্র করে। এখানে নানা জাতের ফুল কিনতে ভিড় করেন মানুষ। এবার কোথাও বসবে না মেলা, আসবেন না উৎসব মুখর মানুষ। তবে সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো সুলতানি আমল থেকে চলে আসা মাহেশের রথযাত্রা এবার বন্ধ। ৬২৪ বছরে প্রথমবার রথের রশিতে পড়বে না টান। যে রথযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে অনেক কিংবদন্তি। ইসকনের রথযাত্রাও এবার স্থগিত। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে ভার্চুয়াল রথযাত্রার ব্যবস্থা করেছেন ইসকন।

আরও পড়ুন: করোনা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে অনিয়মের প্রশ্নও তুলবেন দিলীপ

রথের মেলার কথায় মনে পড়বেই এক অমর উপন্যাসের কথা। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘ রাধারাণী’। অন্ধ মেয়েটি রথের মেলায় ফুল বেচতে এসে দুর্যোগে পড়ে পথ হারিয়েছিল। তারপরের মিস্টি রোমান্সের গল্পটাতো সবার জানা। এমন অনেক রথের মেলা হয়তো এমন অনেক মিস্টি সম্পর্কের জন্ম দিয়েছে। বইয়ের পাতায় লেখা হয়নি এই যা।আপাতত এবারের রথযাত্রা স্মৃতি রোমন্থনের। একটা বছরের শবরীর প্রতীক্ষা আর একটা রথের মেলার জন্য।

Related Articles

Back to top button
Close