fbpx
দেশহেডলাইন

মর্মান্তিক, মদ না পেয়ে স্যানিটাইজার খেয়ে মৃত্যু ৯ জনের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: গোটা বিশ্বে করোনা নিজের ত্রাস সৃষ্টি করেছে। ভারত এই মারণ ভাইরাসের থাবা থেকে রেহাই পায়নি। দিনদিন বেড়েই চলেছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। এদিক বহু জায়গায় সংক্রমণের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে রাজ্য প্রশাসন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এক-এক দিনে প্রায় ১০ হাজার করে করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। লকডাউনের জেরে বহু জায়গায় মিলছে না নেশার সরঞ্জাম। এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মদ না পেয়ে স্যানিটাইজার খেয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার কুরিচেড়ু গ্রামে।

জানা গিয়েছে, গত দুদিনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার খেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবার রাতে একজনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার রাতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শুক্রবার সকালে আরও ছয়জন মারা গিয়েছেন বলে খবর। মৃতদের মধ্যে তিনজন ভিক্ষুক এবং বাকিরা স্থানীয় একটি ঝুপড়ির বাসিন্দা। গত দুদিনে প্রায় ২০ জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার খেয়েছিলেন মদের অভাবে। কুরিচেড়ু ও শহরের সংলগ্ন এলাকায় গত ১০ দিন ধরে লকডাউন ছিল। লকডাউনে বন্ধ ছিল সমস্ত মদের দোকান। উল্লেখ্য, অন্ধ্র সরকার দীর্ঘ লকডাউনের পর গত ৪ মে মদের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর পর রাজ্যের বিভিন্ন মদের দোকানগুলিতে দেখা গিয়েছিল ক্রেতাদের ভিড়। যদিও সরকার মদের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং দোকানের সংখ্যাও কমিয়ে দিয়েছে। মৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৬৫-এর মধ্যে।

প্রকাশমের পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ কৌশল জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কুরিচেড়ু শহরে লকডাউন ছিল। এ কারণে মদ না পেয়ে ওই ব্যক্তিরা অ্যালকোহল বেসড হ্যান্ড স্যানিটাইজার খেয়েছিলেন। প্রথমে স্থানীয় দুর্গা মন্দির চত্বরের বাসিন্দা এক ভিক্ষুক পেটে অসহ্য জ্বলুনি অনুভব করেন। বুধবার রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও দুজনের তীব্র পেটে ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা দারসি শহরে সরকারি হাসপাতালে তাঁদের নিয়ে যান। তাঁরা বৃহস্পতিবার সেদিন রাতেই মারা যান।

আরও ছয়জনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে ওই ছয় জনের মৃত্যু হয়। কৌশল জানিয়েছেন, স্থানীয় দোকানগুলিকে থাকা সমস্ত স্যানিটাইজার ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মৃতরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিষাক্ত মদের সঙ্গে মিশিয়ে খেয়েছিলেন, কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত জুনে মেক্সিকোতেও এমনই ঘটনা শোনা গিয়েছিল। তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার খেয়ে এবং একজন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছিল, যে ওই হ্যান্ড স্যানিটাইজারগুলিতে মিথানল ছিল। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ব্যাপারটা এমন নয় যে স্যানিটাইজার খেলে বাঁচা অসম্ভব। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি লোকেরা হাসপাতালে আসবে, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। মিথানলের অতিরিক্ত মাত্রার সংস্পর্শে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি এমনকী মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

Related Articles

Back to top button
Close