fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের জেরে ক্যামেরা ছেড়ে ফুটপাতে ফল বিক্রি করছেন রায়গঞ্জের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জঃ একটা সময় যে হাতে ক্যামেরা নিয়ে ভিভিআইপিদের ছবি তুলেছেন,ঘটনাবলীর কোলাজ চিত্র পাঠাতেন সংবাদপত্রে, আজ সংসার প্রতিপালন করতে সেই হাতেই ধরতে হয়েছে দাঁড়িপাল্লা। করোনা লকডাউন প্রখ্যাত ফটোগ্রাফারকে বানিয়ে দিয়েছে ফুটপাতের ফল বিক্রেতা। রায়গঞ্জ শহরের এক খ্যাতনামা স্টুডিওর কর্ণধার বিকাশ সরকার এখন তারই স্টুডিওর সামনে রাস্তার ধারে বসে ফল বিক্রি করে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। ফটো শিল্পের ব্যাবসা করে সঞ্চিত যা অর্থ ছিল তা লক ডাউনের প্রথম মাসেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় সাতজনের পরিবারের অন্ন জোগাতে ফুটপাতে ফল বিক্রি করছেন বিকাশ বাবু। তার এই অসহায় পরিনতিতে মন খারাপ অনুগামীদের।

 

 

উল্লেখ্য প্রায় ৪২ বছর ধরে রায়গঞ্জ তথা উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে ফটোগ্রাফির ব্যাবসা চালিয়ে আসছিলেন উদয়পুরের বাসিন্দা প্রখ্যাত আলোকশিল্পী বিকাশ সরকার। এরমধ্যে প্রায় ২৫ বছর চিত্র সাংবাদিকতার কাজও করেছেন সত্যযুগ,ওভারল্যান্ড,ভারতকথা,যুগান্তর,আজকাল, দৈনিক বসুমতী পত্রিকায়। ইন্দিরা গান্ধী থেকে অটল বিহারী বাজপেয়ী, জ্যোতি বসু থেকে লালকৃষ্ণ আদবানির ছবি ফ্রেমবন্দী করেছেন অবলীলায়। ধীরে ধীরে ডিজিটাল যুগের পরিবর্তনে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের হাত ধরে লুপ্তপ্রায় হতে বসেছে স্টুডিওর ফটোগ্রাফির ব্যাবসা। অবশিষ্ট সঞ্চয় যতটুকুও ছিল তা দিয়ে দুই মেয়ে সহ সাতজনের সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন রায়গঞ্জের উদয়পুরের বাসিন্দা স্টুডিও ফটোগ্রাফ শিল্পী বিকাশ সরকার। কিন্তু আচমকাই দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের কারনে লকডাউন তাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে।

 

 

ক্যামেরার বদলে দাড়িপাল্লা হাতে নিয়ে রাস্তার ধারে ফুটপাতে বিক্রি করছেন আপেল, আঙুর, বেদানা, মৌসুম্বির মতো ফল। বহু মানুষ বিকাশবাবুর কাছে কাজ শিখেছেন, বিকাশবাবুর বহু কাজের অভিজ্ঞতার ইতিহাস রায়গঞ্জ তথা জেলার মানুষের কাছে আজও জ্বলজ্বল করছে। তাকে আজ এভাবে দেখে মনখারাপ অনুগামীদের। বিকাশ বাবু বলেন,” দীর্ঘ পঁচিশ বছর বিভিন্ন সংবাদপত্রে আলোকচিত্রীর কাজ করেছি। লকডাউনের ফলে সঞ্চিত অর্থ শেষ। স্টুডিওর ব্যবসাও বন্ধ। বাধ্য হয়েই সংসার চালাতে ফুটপাতে ফলের দোকান দিয়েছি।

Related Articles

Back to top button
Close