fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার জেরে এবার জামাইষষ্ঠী বন্ধ সবংয়ের গ্রামে

শান্তনু অধিকারী, সবং: দেশজুড়ে চলছে চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউন। কিন্তু এর‌ই মধ্যে বহুক্ষেত্রেই শিথিল হয়েছে লকডাউনের বিধিনিষেধ। খুলে গিয়েছে প্রায় সবরকমের‌ই দোকানপাট। চলছে দেদার বিকিকিনি। রাস্তাঘাটে ক্রমশ বাড়ছে বাইরমুখী মানুষের ভিড়। অথচ সারা রাজ্যেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বেড়ে চলেছে মৃত্যুর ঘটনাও। ভিনরাজ্যে আটক পরিযায়ী শ্রমিকরাও একে একে ফিরতে শুরু করেছেন নিজেদের গ্রামে। ফলে ক্রমশ‌ই তীব্রতর হচ্ছে করোনা আশঙ্কা। তাসত্ত্বেও আজ বেপরোয়া জনজীবন। সমগ্র সবংয়ের চিত্রটাই এই মুহূর্তে কার্যত ঢিলেঢালা। প্রায় সর্বত্রই আগল ভেঙেছে লকডাউনের।

এর‌ইমধ্যে নজির গড়লেন সবংয়ের ৫নং অঞ্চলের চাঁদাগোবরা গ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামে প্রায় একশোটি পরিবারের বাস। গ্রামবাসীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এবার এই গ্রামে কোন‌ও বাড়িতেই হচ্ছে না জামাইষষ্ঠী। গ্রামের অজিত দাস, সনাতন দাস, পূর্ণ বেরা, শচীন্দ্রনাথ মণ্ডলরা জানালেন― এই করোনার আবহে জামাইষষ্ঠীর মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া এর‌ইমধ্যে ব্যাঙ্গালোর, মহারাষ্ট্র, গোয়া প্রভৃতি রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন গ্রামের ছেলেরা। তাই গ্রামের সবাই দলমত নির্বিশেষে এই অনুষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফলে এবার গ্রামের কোন‌ও মেয়ে-জামাই ষষ্ঠীর আমন্ত্রণ পাননি। ছেদ পড়েছে চিরকালীন ঐতিহ্যে। তাই বেজায় মনখারাপ গ্রামের শাশুড়িকূলের। যেমন বছর পঞ্চাশের সুভদ্রা পাল। বেশ কয়েক বছর হল মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের রাতুলিয়ায়। ফিবছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন তিনি। কিন্তু এবছর মেয়ে-জামাইকে ডাকার উপায় নেই। তবে পরিস্থিতিটি তিনিও বুঝেছেন। তাই বললেন, ‘মন তো একটু খারাপ হয়েছেই। তবে আগে করোনা ঠেকানোটাই জরুরি। মেয়ে-জামাইকে আপ্যায়নের আবার সুযোগ পাব।’ এক‌ই বক্তব্য গ্রামের আরেক শাশুড়ি কৃষ্ণা দাসের‌ও।

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সৎসঙ্গ দিল এক লক্ষ টাকা

সবংয়ের অন্যান্য গ্রামগুলোতে কিন্তু যথারীতি শুরু হয়েছে ষষ্ঠীর তোড়জোড়। ঘরে ঘরে পড়তে শুরু করেছে জামাইদের পদধূলি। এবার ষষ্ঠীর দিনটি পড়েছে বৃহস্পতিবার। গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ পরিবার এই দিনটিকে আজ‌ও লক্ষ্মীবার হিসেবে মেনে চলেন। মেনে চলেন এইদিনটিতে নিরামিষ খাওয়ার রীতিটিও। কিন্তু জামা‌ইষষ্ঠীতে নিরামিষ! নৈব নৈব চ! তাই অনেক বাড়িতেই আনুষ্ঠানিকতাটুকু বৃহস্পতিবারের জন্য রেখে বুধবারেই সাঙ্গ হয়েছে ষষ্ঠীর খানাপিনা। এভাবেই ঐতিহ্যে সাময়িক বিরতি দিয়ে করোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের বার্তা দিল চাঁদাগোবরার বাসিন্দারা।

দুর্যোগ আসবে যাবে। তাই বলে উৎসব বন্ধ থাকে নাকি! এই মনোভাভটিকেই শিরোধার্য করে প্রায় সারা বাংলাই আজ করোনার আতঙ্ককে পাশ কাটিয়েছে। সবংয়ের চাঁদকুড়ির বাসিন্দা শিক্ষক পলাশ মান্না এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন ‘বর্তমানের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে চাঁদাগোবরার মানুষজন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যথেষ্ট ইতিবাচক। প্রশংসনীয়‌, এক‌ইসঙ্গে শিক্ষণীয় বটে!’

Related Articles

Back to top button
Close