fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে বিপত্তি, পায়ে হেঁটে কোচবিহার থেকে দিনহাটা ফিরলেন আতর আলী ও তাঁর পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনা আবহের মধ্যেই স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে মাসখানেক আগে দক্ষিণ দিনাজপুরে মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন দিনহাটার গ্রামের আতর আলী। বুধবার মেয়ের বাড়ি থেকে দিনহাটায় ফেরার পথেই চারদিনের লকডাউন এর প্রথম দিনই বিপত্তিতে পড়ে আতর আলী ও তার পরিবার।

মেয়ে আসলিমা বিবিকে সঙ্গে নিয়ে এদিন সকালে কোচবিহারে নামতেই কোনওরকম গাড়ি না চালাই শুরু হয় তার বিপত্তি।কোচবিহার থেকে পায়ে হেঁটে তাদের ফিরতে হয় দিনহাটার গ্রামের বাড়িতে। বছরখানেক আগেই বিয়ে হয়েছে মেয়ে আখলিমার। অনেকদিন বাপের বাড়িতে আসেন না। তাই এক দিকে ঘুরতে অন্যদিকে মেয়েকে আনতে মাসখানেক আগেই সেখানে গিয়েছিলেন তারা।

 

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কোচবিহারে ক্রমেই বেড়ে চলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংক্রমণকে প্রতিহত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারদিনের লকডাউন শুরু হতেই বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের যান চলাচল। লকডাউনের প্রথম দিনই কোচবিহারে নামতেই দিনহাটা আসার জন্য কোন গাড়ি না পেয়ে উপায়ন্তর না দেখে ৮ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই কোচবিহার থেকে পায়ে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন আতর আলী ও তার পরিবার।

দিনহাটার বড় আটিয়াবাড়ী ঝুড়িপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। আতর আলী বলেন এদিন সকালে কোচবিহার বাসস্ট্যান্ডে নামার পর দেখেন কোনরকম গাড়ি চলাচল করছে না। নানাভাবে চেষ্টা করেও গাড়ি না মেলায় ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে রওনা হন। আতর আলী বলেন এভাবে হেঁটে আসতে হবে বুঝতে পারেননি। তারা হেঁটে এলেও ছোট ছেলে মোস্তফা কেউ কখনো কখনো হাঁটতে হয় তাদের সাথে। মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন করোনা ভাইরাসের ফলে সেখানে আটকে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বাসে করে রওনা হন। মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য আনন্দ থাকলেও তীব্র তাপদাহের মধ্যে কোচবিহার থেকে হেঁটে আসা খুবই কষ্টকর। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে তারা বাড়িতে যাচ্ছেন। ফের দ্বিতীয় দফায় কোচবিহারে লকডাউন শুরু হওয়ার কথা না জানতে পারায় তিনি পরিবারের সকলকে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। আগে জানলে তিনি আরো কয়েকদিন দেরী করেই রওনা হতেন বলে জানান।

কোচবিহারে নামার পর গাড়ি না থাকায় তাকে সমস্যায় পড়তে। ছোট্ট ছেলে মোস্তফা কিছুটা হেঁটে ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন বলেও জানান। এছাড়াও তিনি তার স্ত্রী ও মেয়ে রাস্তায় বেশ কয়েকবার বিশ্রাম নেন। একদিকে গরম অন্যদিকে তীব্র তাপদাহ এই দুইয়ে পায়ে হেঁটে কোচবিহার থেকে আসা সত্যিই দুষ্কর হয়ে ওঠে।

 

আতর আলীর স্ত্রী ছাকিনা বিবি বলেন, ছয় বছরের ছেলে মোস্তফা কখনো পায়ে হেঁটে আবার কখনো তাদের দুইজনের কোলে উঠে দিনহাটায় পৌঁছান। সকাল আটটা নাগাদ কোচবিহার থেকে তারা রওনা হন। বেলা একটা নাগাদ দিনহাটা শহরে পৌঁছান। ঝুড়িপাড়া গ্রামে যেতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। লকডাউনের কথা আগে জানলে তারা মেয়ের বাড়ি থেকে রওনা হতেন না বলেও জানান।

Related Articles

Back to top button
Close