fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আতিমারির কারণে দুর্গা বন্দনায় ভিড় এড়াতে কড়াকড়ি বর্ধমানে

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: করোনা অতিমারির মধ্যেই এবছর দুর্গোৎসবের ঢাকে কাঠি পড়েছে । আজ মহা সপ্তমি। হাইকোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই পূর্ব বর্ধমানের পুজো উদ্যোগতারা পুজোর আয়োজন করেছেন । শহর বর্ধমান হোক কিংবা মফস্বল সর্বত্রই প্রতিমা দর্শন থেকে শুরু করে পুজো মণ্ডপে প্রবেশ নিয়ে বিধি নিষেধ বলবত করা হয়েছে । মাস্ক পরিহিত হয়ে থাকলে এবছর দুর্গোৎসবের দিন গুলিতে মিলবে ঘোরা ফেরার ছাড় ।এইসব কিছু মানতে গিয়ে পুজো আয়োজক থেকে শুরু করে দর্শনার্থী সকলেই দিশেহারা । তবুও বাঙালির উচ্ছাসের অন্ত নেই ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সপ্তাহকাল আগে পূর্ব বর্ধমানের সাতটি নামি পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন।বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর মোড়ের লাল্টু স্মৃতি সংঘ, ছিন্নমস্তা মন্দিরের পাশে সবুজ সংঘের পুজোর উদ্ধোধন হয় মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে ।ওই দিন শহরে পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা শাসক বিজয় ভারতী ও পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান কর্তারা উপস্থিত থাকেন ।

একই দিনে মেমারির সারদাপল্লী অরবিন্দপল্লী পুজো কমিটির পুজো,বড়শুলের জাগরনী ক্লাবের পুজো,কালনার মহকুমার পুরাতন বাসস্ট্যাণ্ড বারোয়ারী ব্যবসায়ী সমিতির পুজো ও নসরতপুর ইন্দ্রপল্লী বারোয়ারী পুজো ও কাটোয়ার নবদয় সার্বজনীন পুজোর উদ্ধোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী ।প্রশাসনিক নিয়ম মানার পাশাপাশি পাশাপাশি স্বাস্থবিধি মেনে পোজোর যাবতীয় আয়োজনের বার্তা দেন জেলা প্রসাসনের কর্তারা ।

কোনও অশুভ শক্তি পুজোর আনন্দ বানচাল করতে পারে এমন আশঙ্কা আবার তৈরি হয়েছে খোদ জেলা পুলিশ মহলে। তাই পুজো আয়োজক কর্তাদের রাত জেগে মণ্ডপ পাহারা দেবার ফরমান জারি করছে জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় । একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন,কিছু কিছু শক্তি ও কুচক্রী সক্রিয় তাই আমাদের সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে,যাতে করে সম্প্রতির বাতাবরণ যেন নষ্ট না হয়। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে কিভাবে পুজোর আয়োজন করতে হবে  সেই বিষয়টি পুজো উদ্যোগতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে । পুজো প্যাণ্ডেলে ভিড় না করা, মাস্ক ব্যবহার করা, মণ্ডপ জীবাণুমুক্ত করা সহএকাধিক বিষয়ে মনে চলার কথা পুজো উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুজোর দিনগুলির জন্য প্রশাসনের তরফে হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরও হেল্পলাইন চালু করেছে। কোভিড, পুজো এবং আইন শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত সরকারী কর্মীদের পুজোর ছুটি বাতিল করেছে প্রশাসন। হাই কোর্টের নির্দেশ ও কোভিড বিধি মেনে পুজোর আয়োজন করতে হওয়ায় বর্ধমানের আদি অধিষ্টাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এবছর সধারণের প্রবেশে নিষেধাঞ্জা জারি করা হয়েছে । দেবী সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু হয় প্রতিপদে। পুজো চলবে নবমী অর্থাৎ নবরাত্রি অবধি।রাজার আমল থেকে চলে আসা প্রথায় কোন লাগাম টানা হয়নি বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার পুজোয়।তবে”স্বাস্থ্য আগে; শাস্ত্র পরে” এই মূলমন্ত্রকে এবছর মেনে চলা হচ্ছে । সবার আগে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজো হচ্ছে বর্ধমানের মঙ্গলাবাড়িতে।

পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন আর জনপ্রিয় মন্দির দেবী সর্বমঙ্গলার। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক উপকথা।চুনুরী বাড়ির মেয়েরা মায়ের পাষাণ প্রতিমায় গুগলী থেতো করতেন । স্বপ্নাদেশ মেনে মাকে এই প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। যা পেয়েছে হেরিটেজের মর্যাদা। মন্দির সংস্কার হয়েছে।।দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা। সারাবছর বিরাজ করেন তিনি।সব কটি উৎসব রাজ-আমল থেকেই মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে।পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবী আরাধানা হয়। আগে মহিষ ও পাঠা বলি হত।

 

পূর্বতন জেলাশাসক এর উদ্যোগে এখন বলি বন্ধ। আগে কামান ফাটানো হতো সন্ধিপুজোর মহালগ্নে। ১৯৯৭ এ কামান বিস্ফোরণের পর থেকে তাও বন্ধ। তবু পুজোর পাঁচদিন এখানে তিলধারণের জায়গা থাকেনা। হাজারে হাজারে ভক্ত সমবেত হন। মাছের টক সহ নানা উপাচারে মায়ের ভোগ হয়। মালসাভোগ নিতে ভক্তরা ভিড় করেন।নবমীতে কয়েকহাজার মানুষকে বিনাশুল্কে ভোগ বিতরণ করা হয়।এবারে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর মন্দির খুলেছে। জনসমাগম খুব কম। পুজোর আগে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাকে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভক্তরা সঙ্কটে।মায়ের অর্থাগম কম। তাই ভাড়ারে টান পড়েছে মায়েরও।

প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য জানান, ১৭অক্টোবর বিধি অনুসারে ঘটোত্তলন হয় রাজার প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণসায়রে। ঘট প্রতিষ্ঠার পর থেকেই  রাঢ়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর আরাধান শুরু হয়েগেছে ।পুরোহীত বলেন ,শাস্ত্রের বিধানের পাশাপাশি তাঁরা স্বাস্থবিধির নিদান মেনে চলতে চান । গোল দাগের মধ্য থেকে দুরত্ব মেনে পুজো দেওয়া যাবে। নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের হাতে ডালা দিতে হবে। স্যানিটাইজেশন করা হবে। ভোগ সীমিত সংখ্যায় বিতরণ হবে আর মাস্ক কিন্তু মাস্ট।এত বিধিনিষেধ নিয়ে যদিও অখুশি সর্বমঙ্গলার ভক্তরা।

Related Articles

Back to top button
Close